১৯ এপ্রিল ২০১৯

নাটকীয় লড়াইয়ে হেরেও সেমিতে টটেনহ্যাম

জাহিদুল আলম জয় ॥ ম্যাচের পরতে পরতে ছিল উত্তেজনা। নাটকীয়তাও কম হয়নি। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগের অল-ইংলিশ লড়াইয়ে ম্যানচেস্টারের ইতিহাদ স্টেডিয়াম সাক্ষী হয়েছে অনন্য সব কীর্তির।

বুধবার রাতে ম্যাচটি ৪-৩ গোলে জিতেও শেষ রক্ষা হয়নি ম্যানচেস্টার সিটি। উল্টো হেরে গিয়েও সেমিফাইনালের টিকেট কেটে নিয়েছে টটেনহ্যাম হটস্পার। অনেকের কাছেই বিষয়টি বিদঘুটে লাগতে পারে। শেষ আটের প্রথম লেগে লন্ডনে নিজেদের মাঠে ১-০ গোলে জিতেছিল স্পার্সরা। ফলে দুই লেগ মিলিয়ে স্কোর দাঁড়ায় ৪-৪। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী প্রতিপক্ষের মাঠে বেশি গোল করার সুবাদে শেষ চারে উঠে গেছে টটেনহ্যাম। আর বিদায় নিতে হয়েছে জয় পাওয়া সিটিকে। এর ফলে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সেমিফাইনালে উঠে এসেছে স্পার্সরা।

পুরো ম্যাচেই নাটকীয়তা ছিল, তবে প্রথম ২১ মিনিট সবকিছু ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ ম্যাচের ৪ থেকে ২১ এই ১৮ মিনিটে দু’দল গোল করেছে ৫টি। এর মধ্যে সিটি ৩ ও টটেহ্যাম ২টি। এরপর একপর্যায়ে সিটিজেনরা এগিয়ে গিয়েছিল ৪-২ ব্যবধানে। এই ব্যবধান ধরে রাখতে পারলে তারাই উঠে যেত সেমিফাইনালে। কিন্তু ম্যাচের ৭৩ মিনিটে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফার্নান্ডো লরেন্টে বিতর্কিত এক গোল করে সিটিজেনদের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দেন। নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার সেমিতে উঠে আসা টটেনহ্যাম ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে ডাচ ক্লাব আয়াক্সকে। দল দু’টির সেমির প্রথম লেগ হবে ৩০ এপ্রিল ও দ্বিতীয় লেগ ৮ মে।

তুমুল উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের প্রথম ১১ মিনিটের মধ্যেই চার গোল হয়েছে। রাহিম স্টার্লিংয়ের গোলে ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে সিটিজেনরা এগিয়ে যাওয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়ান তারকা সন হিউং মিন তিন মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে টটেনহ্যামকে এগিয়ে দেন। এরপর বার্নার্ডো সিলভা ১১ মিনিটে সিটির পক্ষে সমতা ফেরান। ২১ মিনিটে স্টার্লিংয়ের দ্বিতীয় গোলে আবারও এগিয়ে যায় সিটি। বিরতির পর ৫৯ মিনিটে সার্জিও এ্যাগুয়েরোর গোলে পেপ গার্ডিওলার দল ৪-২ গোলে এগিয়ে গিয়ে প্রথমবারের মতো লিড পায়। এই স্কোর বজায় থাকলে সিটিই চলে যেত সেমিতে। কিন্তু ম্যাচের নাটকীয়তা তখনও বাকি। ম্যাচ শেষের ১৭ মিনিট আগে ফার্নান্ডো লরেন্টের বিতর্কিত গোলে টটেনহ্যাম ম্যাচে ফিরে আসে। যদিও ভিএআর প্রযুক্তিতে নিশ্চিতভাবে দেখা গেছে বলটি স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডের হাত স্পর্শ করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোলটি বাতিল না হওয়ায় ম্যাচে ৪-৩ গোলে পরাজিত হয়েও দুই লেগ মিলিয়ে সমতা হওয়ায় এ্যাওয়ে গোলের সুবাদে টটেনহ্যাম সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে।

ম্যাচের যোগ করা সময়েও আরও একবার ভিএরআর স্পার্সদের জন্য ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। এ সময় স্টার্লিং আরেকটি গোল করে হ্যাটট্রিক পূরণ করার পাশাপাশি সিটি শিবিরে উচ্ছ্বাস ফিরিয়ে আনে। কিন্তু সিটিজেনদের ভাগ্য সঙ্গে ছিল না। তাইতো ভিএআরের সহায়তায় গোলটি অফসাইড হিসেবে বাতিল করা হয়। সেই সঙ্গে সিটির স্বপ্নেরও মৃত্যু হয়। আর অভাবনীয়ভাবে বিতর্ক সঙ্গী করে সেরাচারের টিকেট কনফার্ম করে হ্যারি কেনবিহীন স্পার্সরা। এর ফলে সিটির কোচ হিসেবে এ নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লীগ থেকে খালি হাতে বিদায় নিতে হলো গার্ডিওলাকে। যে কারণে ইতোমধ্যেই ইতিহাসে তার ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ভাগ্যদেবীর সহায়তা, গোলরক্ষক হুগো লরিসের দুর্দান্ত নৈপুণ্য সবকিছু ছাপিয়ে ম্যাচে স্পার্সদের মূল নায়ক ছিলেন সন হিউং। মূলত কোরিয়ান এই তারকার নৈপুণ্যেই ইতিহাস গড়তে পেরেছে মউরিসিও পোচেট্টিনোর দল। শেষ আটের প্রথম লেগে দলের জয়ে একমাত্র গোলটি করেছিলেন সন। ফিরতি লেগে প্রতিপক্ষের মাঠে টটেনহ্যাম পিছিয়ে পড়ার পর দুই গোল করে দলকে রেসে ফেরান। দুর্দান্ত ধারাবাহিক নৈপুণ্য দেখিয়ে ১২ গোল করে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ইতিহাসে এশিয়ানদের মধ্যে এখন শীর্ষে সন। এক্ষেত্রে তিনি টপকে গেছেন ডায়নামো কিয়েভের উজবেকিস্তানের তারকা মাক্সিম শাটসখুখকে। দুর্দান্ত মৌসুম কাটানো ২৬ বছর বয়সী সন এ পর্যন্ত করেছেন ২০ গোল।