২৫ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সেমিফাইনালে বার্সিলোনা-লিভারপুল মহারণ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ প্রত্যাশিতভাবে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফুটবলের সেমিফাইনালে উঠেছে লিভারপুল। বুধবার রাতে কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে স্বাগতিক পর্তুগীজ ক্লাব এফসি পোর্তোকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে অতিথি ইংলিশ ক্লাবটি।

এর আগে শেষ আটের প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে ২-০ গোলে জিতেছিল জার্গেন ক্লপের দল। দুই লেগ মিলিয়ে তাই ৬-১ গোলের বিশাল জয় নিয়ে সেমির টিকেট নিশ্চিত করেছে লিভারপুল। এই নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার সেরা চারে উঠেছে দ্য রেডসরা। গত মৌসুমে ফাইনালেও উঠেছিল তারা। কিন্তু শিরোপা লড়াইয়ে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। সেমিফাইনালে অবশ্য কঠিন প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করছে লিভারপুলের। ফাইনালের টিকেট পাওয়ার লড়াইয়ে তাদের খেলতে হবে স্প্যানিশ পরাশক্তি বার্সিলোনার বিরুদ্ধে। ন্যূক্যাম্পে সেমির প্রথম লেগ হবে ১ মে। আর এ্যানফিল্ডে ফিরতি লেগ হবে ৭ মে। ২০০৬-০৭ মৌসুমে শেষ ষোলোর লড়াইয়ের পর এই প্রথম দুই ক্লাব মুখোমুখি হচ্ছে লিভারপুল ও বার্সা। সেবার লিভারপুল এ্যাওয়ে গোলের সুবাদে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল। আর বিদায় নিতে হয়েছিল বার্সাকে। দারুণ এই জয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স লীগের শিরোপা জয়ের স্বপ্নও টিকিয়ে রেখেছে জার্গেন ক্লপের দল। এই নিয়ে টানা ১৭ ম্যাচে অপরাজিত থাকল দ্য রেডসরা। একই সঙ্গে এটি তাদের টানা অষ্টম জয়। পোর্তোর এস্টাডিও দো ডাগাওয়ের বৃষ্টি¯œাত মাঠে ম্যাচের ২৬ মিনিটে সাডিও মানের গোলে এগিয়ে যায় লিভারপুল। যদিও ভিএআর প্রযুক্তির মাধ্যমে গোলটি পেতে লিভারপুলকে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে। প্রথম লেগে এ্যানফিল্ডে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকার সুবাদে এমনিতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল রেডসের হাতে। পাশাপাশি ম্যাচে শুরুতেই এ্যাওয়ে গোল পেয়ে লিভারপুল নির্ভার হয়ে যায়। বিরতির পর মোহাম্মদ সালাহ (৬৫ মিনিট), বদলি রবার্টো ফিরমিনো (৭৭ মিনিট) ও ভার্জিল ফন ডিকের (৮৪ মিনিট) গোলে ব্যবধান আরও বড় হয়। এর মধ্যে ৬৯ মিনিটে স্বাগতিকদের হয়ে সান্ত¡নাসূচক এক গোল করেন এডার মিলিটাও। এক বছর আগে এই মাঠেই লিভারপুলের কাছে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল পোর্তো। সেমিতে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে গৌরবের রেকর্ডের মালিক বনে গেছেন লিভারপুল কোচ জার্গেন ক্লপ। ইংলিশ ক্লাবটির কোচ হওয়ার পর কোন ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার নকআউট পর্ব থেকে বাদ পড়েননি তিনি। বার্সার মুখোমুখি হওয়ার আগে এই রেকর্ড নিশ্চিত করেই আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে লিভারপুলকে। ফাইনালে গেলে ক্লপ জিততে পারেন না। এই ‘অভিযোগ’ বহু পুরনো। চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনাল, ইউরোপা লীগের ফাইনাল, লিভারপুলের কোচ হিসেবে দুই ফাইনালেই হারের অভিজ্ঞতা আছে ক্লপের। কিন্তু ম্যাচের আগে ক্লপের এক রেকর্ড যেমন আশা দিচ্ছে লিভারপুলের সমর্থকদের, এই রেকর্ড দেখে বার্সিলোনার সমর্থকরাও যে একটু চিন্তায় নেই তা বলা যাচ্ছে না। কী সেই রেকর্ড? ফাইনালে হারলেও লিভারপুলের কোচ হওয়ার পর ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ক্লপ কখনও ফাইনালের আগে বাদ পড়েননি।

গৌরবের এই রেকর্ডের শুরু ২০১৬ সালের ইউরোপা লীগ থেকে। সেবার নকআউট রাউন্ডে দুই লেগের লড়াইয়ে একে একে জার্মান ক্লাব অগসবার্গ ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ড, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও স্প্যানিশ ক্লাব ভিয়ারিয়ালকে টপকে ফাইনালে উঠেছিল লিভারপুল। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে সেভিয়ার কাছে হেরে শিরোপা ছোঁয়া হয়ে ওঠেনি তাদের। একই কথা বলা যায় গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ক্ষেত্রেও।