২০ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তৃণমূলের নির্বাচনী প্রচারণায় আরও এক বাংলাদেশি!

তৃণমূলের নির্বাচনী প্রচারণায় আরও এক বাংলাদেশি!

অনলাইন ডেস্ক ॥ ভারতের চলমান লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের রায়গঞ্জে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা বাংলাদেশের নায়ক ফেরদৌস। এ জন্য দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় তাকে কালো তালিকাভুক্ত ও ভিসা বাতিল করেছে। ফলে মঙ্গলবার রাতের ফ্লাইটে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের নাগরিক নায়ক ফেরদৌসকে নিয়ে হুলস্থূল পড়ে গিয়েছে ভারতের রাজনৈতিক মহলে।

এর আগে হিন্দুস্তান টাইমস ও এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, ফেরদৌস আহমেদের ভিসা–সংক্রান্ত আচরণ লঙ্ঘনের প্রতিবেদন পাওয়ার পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার ভিসা বাতিল করেছে। সেই সঙ্গে তাকে ভারত ত্যাগের নির্দেশ ও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

এমন ঘটনার মধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে আরও এক বাংলাদেশি পশ্চিমবঙ্গে লোকসভা নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মদন মিত্রের হয়ে প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা গেছে ‘করুণাময়ী রানি রাসমণি’ ধারাবাহিকে রাজা রাজ চন্দ্রের ভূমিকায় অভিনয় করা গাজি আবদুন নূরকে।

রাম নবমীতে খোলকরতাল নিয়ে বেড়িয়েছিলেন মদন মিত্র। ভবানীপুর এলাকায় তার সঙ্গে মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন নূর। এছাড়া দমদমে সৌগত রায়ের প্রচারেও ছিলেন নূর। একটি হুডখোলা গাড়িতে নূরকে সঙ্গে নিয়ে ভোট চেয়েছেন মদন মিত্র।

লোকসভা নির্বাচনের প্রচারণায় বাংলাদেশের নায়ক ফেরদৌসের অংশগ্রহণ নিয়ে ইতোমধ্যেই ভারতে তুমুল বিতর্ক চলছে। এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট চায় দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কাছে নালিশ করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারে থাকা বিজেপি।

যদিও তৃণমূল নেতা মদন মিত্র গত সোমবার প্রচারণায় ফেরদৌসের অংশগ্রহণের বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা সাহায্য করেছিলাম। ফেরদৌসকে প্রচারে এনে তাই আমরা ভুল কিছু করিনি। দেশবিরোধী, বেআইনি ও আদর্শআচরণবিধি লঙ্ঘন করে কিছু করবে না তৃণমূল কংগ্রেস। কমিশন আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে বিজেপিকে ছাড়া চলবে না। রাম নবমী অস্ত্র নিয়ে মিছিল করেছেন বিজেপি প্রার্থীরা’।

জানা গিয়েছে, শুটিং করার জন্য ভিসা পেয়েছিলেন ফেরদৌস ও আবদুন নূর। ভারতের কাজের অনুমোদনপত্র পেয়ে কীভাবে রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রচারে নামতে পারেন তারা, উঠেছে সেই প্রশ্ন। বিষয়টি দেখছে বিদেশি আঞ্চলিক পঞ্জিকরণ দফতর (এফআরআরও)। এজন্য সংশ্লিষ্ট জেলা সুপারদেরও জবাবদিহি করতে হবে বলে জানা গিয়েছে।

ফেরদৌসের কাছে কৈফিয়ত চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তাকে ডেকে পাঠানো হয় কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশের উপদূতাবাসে। নির্দেশ দেয়া হয়, যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরে আসার। সেই মোতাবেক তিনি মঙ্গলবার রাতেই দেশে পৌঁছেছেন।

আর নূরও ইতোমধ্যেই ফোন পেয়েছেন কলকাতায় বাংলাদেশের উপদূতাবাস থেকে। তিনি প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন কিনা, জানতে চাওয়া হয়েছে তার কাছে।

প্রসঙ্গত, অভিযোগ প্রমাণ হলে ফেরদৌস ও নূর উভয়েরই ৫ বছরের জেল ও জরিমানা হতে পারে।

মঙ্গলবার এই ইস্যু সামনে আসার পর জনপ্রিয় ‘করুণাময়ী রানি রাসমণি’ সিরিয়ালের অভিনেতা নূর টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, মদন মিত্র তার দাদার মতো। তার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই। নির্বাচনী প্রচারে অংশ কথাও অস্বীকার করেছেন তিনি।

‘করুণাময়ী রানি রাসমণি’ সিরিয়ালে রাজা রাজ চন্দ্রের ভূমিকায় অভিনয় করা নূর জানান, তার মা যখন অসুস্থ হয়ে আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন তখন মদন মিত্র অনেক সাহায্য করেছেন। মদন মিত্রের সঙ্গে তার দাদা-ভাইয়ের সম্পর্ক। নূরের মা বাংলাদেশ থেকে মদন মিত্রের জন্য খাবারও পাঠান মাঝেমধ্যেই।

নূর বলেন, দাদা-ভাই সম্পর্কের খাতিরেই দক্ষিণেশ্বরে এলে দেখা করেন মদন মিত্রের সঙ্গে। সেদিনও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মন্দির দর্শন করে ফেরার সময় দেখা করেন তৃণমূলের এই নেতার সঙ্গে।

তিনি বলেন কলকাতায় নিজের গাড়ি না থাকায় সেদিন মদন মিত্রের গাড়িতে ফিরছিলেন। আর সেই গাড়ি থেকে নেহাতই অভিনেতা সুলভ হাত নেড়েছেন ভক্তদের উদ্দেশে। এতে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না। এমনকি তিনি কোনো কথাও বলেননি, তার সঙ্গে তৃণমূল প্রার্থীও ছিল না। তাই এই ঘটনাকে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়া হয়েছে বলে মানতে রাজি নন নূর।

গাজী আবদুন নূরের বাড়ি বাগেরহাটের মোল্লারহাট উপজেলায়। নানা বাড়ি গোপালগঞ্জে। এসএসসি ও এইচএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন মোল্লারহাটেই। কলকাতায় যান ২০১১ সালে।