২০ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রমনা বটমূল হামলা : ১৮ বছরেও নিষ্পত্তি হয় নি

রমনা বটমূল হামলা  :  ১৮ বছরেও নিষ্পত্তি হয় নি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দীর্ঘ ১৮ বছরেও রমনা বটমুলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনায় করা দুটি মামলা ( হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইন) নিষ্পত্তি হয়নি। দুটি মামলার মধ্যে হত্যা মামলাটির রায় নিম্ন আদালত থেকে ঘোষণা করা হলেও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলাটির নিষ্পত্তি হয়নি। হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদন্ড নিশ্চিতকরণ) এবং আসামিদের আপীলের শুনানি হাইকোর্টে নিষ্পত্তি হয় নি।

মামলাটি শুনানির জন্য অপেক্ষমান রয়েছে। বিচারের দীর্ঘ সূত্রিতায় এ নিয়ে ক্ষোভও রয়েছে ভোক্তভোগীদের মধ্যে। তবে রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে ,দন্ডিত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপীল শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় রয়েছে। শীঘ্রই এ মামলার শুনানি শুরু হবে।

অন্যদিকে বোমা হামলার বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলাটি সাক্ষীর অভাবে ঝুলে আছে । এছাড়া বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে নারীদের ওপর শ্লীলতাহানীর ঘটনার চার বছর পার হলেও সাক্ষীর অভাবে অদ্যাবধি এর কোনো বিচার শুরু হয় নি। একমাত্র আসামির বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠন হলেও এখনও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় নি। রাষ্ট্রপক্ষ বলছে , সাক্ষী আনার দায়িত্ব পুলিশের।

হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের ডেপুটি এ্যটর্নি জেনারেল মো. মনিরুজ্জামান (রুবেল) জনকন্ঠকে বলেন, বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি এ,এস,এম আব্দুল মোবিন সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে মামলাটি কার্যতালিকায় রয়েছে। ২০১৪ সালের বিচারিক আদালতের রায় ঘোষণার পরে মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে। একইসঙ্গে জেল আপীল হয়।

পরে পেপারবুক প্রস্তত করে মামলাটি একটি বেঞ্চে ছিলো। ওই বেঞ্চের এখতিয়ার পরিবর্তন হওয়ায় উল্লেখিত বেঞ্চে কার্যতালিকায় আসে মামলাটি। মামলাটি শুনানির জন্য কার্যতালিকার টপের দিকে (শীর্ষে) রয়েছে। মামলাটি গত বৃহস্পতিবারও কার্যতালিকার ২৪ নম্বর ছিলো। এখন শুধু ক্রম অনুযায়ি শুনানির অপেক্ষা।

এ প্রসঙ্গে এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জনকন্ঠকে বলেন, রমনা বটমুলে বোমা হামলা মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানি শুরু হয়েছিল। পরে ওই বেঞ্চ থেকে এটি আউট অব লিস্ট হয়ে গেছে। এখন আবার শুনানির জন্য রয়েছে। মামলাটি দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বহুল আলোচিত রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনায় আনা এ মামলায় ন্যায়বিচারের স্বার্থে রাষ্ট্রপক্ষ তৎপর রয়েছে।

এদিকে মহানগর পিপি আব্দুল্লাহ আবু জনকন্ঠকে বলেছেন ,বিস্ফোরক আইনে যে মামলা টি আছে তাতে ২৬ জনের সাক্ষী হয়েছে। আর কিছু সাক্ষী নিয়ে মামলাটি ক্লোজ করে দিব। বোমা হামলা মামলার হত্যা মামলায় মুল আসামিদের শাস্তি হয়েছে। এখন মামলাি শেষ হওয়া উচিত। অন্যদিকে হাইকোর্টে হত্যা মামলাটির ডেথ রেফারেন্সটিও শেষ হওয়া উচিত। ইতমধ্যে নি¤œ আদালতে হত্যা মামলাটি নিষ্পিত্তি হয়েছে। ঐ মামলাটির শান্তি কার্যকর হলে বিস্ফোরক মামলাটি বাদ হয়ে যাবে।

এ মামলায় বিচারিক আদালত নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নানসহ আটজনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডাদেশ এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয় বিচারিক আদালত। মৃত্যুদন্ডে দন্ডিতরা হলেন-মুফতি আব্দুল হান্নান, মাওলানা আকবর হোসেন, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বকর ওরফে মাওলানা হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মাওলানা আবদুল হাই ও মাওলানা শফিকুর রহমান। এর মধ্যে সিলেটে প্রাক্তন ব্রিটিশ হাই কমিশনার অনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার মামলায় মুফতি হান্নানের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে। মাওলানা আকবর হোসেন, আরিফ হাসান সুমন ও মাওলানা আবু বকর ওরফে মাওলানা হাফেজ সেলিম হাওলাদার কারাগারে এবং বাকিরা পলাতক রয়েছেন।

যাবজ্জীবন কারদন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন- শাহাদাতউল্লাহ জুয়েল, মাওলানা সাব্বির, শেখ ফরিদ, মাওলানা আব্দুর রউফ, মাওলানা ইয়াহিয়া ও মাওলানা আবু তাহের। ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক রুহুল আমিন এ রায় ঘোষণা করেন।

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ভয়াবহ ও নজিরবিহীন বোমা হামলা চালানো হয়। বর্বরোচিত ওই হামলায় ঘটনা¯’লেই নয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে মারা যান আরো একজন। এ ঘটনায় নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সার্জেন্ট অমল চন্দ্র চন্দ রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা করেন।

হত্যা মামলায় রায় ঘোষণা হলেও অন্য মামলাটি এখনো বিচারাধীন।২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর দুই মামলায় ১৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সিআইডির পরিদর্শক আবু হেনা মো. ইউসুফ ২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দুটি মামলারই অভিযোগপত্র একসঙ্গে দাখিল করা হয়। পরে বিচারের জন্য মামলা দুটি ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে যায়।

ওই আদালতে একই বছরের ১৬ এপ্রিল পৃথকভাবে মামলা দুটিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ২০১৪ সালের ২৩ জুন বিচারিক আদালত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। এরপর ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিদের জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিলের শুনানির জন্য মামলাটি হাইকোর্টে আসে। এখন ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি ও নিস্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।