১৩ এপ্রিল ২০১৯

আমার বাবা ও একাত্তরের অম্লান স্মৃতিময় স্থানগুলো

(গত শুক্রবারের পর)

প্রটোকলে নিয়োজিত সহকারী কমিশনার ও গোহাটিতে কর্মরত বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশনারসহ সাউথ গারো হিলস জেলার ডালু বর্ডার থেকে বাঘমারার উদ্দেশে রওয়ানা হই। আমাদের মূল যাত্রা মহেষখলা। পাহাড় ও অরণ্যের নির্জন পথে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। কিন্তু বাঘমারা যেতেই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা বাজবে তাই সাউথ গারো হিলস জেলার বাঘমারা সার্কিট হাউসে থাকতে হলো। সাউথ গারো হিলস জেলার ডেপুটি কমিশনার Shri. H. B. Marak আমাদেরকে সার্কিট হাউসে অভ্যর্থনা জানালেন। সঙ্গে জেলার D.S.P-ও ছিলেন। এই মানুষগুলো শুধু সরকারী দায়িত্ব পালন করেননি। আন্তরিকতা না থাকলে কোন কিছুই সুন্দর হয় না। এই দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তাদের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়েছি। বাঘমারার এই নির্জন সার্কিট হাউসটির কথাও মনে থাকবে খুব।

॥ চার ॥

মহেষখলা ক্যাম্পের খোঁজে

৫ এপ্রিল সকালের নাস্তা সেরে মেঘালয়ের সাউথ গারো হিলস জেলার বাঘমারা সার্কিট হাউস থেকে মহেষখলার উদ্দেশে রওনা হই। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাউথ গারো হিলসের প্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যগণ সার্বক্ষণিক আমাদের সঙ্গে ছিলেন। পাহাড়ি রাস্তায় অনেক ছায়া। আবার যেখানে গাছপালা নেই সেখানে রোদ খুব কড়া। মনে হয় সূর্য সরাসরি গায়ে এসে ধাক্কা দিচ্ছে। পাহাড়ের উঁচু-নিচু অসমতল রাস্তায় জীপগাড়ি ধুলো উড়িয়ে আমাদের গন্তব্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। গাড়ি এগিয়ে যাচ্ছে, দু’পাশে তাকিয়ে আমরা পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ দেখছি। চারপাশের জঙ্গল আর গভীর খাদ দেখছি। দূরে পাহাড়ের চূড়ায় কিংবা গাছের সবুজে তুলার মতো জমে আছে মেঘ। মেঘ জমে থাকে বলেই হয়তো এই পাহাড়ের নাম মেঘালয়। মেঘের ধারায় পাহাড়ের ঢালু বেয়ে কলকল শব্দে সমতলে নেমে আসে ঝর্ণা। ভেতরে ক্লান্তি এসে ভর করে। প্রায় ৮২ কিলোমিটার দুর্গম পথ পার হতে আমাদের সময় লেগেছে প্রায় ৫ ঘণ্টা। কিন্তু মহেষখলায় গিয়ে সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেল।

১৯৭১ সালে আমার বাবা এই মহেষখলা ক্যাম্পেরই ইনচার্জ ছিলেন। জিপ থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে অবসাদ চলে গেল। কী এক আশ্চর্য শান্তি নেমে এলো। মনে হলো, স্বপ্নে আমি এই জায়গায় বহুবার এসেছি। এই মাটির ঘাসে ঘাসে বাবার স্মৃতি। ইশ!, যদি বাবা বেঁচে থাকতেন। যদি বাবার সঙ্গে এই মহেষখলার মাটিতে দাঁড়াতে পারতাম। আমার স্ত্রী লায়লা আরজুমান আমার আবেগ কিছুটা হলেও অনুভব করতে পারছিল। সেখানে নেমেই টেলিফোনে আম্মার সঙ্গে কথা বললাম। আম্মাও টেলিফোনে কিছু স্মৃতিচারণ করলেন। আম্মার বয়স এখন ৮০ এর উর্ধে।

হাঁটতে হাঁটতে আমি সেখানকার আশপাশে বসবাসরত লোকজনের দিকে এগিয়ে যাই। একটু বয়স্ক লোকদের সঙ্গে কথা বলি। কিছুটা আবেগপ্রবণ হই। বাবার কথা বলি, বাবার কথা জিজ্ঞাসা করি। ’৭১ এর কথা জানতে চাইলাম। ২/১ জন মুরব্বি স্মৃতিচারণও করলেন। ঐ সময় বাঁশের বেত দিয়ে তৈরি করা মাচার ঘরে আমরা থাকতাম। সেই বাড়ি তো আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবু, বিবরণ জিজ্ঞেস করতে করতে আমি সেই বাড়িটির অবস্থান বের করার চেষ্টা করি। স্মৃতি মিশানো বিবরণ শুনতে শুনতে বয়স্ক লোকেরা একটা জায়গা দেখাল। আমারও মনে হলো, আমাদের থাকার জন্য যে ঘরটি ছিল- এটি সেই স্থান। আমার মনে আছে, ঝর্ণায় আমরা গোসল করতাম, সেই ঝর্ণার অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছি, যদিও ঝর্ণায় এখন পানি নেই, বার বার ঝর্ণার জায়গায় বসে স্মৃতি খুঁজেছি।

৪৭ বছর অনেক দীর্ঘ সময়। এই ৪৭ বছরে অনেক কিছুই বদলে গেছে। কিন্তু এলাকাটি এখনও যে পরিমাণ অবহেলিত ৪৭ বছর পূর্বে তার রূপ কেমন ছিল- তা আজ হয়তো কেউ অনুমানও করতে পারবে না। আমার পিতা ও অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধার দেশপ্রেম, কঠোর মনোবলের জন্য এখানে থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে। আমার পিতার মতো প্রবীণ আওয়ামী লীগের নেতারা তখন ক্যাম্পে ক্যাম্পে শক্তি, সাহস ও প্রেরণার মন্ত্র ছড়িয়ে বেড়াতেন। গেরিলা আক্রমণের সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়ার জন্য কৃষক ও ছাত্রদের মধ্য থেকে প্রচুর মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রহ করতেন। মুক্তিযোদ্ধাদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন করে গড়ে তুলতেন। একটা রাজনৈতিক জ্ঞান ছাড়া কেউ গেরিলা হতে পারে না। কার যুদ্ধ? কেন যুদ্ধ? কার সঙ্গে যুদ্ধ?- এই প্রশ্নগুলো না জেনে কেউ গেরিলা হতে পারে না। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক জ্ঞান অবশ্যই দেশের প্রায় সব মানুষেরই নেয়া হয়ে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ যে ভাষণ দিয়েছিলেন- সেই ভাষণের ভেতরেই ছিল গেরিলাদের রাজনৈতিক প্রস্তুতির অভিজ্ঞান। বঙ্গবন্ধু সেদিন সবাইকে প্রস্তুত হতে বলেছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষ আসলে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতই ছিল। ভেতরে ভেতরে সবাই গেরিলা হয়ে প্রস্তুতিই নিচ্ছিল। কাজেই যুদ্ধে যাবার জন্য কৃষক-যুবাদের যখন ডাক আসল তখন আর কেউ দ্বিধা করেনি। অস্ত্র হাতে জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীনে ব্রতী হয়েছে।

৪৭ বছর আগের একটা বাঁশের বেত দিয়ে তৈরি ঘর আর আমার বাবার স্মৃতির স্বাক্ষরগুলো খুঁজতে খুঁজতে আমি মহেষখলার মাটিতে হাঁটতে থাকি। মহেষখলার মাটিতে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়া আমার শৈশবটা খুঁজতে থাকি। অল্প কিছুক্ষণ পর মহাদেও ক্যাম্পের উদ্দেশে রওনা হই।

॥ পাঁচ ॥

মহাদেও এবং রংড়া ক্যাম্পের খোঁজে

সাউথ গারো হিলস জেলার মহেষখলা থেকে মহাদেও এসেছি। এই মহাদেও ক্যাম্প থেকেই স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় আমার বাবা চিঠি লিখেছিলেন আম্মাকে। রশিদ হায়দারের সম্পাদনায় একাত্তরের চিঠির যে সংকলন প্রকাশিত হয়েছে সে সংকলনের ২৭ পৃষ্ঠায় এই চিঠি ছাপা হয়েছে। জুনের ১৬ তারিখ লেখা এই চিঠিতে স্পষ্ট বুঝা যায় তিনি মহেষখলা থেকে মহাদেও এসেছেন। কিন্তু উনার গন্তব্য হচ্ছে তুরা। রংড়া হয়ে তুরা যাবেন। উনার সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আব্দুল খালেক এমপিএ ও জোবেদ আলী এমএনএ। চিঠির বিবরণ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় পরিবার নিয়ে কতটা উদ্বিগ্ন তিনি। আম্মাকে সাবধানে থাকতে বলছেন। বাড়িতে থাকলে আক্রমণ হতে পারে এরকম ধারণাও করেছেন তিনি। জুনের ১৬ তারিখ লেখা চিঠি পড়ে বুঝা যায় আম্মাকে আরও চিঠি লিখেছেন তিনি। কিন্তু সে সব দুর্লভ চিঠি আমরা হারিয়ে ফেলেছি।

মহেষখলা ও রংড়ার একটা মধ্যবর্তী স্থান এই মহাদেও। এই মহাদেও শরণার্থী শিবিরেও নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জের অনেক মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। মহাদেও ইয়ুথ ক্যাম্পে যুবকদের ভর্তি করে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রশিক্ষণে পাঠানো হতো। এখানেও আমি প্রবীণ লোকদের জিজ্ঞেস করলাম মুক্তিযুদ্ধের সময় ক্যাম্পটা কোথায় ছিল। মহাদেওয়ের স্থানীয় লোকজনের সাহায্যে জায়গাটি খুঁজেও পেলাম। ভাবতে অবাক লাগে এমন একটি জঙ্গলাকীর্ণ স্থানে কীভাবে মুক্তিযোদ্ধারা দিন কাটিয়েছিলেন। বারবার জায়গাটি ঘুরে ঘুরে দেখলাম ও কিছু ছবি তুললাম। অতঃপর সেখান থেকে রংড়ার উদ্দেশে রওনা হলাম। রংড়া ক্যাম্পেও আমার পিতার স্মৃতি রয়েছে। জুন এর ১৬ তারিখ আমার আম্মাকে লেখা চিঠিতে এও লেখা ছিল ‘তোমরা বাড়ি থেকে সরে গেছ কিনা জানি না। তোমাদের ওপর আক্রমণ আসতে পারে, তাই পূর্ব পত্রে লিখেছিলাম বাড়ি থেকে সরে যেতে। কোথায় আছ তা যেন অন্য লোকে না জানে।’ আবার লিখেছেন ‘স্বাধীন বাংলা বেতারের খবর নিশ্চয়ই শুনেছ যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িও আক্রমণ করতে ছাড়েনি সুতরাং খুব সাবধান’ চিঠির বিবরণ অনুযায়ী মহেষখলা থেকে রংড়ার পুরো ৩৫ কিলোমিটারের পথ বাবা এবং বাবার সহযাত্রীরা হেঁটে এসেছিলেন।

আমরা গাড়িতেই রংড়া এসেছি। সেখানে একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদের সহায়তায় রংড়া ক্যাম্পের স্থানগুলো অবলোকন করলাম। স্থানীয় ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসারের আতিথেয়তায় মধ্যাহ্ন ভোজ সেরে নিলাম। খাড়া অসমতল পাহাড়ের রাস্তা দিয়ে বাঘমারায় অবস্থিত সার্কিট হাউসে ফিরে আসার সময় প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত হয়। তুমুল বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে পাহাড়ি এলাকার লাল মাটি। ঘন পাহাড়ের এই সবুজ অরণ্যই ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়।

আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় সার্কিট হাউসে পৌঁছি। পরের দিন ওয়েস্ট গারো হিলস জেলার তুরার দিকে রওনা হই। সেখানেও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রয়েছে।

॥ ছয় ॥

তুরা ক্যাম্পের খোঁজে

সকালে তুরা যাওয়ার উদ্দেশে বাঘমারা সার্কিট হাউস থেকে বের হলাম। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে বিভিন্ন মিটিং এ অংশগ্রহণ করার জন্য আমার পিতা মহেষখলা থেকে তুরা এসেছিলেন। তাই তুরা দেখতে কেমন সেটাও দেখার একটি আবেগ আমার মধ্যে ছিল। বার বার বাবার কথা মনে হচ্ছিল। বাঘমারা থেকে তুরা প্রায় ১০৪ কিঃমিঃ। কিন্তু রাস্তা খুব খারাপ হওয়ায় সাউথ গারো হিলস জেলার সিকিউরিটিতে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তাগণ এর সহায়তায় ডালু হয়ে গাছুয়াপাড়া থেকে আম্পাট্টির দিকে রওয়ানা হই (৯০ কিঃমি)। আম্পাট্টি অবস্থিত জেলার সার্কিট হাউসে তুরা যাওয়ার পথে বিশ্রাম নেই। সেখানে সাউথওয়েস্ট গারো হিলস জেলার ডেপুটি কমিশনার Shri. Cyril V. Darlong Diengdoh আমাদের সার্কিট হাউসে স্বাগত জানালেন। আনুমানিক ৩.০০টার দিকে আম্পাট্টি সার্কিট হাউস থেকে তুরার উদ্দেশে রওয়ানা হই (৪৯ কিঃমিঃ)। ওয়েস্ট গারো হিলসের জেলা শহর তুরায় পৌঁছার পর তুরার সার্কিট হাউসে প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ আমাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সার্কিট হাউসের প্রবেশদ্বারে তাদের স্থানীয় সংস্কৃতিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উত্তরীয়, মাথায় টুপি এবং কটি পরিধান করিয়ে বরণ করেন। কিছুক্ষণের মাঝেই ডিআইজি সাহেব সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন।

কিছুক্ষণ সময় পেলাম। এই তুরায় মূলত তিনি বিভিন্ন মিটিংয়ে আসতেন। ছিল মূলত প্রশিক্ষণ শিবির। মহেষখলা, মহাদের, রংড়া, বাঘমারা, শিববাড়ি’র ক্যাম্পে যে সমস্ত মুক্তিযোদ্ধা ভর্তি করা হতো তাদেরকে প্রশিক্ষণের জন্য তুরায় প্রেরণ করা হতো। তুরায় ঘুরে সর্বক্ষণ বাবার স্মৃতি মনে ভাসছিল। সেখান থেকে রাত ৮টার দিকে গোহাটির উদ্দেশে রওয়ানা হলাম।

॥ সাত ॥

আমার বাবার মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতি বিজড়িত এলাকা ছিল মহেষখলা, মহাদেও, রংড়া এবং তুরা। আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে, এপ্রিল মাসেই তিনি এ কাজের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। চিকিৎসা সেবা দিয়ে, শরণার্থীদের নিত্য প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণে সহায়তা প্রদান করে, মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রহ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে তিনি নিবেদিতভাবে এই গারো হিল অঞ্চলে তার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আজ ৪৮ বছর পর আমি সেই স্থানগুলো ছুঁয়ে দেখতে এসেছি। আমার ছোট ছেলে সাবাবকেও সঙ্গে নিয়ে এসেছি। ও জানুক ওর পূর্বপুরুষের কীর্তি। পূর্বপুরুষের দর্শন ও চেতনা ওর মধ্যে সঞ্চারিত হোক। আমার বাবা যদি আজ বেঁচে থাকতেন একসঙ্গে নিয়ে স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলো দেখাতে পারতাম, তার জীবদ্দশায় মুক্তিযুদ্ধের অজানা কাহিনী আরও যদি জেনে নিতে পারতাম, সেই কথাই আজ ভীষণভাবে মনে পড়ছে। পিতার পদস্পর্শিত স্থানে গিয়ে উপলব্ধি করেছি পিতৃস্নেহের প্রবলতা- তাঁর চিঠি, তাঁর নেতৃত্ব, তাঁর সংগ্রাম, পরিবারের প্রতি ভালবাসা আর দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ আমাকে, আমার উত্তর-প্রজন্মকে আরও বেশি উজ্জীবিত করে তুলবে। আমরা স্বপ্নালু এ পথিকের স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাব- এ প্রত্যাশা করি। আমি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি, যিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন আমার পিতার স্মৃতিময় জায়গাগুলো পরিবারসহ ভ্রমণের ব্যাপারে সুযোগ করে দিয়েছেন। তাঁর এই সহৃদয় সহায়তা, আমাকে শিকড়ের সন্ধানে অগ্রসর হতে উদ্বুদ্ধ করেছে। জায়গাগুলো ঘুরতে গিয়ে ভারত সরকারের যে সহযোগিতা পেয়েছি সেজন্য আমি তাদের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এ ভ্রমণ আমার স্মৃতিতে চির অম্লান হয়ে থাকবে।

(সমাপ্ত)

লেখক : সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার