১৯ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে

জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ-২০০৯-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একগুচ্ছ নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করেছেন, যা সার্বিকভাবে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে। এ সবের মধ্যে অন্যতম দেশের ৮টি বিভাগে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, যা হবে সর্বাধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য নিবেদিত। উল্লেখ্য, বর্তমানে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বাদে ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহীতে তিনটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক সারাদেশে মা ও শিশুদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে। এসব কেন্দ্র থেকে ৩০টি মারাত্মক রোগের ওষুধও দেয়া হচ্ছে বিনামূল্যে। সরকারের এই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্ব ব্যাংকসহ বহির্বিশ্বে বিপুল প্রশংসা কুড়িয়েছে। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন দেশে আবহমানকাল ধরে প্রচলিত এ অনুসৃত চিরায়ত চিকিৎসা ও ওষুধপত্রের ওপর, যার মধ্যে রয়েছে ভেষজ, আয়ুর্বেদিক, ইউনানী ও হোমিওপ্যাথি। তবে এসব চিকিৎসা পদ্ধতি অবশ্যই আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত হতে হবে। সেই সঙ্গে ওষুধ ও পথ্য হতে হবে মানসম্মত। একই সঙ্গে দেশে রোগ নির্ণয়সহ আনুষঙ্গিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সর্বাধুনিক প্যাথল্যাব প্রতিষ্ঠাসহ দক্ষ জনবল গড়ে তোলার ওপর যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বিশ্বের স্বাস্থ্যকর দেশের তালিকায় ইতোমধ্যে উঠেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান লেগাটাম ইনস্টিটিউটের দ্য লেগাটাম প্রসপারেটি ইনডেক্স-২০১৮ সালে প্রণীত তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান স্বাস্থ্যসূচীর ১০০ নম্বরে অবস্থান করলেও তা ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে। বিশ্বের ১৪৯টি দেশ নিয়ে প্রকাশ করা হয় এই তালিকা। তালিকায় স্বাস্থ্যসূচকে ভারতের অবস্থান ১০৯ এবং পাকিস্তানের ১২২ নম্বরে। সর্বশীর্ষে অর্থাৎ এক নম্বরে অবস্থান করছে সিঙ্গাপুর। তালিকায় স্বাস্থ্যের পাশাপাশি আরও কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নেয়া হয়। সেগুলো হলো অর্থনৈতিক অবস্থা, বসবাসের পরিবেশ, শাসন ব্যবস্থা, শিক্ষা, নিরাপত্তা, মূলধন ও প্রাকৃতিক পরিবেশ। সবচেয়ে ভাল অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাত, ৬১ নম্বরে।

স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের আরও একটি সাফল্য উল্লেখ করার মতো। সহজে প্রতিরোধ ও নিরাময়যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও সারা বিশ্বে পাঁচ বছরের নিচে বয়সের অন্যতম একটি ঘাতক ব্যাধি হলো নিউমোনিয়া। বাংলাদেশে শুধু ২০১৬ সালেই পাঁচ বছরের নিচে ১৬ হাজার ৬১০ শিশু মারা গেছে নিউমোনিয়ায়, যা হিসাব করলে দাঁড়ায় প্রতি ঘণ্টায় ২টি শিশুর মৃত্যু। উন্নত বিশ্বে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুকে ব্যয়বহুল ও প্রশিক্ষিত জনবলের সাহায্যে কৃত্রিম ভেন্টিলেটরে সচল রাখা হয় শিশুর ফুসফুস। বাংলাদেশের আইসিডিডিআরবির চিকিৎসক-গবেষক ডাঃ মোহাম্মদ যোবায়ের চিশতী উদ্ভাবিত ফেলে দেয়া প্লাস্টিকের শ্যাম্পুর বোতলের মাধ্যমে সচল রাখা হয় শিশুর ফুসফুস। এই পদ্ধতিতে স্বল্প ব্যয়ে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর মৃত্যুহার কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃতিও মিলেছে। অথচ দেশে সরকারীভাবে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় খুব কম, জিডিপির শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ মাত্র। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বাজেট বরাদ্দে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশ হওয়া বাঞ্ছনীয়। প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত প্রতিটি বিভাগে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ সরকারী-বেসরকারী হাসপাতালগুলোর চিকিৎসার মান ও দক্ষতার উন্নয়ন নিশ্চিত হলে সার্বিকভাবে জনস্বাস্থ্য সেবায় ইতিবাচক অবদান রাখবে নিঃসন্দেহে।