২২ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এইচআরডব্লিউ নুসরাত হত্যার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চায়

এইচআরডব্লিউ নুসরাত হত্যার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চায়

অনলাইন রিপোর্টার ॥ মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার মূল আসামি অধ্যক্ষ সিরাজসহ জড়িতদের বিচার চেয়ে এ ঘটনায় দ্রুত পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকারবিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি।

তিনি বলেন, ন্যায়বিচার চেয়েছিলেন নুসরাত। এজন্য সাহসী এই মেয়েটিকে ভয়াবহভাবে হত্যা করা হয়েছে। যৌন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কতটা ব্যর্থ তা ফুটে উঠেছে নুসরাত জাহান রাফি হত্যার মাধ্যমে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি ধর্ষণ চেষ্টার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছিলেন নুসরাত। এরপর তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ কারণে কর্তৃপক্ষকে যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত। পুলিশ বলেছে, নুসরাত জাহান রাফিকে (১৮) গত ৬ এপ্রিল ফেনীতে একটি মাদরাসায় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর কমপক্ষে চারজন তাকে জাপটে ধরে এবং গায়ে কেরোসিন ঢেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর আগে গত ২৭ মার্চ নুসরাত মাদরাসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ করেন। ওই মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তার উপর এই হামলা হয়। এতে নুসরাতের শরীরের শতকরা ৮০ ভাগ অংশ পুড়ে যায়। তিনি মারা যান গত ১০ এপ্রিল। এ ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়। যৌন নির্যাতন ইস্যুতে বাংলাদেশের আইন সংস্কার ও প্রয়োগের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এইচআরডব্লিউর নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংগঠনটির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পরিচালক মীনাক্ষি গাঙ্গুলির এসব বিবৃতি দেয়া হয়েছে।

ওই বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে যৌন নির্যাতনের শিকার নারীদের বিষয়ে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে কথাটি জোরালো হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে নির্যাতিতরা নিরাপত্তার সঙ্গে যেন আইনগত সমাধান পান সে বিষয়টিও সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। তাদেরকে প্রতিশোধের শিকার হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পক্ষে মীনাক্ষি গাঙ্গুলির ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ২৭ মার্চ নুসরাত যখন থানায় পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে যান তখনকার একটি ভিডিওতে দেখা যায় অফিসার ইন চার্জ তাকে বলছেন, ‘ঘটনাটি তেমন বড় কিছু নয়’। এর পর পরই অভিযুক্তের সমর্থকরা নুসরাতকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। তার পরিবারের সদস্যরা মিডিয়াকে বলেছেন, হামলার আগে তাদেরকে মামলা তুলে না নিলে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। কিন্তু নুসরাত ন্যায়বিচারের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন।

তার ভাই বলেছেন, ৬ এপ্রিল হামলার পর নুসরাত তার পরিবারকে বলেছেন, হামলাকারীরা প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নেয়ার দাবি জানিয়েছে। তিনি এতে রাজি না হওয়ায় তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে তারা।

কেন হত্যা করা হয়েছে নুসরাত জাহান রাফিকে? আর হত্যার জন্য আগুনই বা কেন বেছে নেয়া হলো, এই প্রশ্নগুলো তুলে ধরা হয়েছে সংস্থাটি থেকে।

ঘটনার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) জানিয়েছে, দুটি কারণে নুসরাতকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রথমত, শ্লীলতাহানির মামলা করে অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করিয়ে নুসরাত আলেম সমাজকে ‘হেয়’ করেছেন। দুই, আসামি শাহাদাত নুসরাতকে বারবার প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করায় সেও নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার পেছনের কারণ হিসেবে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার জানিয়েছেন, হত্যার পরিকল্পনাকারীরা ২০১৬ সালে নুসরাতের চোখে চুন মেরেছিল। তখন মেয়েটির হাসপাতালে চিকিৎসা হয়।

এরপর গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ নুসরাতকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। সেসব ঘটনাই স্থানীয় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তারা সামাল দিয়েছিল। এবারও নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার পর পরিস্থিতি মোকাবিলা করে পার পেয়ে যাবেন বলে ভেবেছিলেন নুর উদ্দিন, শাহাদাত ও অধ্যক্ষ সিরাজ।