১৮ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘ফল আর্মি ওয়ার্ম’

না, এ কোন টিভি সিরিজ বা ওয়েবসাইট সিরিজের ধারাবাহিক কাহিনী চিত্রের নাম নয়। নয় কোন বিদেশী উপন্যাসের বা ছোট গল্পের শিরোনাম। এ হচ্ছে মারাত্মক ক্ষতিকারক এক পোকার নাম। ফ্রান্সের জন্য বিধ্বংসী এই পোকা। ভুট্টাক্ষেত তার আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু। এ যেন পোকাদের মধ্যে পারমাণবিক বোমা বহনকারী। এই পোকা এখন বাংলাদেশেও সম্প্রসারিত হচ্ছে। আমেরিকা মহাদেশে যার জন্ম। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, আফ্রিকার পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশের মেহেরপুর জেলার সীমান্ত ঘেঁষা গ্রামগুলোতে প্রবেশ করে হানাদারদের মতো ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে অন্যান্য জেলায়। এই পোকার আক্রমণ চলছে অবাধে। পোকাটি এতই ভয়াবহ যে মুহূর্তেই ক্ষেতের পর ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ক্ষেতের পরিমাণ। প্রতিষেধক ব্যবহার করেও প্রতিকার মিলছে না বলে স্থানীয় কৃষকরা আহাজারি করছেন। ভুট্টা চাষীরা রোগ-ব্যাধি কম হওয়ার কারণে গত বছর যে পরিমাণ জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছে এবার তার দ্বিগুণ জমিতে আবাদ করেছে অধিক ফলন এবং লাভ ও মুনাফার আশায়। কিন্তু ‘ফল আর্মি ওয়ার্ম’ পোকার আক্রমণে কৃষকের মুখের হাসি আর স্বপ্ন ম্লান হয়ে পড়েছে। কয়েকটি জেলায় বিভিন্ন ভুট্টা ক্ষেতে চলছে এদের অবাধ আক্রমণ। গাছের পাতা থেকে শুরু করে কা- পর্যন্ত খেয়ে ফেলছে এই পোকা। পোকাটি এতই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে যে, তাতে ধ্বংসের মুখে পড়তে যাচ্ছে আক্রান্ত জেলার ভুট্টা চাষ। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ক্ষেতের পরিমাণ। হাজার হাজার হেক্টরের ফসল নষ্ট হতে চলেছে। কোন প্রতিষেধকেই কাজে আসছে না বলে দাবি করছে চাষীরা। অন্যান্য ‘ল্যাদা’ পোকার চেয়ে ভয়ঙ্কর ফল আর্মি পোকা। পরিণত বয়সের একটি পোকা অসংখ্য বাচ্চা দেয়। সন্ধ্যার পর থেকে ছড়িয়ে পড়ে সমস্ত গাছে। কীটনাশক দিয়ে এ পোকা দমন সম্ভব নয়। পোকার আক্রমণও শনাক্ত করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকরা জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারত থেকে এক ধরনের পোকা এসে এদেশের ভুট্টা ক্ষেতগুলোতে আঘাত হেনেছে। এ পোকা ভুট্টার শীষ ও পাতা কেটে খাচ্ছে। দিনে লুকিয়ে থেকে রাতের অন্ধকারে শুরু হয় এদের হামলা। এভাবে খুব অল্প সময়ে ক্ষেতের পর ক্ষেত উজাড় করে দিচ্ছে। এখনই দমন করা না গেলে ভুট্টা ক্ষেতে প্রচুর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা। এবার চাষীদের ঘরে ভুট্টা যাবে কিনা সন্দেহ। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, ফল আর্মি ওয়ার্ম একটি ভয়ঙ্কর পোকা। এ পোকা ফসলের পাতা ও মাইজ খায় এবং এগুলো শেষ হলে পর্যাপ্ত খাবার না পেলে ফসলের ফল খাওয়া শুরু করে। তারা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে পোকা দমনে। তবে তাতে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। হাত দিয়ে পোকা ধরা, সব সময় প্লাবন সেচ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ রাখা, সেক্সফেরামন স্থাপন করা এবং এসএন পিভি নামের যে জৈব বালাই নাশক আছে, তা স্প্রে করার মাধ্যমে এ পোকা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পোকাটি এক রাতে প্রায় এক শ’ কিলোমিটার উড়তে সক্ষম। আর ঝড়ো বাতাস পেলে পাঁচ শ’ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে। কৃষকরা অবশ্য এমনও বলছে যে, পোকা দমনে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের তেমন সহায়তা মিলছে না। ফলে কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

দেশে ভুট্টা আবাদ লাভজনক হওয়ায় এ বছর কৃষকরা আবাদ বাড়িয়েছে। দেশে ভুট্টার চাহিদাও বাড়ছে। গমের আবাদ কমে যাওয়ায় এবং ফলন ভাল হওয়ায় কৃষকরা ভুট্টা চাষের প্রতি ঝুঁকছেন। কিন্তু এই বিষাক্ত পোকার আক্রমণ তাদের সব শ্রম ও অর্থ লগ্নি বৃথা হয়ে যাচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয় অচিরেই পদক্ষেপ না নিলে এই পোকা ক্রমান্বয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ভুট্টা বিধ্বংসী ফল আর্মির পতন ঘটানো না গেলে ভুট্টা চাষই বন্ধ হয়ে যেতে পারে আগামীতে। তাই অচিরেই পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরী।

নির্বাচিত সংবাদ