০৯ এপ্রিল ২০১৯

তারল্য সংকট কাটাতে বন্ড ইস্যুর প্রস্তাব

তারল্য সংকট কাটাতে বন্ড ইস্যুর প্রস্তাব

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পুঁজিবাজারে চলমান তারল্য সংকট কাটাতে বন্ড ইস্যুর সুযোগ চেয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের যেসব সহযোগী প্রতিষ্ঠান মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারহাউজ হিসেবে বাজারে সক্রিয় রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠান যাতে সহজেই বন্ড ইস্যু করে তহবিল সংগ্রহ করতে পারে সে সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনের আগে শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ডিবিএ’র নেতারা বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

আস্থা সংকটের কারণে দেশের শেয়ারবাজারে সম্প্রতি টানা দরপতন দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র (ডিবিএ) সভাপতি শাকিল রিজভী। যা সমাধানে মানসম্মত প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আনতে হবে। এলক্ষে সেমিনারসহ বিভিন্ন উপায়ে ভালো কোম্পানি শেয়ারবাজারে আনতে ডিবিএ সহযোগিতা করবে। এছাড়া ভবিষ্যতে কেউ অসৎ উপায়ে আইপিও আনলে ডিবিএ সোচ্চার হবে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে শাকিল রিজভী বলেন, বৈঠকে দূর্বল আইপিও নিয়ে কথা হয়েছে। দূর্বল কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ার কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই বলে আইপিও বন্ধ করা যাবে না, অবশ্যই আইপিও আসতে হবে। সেই আইপিও হতে হবে মানসম্মত। যাতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্থ না হয়।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আইপিওতে মানসম্মত কোম্পানি আনার বিকল্প নেই। এই বিষয়টিকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ মানসম্মত আইপিও আসলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। এর ফলে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ বাড়বে।

এ সময় এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের শক্ত ভূমিকা থাকলে ভালো আইপিও আসবে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ভালো মানসম্মত কোম্পানি আনার ক্ষেত্রে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে অবশ্যই শক্ত ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি জানান, মঙ্গলবারে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে বাজার সংশ্লিষ্টদের বৈঠক রয়েছে। ওই বৈঠকে স্টক এক্সচেঞ্জের মতো আইপিও’র আগে প্রত্যেকটি কোম্পানির ড্রাফট প্রসপেক্টাস ডিবিএ’র কাছে দেয়ার দাবি জানানো হবে।

যাতে প্রসপেক্টাস পর্যালোচনা করে কোন সমস্যা পেলে ডিবিএ’র পক্ষ থেকে তা বিএসইসিকে অবহিত করা যায়। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে শাকিল রিজভী বলেন, ভবিষ্যতে কেউ অসৎ উপায়ে আইপিও আনলে ডিবিএ সোচ্চার হবে। ভালো কোম্পানি আসছে না বলে বাজারে ভালো বিনিয়োগকারী আসছে না। যাতে লেনদেনের পরিমাণ কমমে যাচ্ছে। আইপিও’র ক্ষেত্রে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিটিকে আরও ভালো করতে হবে।

সাম্প্রতি সময়ের দরপতনের কারণ হিসেবে ডিবিএ সভাপতি বলেন, আস্থা সংকটের কারণেই সাম্প্রতি সময়ে শেয়ারবাজারে টানা দরপতন দেখা দিয়েছে। এছাড়া ব্যাংকের সুদের হার বেড়ে যাওয়া, তারল্য সংকট, সঞ্চয়পত্রের সুদ হার বেশি থাকা, লভ্যাংশ হিসেবে অতিমাত্রায় বোনাস শেয়ার দেয়া শেয়ারবাজারের দরপতনে প্রভাব ফেলছে। এ সময় তিনি জানান, স্টক এক্সচেঞ্জের দুই কিলোমিটারের মধ্যে ব্রোকারেজ হাউজের সার্ভিস সেন্টার খোলার নিয়ম রয়েছে। চলতি বছরেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান কার্যলয় নিকুঞ্জে চলে যাবে। তাই ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে ব্রোকারেজ হাউসের সার্ভিস সেন্টার খোলার অনুমতি দেয়ার জন্য বিএসইসির কাছে দাবি জানানো হবে।