২০ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাকেরগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনের বারান্দায় পাঠদান

বাকেরগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনের বারান্দায় পাঠদান

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার চর দাড়িয়াল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বারান্দা ও প্রধানশিক্ষকের কক্ষে চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। এছাড়া বেঞ্চ সংকটে দুইটি ক্লাসের শিক্ষার্থীরা চাটাইয়ে বসে পাঠ গ্রহণ করছে।

সূত্রমতে, বিদ্যালয়ের গোটা ভবনের ভেতর ও বাইরের বিভিন্ন অংশের পলেস্তারা খসে পরেছে। শ্রেণিকক্ষের ভেতরের মূল পিলারেরও পলেস্তারা ধ্বসে পরেছে। ফাঁটল ধরেছে ভবনের বিভিন্নস্থানে। বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে দুঃশ্চিন্তায় থাকতে হয়। মনে হচ্ছে এই বুঝি কোনো দুর্ঘটনা ঘটলো। আমরা শিশুদের নিরাপত্তা দিতে পারছিনা। অন্যদিকে ক্লাসও বন্ধ রাখা যাচ্ছেনা। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ এবং বেঞ্চ সংকটের বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। ভবন নির্মাণ না হওয়ায় নিরূপায় হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বারান্দা এবং বিদ্যালয়ের অন্য ভবনের অফিস কক্ষে চাটাইয়ে বসিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হচ্ছে। স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, বিভিন্ন সময় স্কুল ভবন সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষকে বলা হলেও কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এ কারণে স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারও কমতে শুরু করেছে।

সূত্রমতে, ১৯২০ সালে বাকেরগঞ্জ ২২নং চর দাড়িয়াল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৩ সালে জাতীয়করন করা হয়। ১৯৮২ সালে নির্মিত হয় স্কুল ভবন। তবে এরপর আর ভবনের সংস্কার করা হয়নি। ফলে বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ লাল মিয়া হাওলাদার বলেন, সরকারী হলেও সকল এ বিদ্যালয়টি সকলক্ষেত্রে অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত। শিক্ষকরা তাদের কর্মক্ষেত্রে শিশুদেরকে রীতিমত পাঠদান দিয়ে যাচ্ছে কিন্তু তা সাবলিল রাখতে বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তিতে নেই কোন অগ্রগতি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শফিউল আলম জানান, ভবন ঝুঁকিপূর্ণের বিষয়টি ওই স্কুলের প্রধানশিক্ষক লিখিতভাবে তাকে অবগত করেছেন। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদনটি পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ মজুমদার বলেন, পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। নতুন ভবন নির্মাণ ছাড়া বিকল্প কোনো উপায়ে পাঠদান চালিয়ে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পরেছে। তিনি আরও বলেন, সর্বাধিক ঝুঁকিতে থাকা ও পরিত্যক্ত ভবনের আশপাশে সাময়িক টিনশেডের অবকাঠামো নির্মাণ করে পাঠদান অব্যাহত রাখার প্রক্রিয়া চলছে।