১৯ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সংস্কারের পথে উজবেকিস্তান

মধ্য এশিয়ার সবচেয়ে জনবহুল দেশ উজবেকিস্তান সংস্কারের পথে পা বাড়িয়েছে। যে অঞ্চলটি রাষ্ট্রের প্রাধান্যপুষ্ট, আমলাতান্ত্রিক ও দুর্নীতি জর্জরিত অথর্নীতিতে পরিপূর্ণ সেখানে উজবেকিস্তানের সংস্কারের পথে যাত্রা নিঃসন্দেহে এক বৈপ্লবিক ঘটনা। সোয়া তিন কোটি লোকের এই দেশটির অর্থনীতি এই সেদিন পর্যন্ত ছিল সবচেয়ে স্থবির ও পীড়নমূলক। রাতারাতি এটি সংস্কারের দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে।

১৯৯১ সালে উজবেকিস্তান সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীন হয়। তখন থেকে ইসলাম করিমভ দেশটিকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। তবে তিনি সোভিয়েত আমলের সব ধরনের অর্থনৈতিক নীতি অটুট রাখেন শিল্প ও কৃষিতে রাষ্ট্রের সুবিশাল প্রাধান্য আগের মতোই থাকে। তার সঙ্গে তিনি আরেকটা জিনিসও যোগ করেন। তা হলো রাষ্ট্রের চোখে গ্রাস করে নেয়ার উপযুক্ত মনে হলে যে কোন ব্যক্তিমালানাধীন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে যখন তখন হঠাৎ করেই রাষ্ট্রের দখলে নিয়ে নেয়া।

২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে করিমভের স্থলাভিষিক্ত হন শাফকাত মিরজিও ইয়েভ। তিনি ১৩ বছর করিমভের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছিলেন। তিনি যে অর্থনীতির চেহারা তেমন একটা বদলাতে পারবেন তা কেউ আশা করেনি। কিন্তু ক্ষমতায় এসেই তিনি অর্থনীতি ঢেলে সাজানোর উদোগ নেন। সেই সঙ্গে সীমিত রাজনৈতিক সংস্কার চালু করেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটা প্রেসিডেন্ট শাফকাত করেন, তা হলো বেসরকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রসকারী কর্মকর্তাদের নাক গলানো ও নজরদারি তিন বছর বন্ধ থাকবে। এ সময় ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ভয়ে নিশ্চিন্তে তাদের ব্যবসা চালাতে পারবে। কেউ তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে পারবে না।

শাফকাত মুদ্রার মূল্যমান বেশ খানিকটা কমিয়েছেন যা আগে স্ফীত রাখা হয়েছিল ‘সোম’ নামক এই রাষ্ট্রীয় মুদ্রার সরকারী দাম ও কালোবাজারের দাম এখন এক হয়েছে। রফতানিকারকদের এখন আর তাদের বৈদেশিক মুদ্রার আয়ের এক-চতুর্থাংশ সরকারের কাছে বিক্রি করতে হয় না। এটা সীমান্ত পথে বাণিজ্যের জন্যই শুধু নয়, সাধারণ উজবেকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কেননা অতীতে ডলার ও পাউন্ডের ঘাটতির কারণে স্থানীয় নগদ অর্থেরও ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছিল। কারণ ব্যবসায়ী বা স্থানীয় নোট মজুদ করত এবং তা দিয়ে তারা কালোবাজার থেকে ডলার কিনত। এতে করে পেনশনভোগী ও বেতনভুক্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের মাসিক ব্যাংক ট্রান্সফারের অর্থ ভাঙাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হতো।

এখন সরকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সীমান্ত পথে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ দেয়ায় তারা আগের রুদ্ধ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে পণ্যসামগ্রী নিয়ে যাচ্ছে। ফলে উজবেকিস্তান, কিরঘিজস্তান ও তাজিকিস্তান যে জায়গায় একত্রে মিলিত হয়েছে সেই ফারগানা উপত্যকায় কুটির শিল্পগুলোর ব্যাপক প্রসার ঘটবে। সরকার ২৫ বছরের মধ্যে এই প্রথম তাসখন্দ ও তাজিকিস্তানের দুঃশাসনের মধ্যে বিমান চলাচল অনুমোদন করেছে। ‘কানেকটি ভিটি’ বা ‘যোগাযোগ’ কথাটা এখন সরকারের আপ্তবাক্যে পরিণত হয়েছে সম্প্রতি উজবেক সরকার আঞ্চলিক অবকাঠামোর উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রসারের ওপর এক সম্মেলনের আয়োজন করে। মুক্তদ্বার নীতি গ্রহণের ফলে উজবেকরা ইতোমধ্যে সুফল পেতে শুরু করেছে। মধ্য এশিয়ার বাকি দেশগুলোর সঙ্গে উজবেকিস্তানের বাণিজ্য ২০১৭ সালের পর থেকে অর্ধেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রণীত ব্যবসায় র‌্যাঙ্কিংয়ে ২০১২ সালে উজবেকিস্তানের স্থান ছিল ১৬৬, সেখান থেকে দেশটি লাফ মেরে এ বছর ৭৬ নম্বরে উঠে এসেছে। সরকার করবিধি সহজতর করায় ঘুষের পরিবর্তে সরকারের আয় বেড়েছে। শেষ অবধি ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দেয়ার লক্ষ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। বিমানবন্দর ও রাষ্ট্রায়ত্ত এয়ারলাইন্স পৃথক করা হচ্ছে। তেমনি পৃথক করা হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা। তাসখন্দে এখন এক আশাবাদের আবহ বিরাজমান। বিনিয়োগ পরিবেশের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে আগে বিনিয়োগের নিয়মকানুন বোঝা খুবই কঠিন ছিল। এখন অনেক সহজ ও সুষ্ঠু হয়েছে ব্যবসায় এবং শিল্পোদ্যোক্তারা উৎসাহ নিয়ে বলছে যে সংস্কার ব্যবসার জন্য দারুণ সহায়ক হয়েছে।

চলমান ডেস্ক

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট