২০ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শান্তিপূর্ণ ও আনন্দময়

বাংলা নববর্ষকে সাদরে ও সানন্দে বরণ করে নিয়েছে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ। এই বরণ হয়েছে অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর। বৈশাখে দিনের তাপমাত্রা থাকে বেশ ওপরের দিকে। প্রথম দিনই স্বকীয় রুদ্ররূপ চিনিয়ে দেয় বৈশাখ। তীব্র রোদের ভেতর মানুষ দিনমান উৎসবে মেতেছে। বিশেষ করে রাজধানীর পুরোটাই ছিল উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনায় ভরপুর। প্রতি বছরই মানুষ আরও বেশি করে সময় দিচ্ছে ঘরের বাইরের নানা বৈশাখী উৎসব আয়োজনে। নিজের ঘরে যেমন আপ্যায়ন করছে স্বজনদের, তেমনি স্বজনের আমন্ত্রণেও সাড়া দিচ্ছে। আর স্বজন সম্মিলন মানেই এদিনে বাঙালীর খাবার খাওয়া, বাংলার একান্ত পোশাক পরিধান করা। সব মিলিয়ে শৃঙ্খলবিরোধী অপ্রীতিকর কিছ ঘটেনি। কোথাও বলা যায় পরম আনন্দময় ও শান্তিপূর্ণভাবেই এবার পালিত হলো পহেলা বৈশাখ, বাংলা নতুন সালের প্রথম দিন।

‘মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে’Ñ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেরিয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রা যাতে অংশ নিয়েছে নানা সাজে সজ্জিত অগণিত নারী-পুরুষ-শিশু। ‘অনাচারের বিরুদ্ধে জাগ্রত হোক শুভবোধ’-এ প্রতিপাদ্যে ছায়ানটের রমনার বটমূলের আয়োজন শুরু হয় ভোরে এবং বরাবরের মতোই অসংখ্য মানুষ এ আয়োজন দেখতে সমবেত হয়েছিল রমনায়। তাদের বর্ষবরণের আয়োজনের শুরুতে ছিল প্রকৃতির স্নিগ্ধতা ও সৃষ্টির মাহাত্ম্য নিয়ে ভোরের সুরে বাঁধা গানের পরিবেশনা। পরের ভাগে ছিল অনাচারকে প্রতিহত করা এবং অশুভকে জয় করার জাগরণী সুরবাণী, গান-পাঠ-আবৃত্তিতে দেশ-মানুষ-মনুষ্যত্বকে ভালবাসার প্রত্যয়।

সারাবিশ্বের অনেক দেশের মতো আমাদের দেশেও নাগরিক জীবনের এবং সরকারী কর্মকা-ের সবকিছু চলে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের হিসেবে। তারপরও বাঙালীর গভীর মানসে বাংলা নববর্ষের স্থান অনেক উঁচুতে। বাঙালীর মনপ্রাণজুড়ে রয়েছে বাংলা নববর্ষ। এ দেশের কৃষক-শ্রমিক, জেলে-তাঁতি, কামার-কুমারসহ নানা পেশার মানুষ যুগ যুগ ধরে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে আসছে আনন্দ-উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে। ব্যবসায়ীরা এখনও হিসাবের নতুন খাতা-হালখাতা খোলেন বৈশাখের প্রথম দিনে। এ জন্য মিষ্টান্নের আয়োজন থাকে ব্যাপক।

আমাদের নাগরিক জীবনেও নববর্ষের আবেদন কম নয়। স্বাধীনতা পরবর্তীকাল থেকেই ছায়ানটের উদ্যোগে রমনার বটমূলে বৈশাখের সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বৈশাখ বরণ উৎসব শুরু হয় মহাসমারোহে। বৈশাখ উপলক্ষে ফ্যাশন হাউসগুলোতেও থাকে নানা আয়োজন। পত্রিকাগুলো বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে। ইলেকট্রনিক মিডিয়াও বৈশাখের নানা আয়োজনে থাকে ব্যস্ত। স্বাধীনতার পর বাঙালী তার গ্রামীণ জীবনযাত্রার অনুষঙ্গী বৈশাখী উৎসবের ক্ষীয়মাণতাকে নবপ্রাণদান করে রাজধানী শহরে ভিন্ন আঙ্গিকে, আধুনিক বিন্যাসে উপস্থাপন করে মঙ্গলশোভা। ১৯৮৯ থেকে এ উৎসবে চারুকলার ছাত্রদের বর্ণাঢ্য মুখোশ, নানা কার্টুন চিত্র ও বর্ণিল মিছিল এক নতুন মাত্রা ও প্রতিবাদী ব্যঞ্জনা যুক্ত করে। দুঃশাসন, স্বৈরাচার এবং ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এ বিশাল উৎসব নানা মানবিক বার্তা প্রদান করে।

ড. সানজীদা খাতুন ছায়ানটের আয়োজনের সমাপনীতে যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটি বহু মানুষের হৃদয়ের কথা। আমরা নববর্ষ পালন করব মহাসমারোহে। কিন্তু দেশের মানুষের প্রতি, বাংলাভাষা ও দেশমাতৃকার প্রতি আমাদের সবিশেষ দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। সেটি যেন আমরা ভুলে না যাই, এই হোক নতুন বাংলা বছরের প্রগাঢ় উপলব্ধি।