২০ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট স্থগিত

নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট স্থগিত

অনলাইন রিপোর্টার ॥ ১১ দফা দাবিতে নৌযান শ্রমিকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের সঙ্গে শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। শ্রম অধিদপ্তরের সভাকক্ষে বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী ধর্মঘট স্থগিতের কথা জানান। এর ফলে সারাদিনের অচলাবস্থা শেষে স্বস্তি ফিরে আসে নৌপথে।

নৌপথে চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধ, ২০১৬ সালের ঘোষিত বেতন স্কেলের পূর্ণ বাস্তবায়ন, ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস প্রদান ও হয়রানি বন্ধ, নদীর নাব্যতা রক্ষা, নদীতে প্রয়োজনীয় মার্কা, বয়া ও বাতি স্থাপনসহ ১১ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডাকে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন। দেশের সব রুটের অভ্যন্তরীণ ও সমুদ্রগামী যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান এ কর্মসূচির আওতায় ছিল।

এছাড়া নিয়োগপত্র ও খোরাকি ভাতা প্রদানসহ ১৩ দফা দাবিতে একই সময় ধর্মঘটের ডাক দেয় বাংলাদেশ জাহাজি শ্রমিক ফেডারেশনের অধীন বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের একাংশ।

গত সোমবার শ্রম পরিদপ্তর কার্যালয়ে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের সঙ্গে মালিক-শ্রমিক নেতাদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সেখানে নৌযান শ্রমিক নেতাদের একাংশ ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা ওই বৈঠক বর্জন করে ধর্মঘট অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

এ অবস্থায় সোমবার মধ্যরাত থেকে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালসহ সব নৌবন্দরে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী নৌযান এবং সমুদ্রবন্দরগুলোতে পণ্যবাহী নৌযান ও লাইটার জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে ‘লঞ্চ মালিক সমিতি’ যাত্রীবাহী লঞ্চ চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিলে মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে স্বল্পসংখ্যক লঞ্চ সদরঘাটসহ বিভিন্ন লঞ্চ টার্মিনালে আসা-যাওয়া করে।

সোমবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া ধর্মঘটের কারণে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে যাত্রী, ব্যবসায়ীসহ সংশ্নিষ্টদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। অচল হয়ে পড়ে নৌপথ।

সংকট নিরসনে মঙ্গলবার বিকাল পাঁচটার দিকে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান। রাত ১২টার পর বৈঠক শেষ হয়। বৈঠক শেষে শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়নে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসে আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর গেজেটে উল্লেখিত যেসব বিষয় বাস্তবায়িত হচ্ছে না, সেগুলো লিখিতভাবে শ্রম মন্ত্রণালয় বা শ্রম অধিদপ্তরকে জানালে সমাধানের উদ্যোগ নেবে সরকার।

তবে শ্রমিকদের সুষ্ঠু জীবনমানের সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন মানবিক বিষয়াদি যা গেজেটে উল্লেখ নেই কিন্তু আগে থেকে কোনো কোনো শ্রেণির নৌযান শ্রমিক পেয়ে আসছে, তা অব্যাহত রাখার বিষয়টি ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা হবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, দাবিনামার ১ থেকে ৭ নম্বর দফা ৪৫ দিনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করা হবে। ৮ থেকে ১১ নম্বর দফা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ জানানো হবে।

শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ কে এম মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব উম্মুল হাছনা, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. শাহ আলম ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম প্রমুখ।