১৯ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সান্ত্বনার জয় নিয়েই ফিরছে যুব ফুটবল দল

  • এএফসি অনুর্ধ-২৩ বাছাইপর্ব

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ এএফসি অনুর্ধ-২৩ চ্যাম্পিয়নশিপ বাছাইপর্বের এই আসর শুরু ২০১২ সাল থেকে। কিন্তু বাংলাদেশ কখনই গ্রুপ পর্ব পেরুতে পারেনি। আগের ১০ ম্যাচ খেলে একটিতেও জয় পায়নি। ২০১৫ সালে ভারতের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করতে পারাই এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের বড় সাফল্য। মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পারলে এই টুর্নামেন্টে প্রথম জয়ের ইতিহাস রচনা করার সুযোগ ছিল। বাহরাইনের ইসা টাউনের খলিফা স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কাকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেই সুযোগ হাতছাড়া করেনি বাংলার যুবারা। ‘বি’ গ্রুপের এই ম্যাচে বাংলাদেশের প্রথম গোল করেন বিপলু আহমেদ (৫ মিনিটে)। ১৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন টুটুল হোসেন বাদশা। পুরো ম্যাচেই দাপটের সঙ্গে খেলে বাংলাদেশ।

৩ ম্যাচে ১ জয় ও ২ হারে ৩ পয়েন্ট ও তৃতীয় স্থান নিয়ে মিশন শেষ করল মাসুক মিয়া জনিরা। পক্ষান্তরে ‘বি’ গ্রুপে শ্রীলঙ্কা ৩ ম্যাচের প্রতিটিতেই হেরে শূন্য হাতে আসর শেষ করল। আগের দুই ম্যাচে তারা ৯-০ গোলে হারে বাহরাইন ও ফিলিস্তিনের কাছে। অন্যদিকে এই দু’দলের কাছেই বাংলাদেশ হারে ১-০ গোলের ব্যবধানে। সার্বিকভাবে এই আসরে বাংলাদেশের জন্য এটিই প্রথম জয়। একাদশ ম্যাচে এসে অবশেষে অধরা জয় কুড়িয়ে নিতে সক্ষম হলো তারা।

সবচেয়ে বড় কথাÑ স্বাধীনতা দিবসে ‘প্রথম’ জয়, কিছুটা তৃপ্তি নিয়ে দেশে ফিরতে পারছেন জেমি ডের শিষ্যরা। আগের আসরগুলোর ব্যর্থতার চেয়ে এবারের ব্যর্থতার আকাশ-পাতাল তফাত আছে লাল-সবুজদের। আগের আসরগুলো তারা অসহায় আত্মসমর্পণ করে বিদায় নিয়েছিল। অথচ এবার বিদায় নিলেও লড়াই করে হারে প্রথম দুই ম্যাচে। হারার আগে হার না মানার যে মানসিকতার বীজ শিষ্যদের মধ্যে বুনে দিয়েছেন কোচ জেমি ডে তা অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। বাহরাইন ও ফিলিস্তিনের কাছে লড়াকু হারই তার প্রমাণ। এই দুই ম্যাচ এবং সাম্প্রতিক সময়ে খেলা প্রস্তুতি ম্যাচগুলো প্রমাণ করছে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের ফুটবল। আত্মবিশ্বাসে ভর করে এএফসি অনুর্ধ-২৩ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম জয়টায় নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন সুফিল-মতিন মিয়ারা।

উল্লেখ্য, এশিয়ার ৪৭ দেশের মধ্যে পাকিস্তান, ভুটান, গুয়াম ও নর্দান মারিয়ানা ছাড়া সবাই অংশ নিচ্ছে অলিম্পিক ফুটবলের বাছাইয়ে। ১১ গ্রুপে ভাগ হয়ে বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন, সেরা ৪ রানার্সআপ দল ও আয়োজক থাইল্যান্ড খেলবে চূড়ান্ত পর্বে। আগামী বছর ৮-২৬ জানুয়ারি থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে চূড়ান্ত পর্ব। সেখান থেকে শীর্ষ তিনটি দল পাবে টোকিও অলিম্পিকের ছাড়পত্র।

বাহরাইন যাওয়ার আগে কম্বোডিয়াকে হারানো ম্যাচের জাতীয় দলের ১১ খেলোয়াড় ছিলেন অলিম্পিক দলে। কাতারে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে যুবারা ১-০ গোলে হারায় আল-শাহানিয়াকে ও১-১ গোলে ড্র করে আল-এ্যারাবিয়ার সঙ্গে।