১৮ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দরপতনে বেসামাল শেয়ারবাজার

দরপতনে বেসামাল শেয়ারবাজার

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ তারল্য সংকটের কারণে শেয়ারবাজারে চলছে টানা পতন। টানা পতনে বেসামাল হয়ে পড়েছে দেশের শেয়ারবাজার। মঙ্গলবারও উভয় শেয়ারবাজারের সব সূচক কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে টাকার পরিমাণে লেনদেন এবং লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর কমেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, শেয়ারবাজারে তারল্য সংকটের কারণেই এমন ঘটছে। আরও পতন ঘটতে পারে এমন আশঙ্কায় বড় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও দূরে সরে রয়েছে। এমনকি অতীতে দরপতনের সময় রাষ্ট্রায়ত্ব বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) ক্রেতার ভূমিকায় ছিল। এবার আইসিবির কোন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এক কথায় অভিভাবকশূণ্য হয়ে পড়েছে শেয়ারবাজার।

নতুন নির্বাচনের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে আশার আলো দেখা গিয়েছিল, সেটি এখন মিলিয়ে গেছে। বেশিরভাগ ব্রোকারেজ হাউসের বিনিয়োগকারী শূণ্য পড়ে রয়েছে বসার চেয়ারগুলো। স্টক একচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড একচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নিশ্চুপ দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

জানা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩১৮ পয়েন্টে। যা ৩ মাস ১৫ দিন বা ৬৭ কার্যদিবসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর মঙ্গলবারের চেয়ে কমে অবস্থান করছিল ডিএসইএক্স। ওই দিন ডিএসইএক্স ছিল ৫ হাজার ৩০০ পয়েন্টে। অপর দুই সূচকের মধ্যে শরীয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট ও ডিএসই-৩০ সূচক ২৪ পয়েন্টে কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১২৩২ ও ১৯০০ পয়েন্টে।

ডিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ৩৬৫ কোটি ৯১ লাখ টাকার। যা আগের দিন থেকে ৫৩ কোটি টাকা কমে। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪১৮ কোটি টাকার।

এদিন ডিএসইতে ৩৪৭টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৫৭টির বা ১৬ শতাংশের, শেয়ার দর কমেছে ২৩১টির বা ৬৭ শতাংশের এবং শেয়ার দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৯টির বা ১৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের।

ডিএসইতে টাকার পরিমাণে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে এস্কয়্যার নিট কম্পোজিটের। কোম্পানিটির ৩২ কোটি ৮০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ২৩ কোটি ২৮ লাখ টাকার লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে ইউনাইটেড পাওয়ার এবং ২০ কোটি ৭০ লাখ টাকা লেনদেনে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে বৃটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো। সার্বিক লেনদেন উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে - ইস্টার্ন কেবলস, গ্রামীণফোন, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল, ফরচুন সুজ, মুন্নু সিরামিক, রেকিট বেনকিজার এবং স্কয়ার ফার্মা।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এদিন ১৬৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৩১৩ পয়েন্টে। এদিন সিএসইতে হাত বদল হওয়া ২৩৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ৫২টির, কমেছে ১৬২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টির দর। সিএসইতে ১৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

নির্বাচিত সংবাদ