১৯ এপ্রিল ২০১৯

বছরজুড়ে পানি থাকে এমন নদীর সংখ্যা ২৩০টি

  বছরজুড়ে পানি থাকে এমন নদীর সংখ্যা ২৩০টি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশে এক সময় ২৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ছিল। এখন তা ৩ থেকে ৫ হাজার কিলোমিটারে ঠেকেছে। সরকার ইতোমধ্যে নদী দখলমুক্ত অভিযান শুরু করেছে। অভিযানের মধ্য দিয়ে কতটুকু নদী উদ্ধার হয় এই পরিসংখ্যান থেকে তুলনা করে বুঝা যাবে। নদী দূষণ ভয়াবহ মাত্রায় রুপ নিয়েছে। বছরজুড়ে পানি থাকে দেশে এমন নদীর সংখ্যা ২৩০টি।

শুক্রবার বেসরকারী সংগঠন গ্রীন ভয়েস’র ১৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় যাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে তারা এসব মতামত তুলে ধরেন। বুড়িগঙ্গা-ধলেশ^রী-তুরাগ ও শীতলক্ষ্যাসহ সকল নদী দখল-দূষণ মুক্ত ও নদীর স্বাভাবিক গতি প্রবাহ নিশ্চিত করার দাবীতে এই মানববন্ধন কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়।

বক্তারা বলেন, নদী মাতৃক বাংলাদেশ প্রধানত গঙ্গা-বহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর পলি মাটি দিয়ে গঠিত একটি বদ্বীপ ভূমি। নদী শুধু আমাদের মাটি ও পরিবেশের শতকরা আশি ভাগের জন্মদাত্রীই নয়, অনাদিকাল থেকেই প্রতিমুহুর্তে নদীর পানি দ্বারাই আমাদের সবুজ-শ্যামল প্রকৃতি, জীবন ও মানুষ সিঞ্চিত হচ্ছে। এক সময় দেশে নদীর সংখ্যা ছিল প্রায় দেড় হাজার। প্রতিটি নদী ছিল প্রশস্ত, গভীর ও পানিতে টইটুম্বুর, বর্ষাকালে প্রমত্তা। সারা বছর নাব্যতা থাকে তেমন নদীর সংখ্যা ২৩০টি।

বক্তারা বলেন, গঙ্গা-পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও বরাক-মেঘনানদী এবং তাদের উপনদী, শাখানদী ও অন্যান্য সীমান্ত অতিক্রান্ত নদী মিলেই দেশের মুলনদী নেটওয়ার্ক গঠিত। বাস্তবতা হচ্ছে, আমরা আজ ব্যাপক নদী বিপর্যয়ের শিকার। বর্তমান নদীগুলোর মধ্যে ১৭টি একেবারেই নদীর চরিত্র হারিয়ে শুকিয়ে মৃত্যুর দ্বার প্রান্তে রয়েছে। সর্বোচ্চ ১০০ টির সাংবাৎসরিক নৌ-চলাচলের উপযোগী প্রশস্ততা ও পানির গভীরতা রয়েছে। ১৯৭১ সালের তুলনায় শীত কালের মোট নদী পথ প্রায় ৯০ ভাগ হ্রাস পেয়েছে।

বক্তারা বলেন, পানি প্রত্যাহার ইত্যাদি ছাড়াও ৫৭টি সীমান্ত অতিক্রান্ত নদীর প্রতিটির উপর বিশেষত ভারত বা চীনের স্থাপনা, বাঁধ, জল বিদ্যুৎ প্রকল্প, পানি প্রত্যাহার, পাহাড় কাটা, গাছ কাটার ফলে এসব নদীর নাব্যতা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে, অনেক গুলো শুকিয়ে মৃত প্রায়। নদীর পাড় ও পানির যে কোনটির অবক্ষয়ই শেষ পর্যন্ত নদীর পানিকে দূষিত করে, নদী ভরাট হয়। শিল্প-কারখানার বর্জ্য, রাসায়নিক সার, কীটনাশক দ্রব্য, নৌ-যান নিসৃত ময়লা, বর্জ্য ও তেল; বেআইনী দীর্ঘ স্থায়ী জৈব দূষক পদার্থ, শহুরে বর্জ্য, পলিথিন ব্যাগ, প্লাষ্টিক দ্রব্যাদি; দখলদারদের বর্জ্য, হাসপাতাল বর্জ্য, মানুষ ও পশু-পাখিরমল-মূত্র, মৃতদেহ; নদী ভাঙ্গনের মাটি, গাছ-গাছালিরপাতা ও কচুরিপানা, ভাঙ্গা নৌযান, মাছধরা ও নির্মাণ সামগ্রী, কারখানা নিঃসৃত গরম পানি ইত্যাদি নদী দূষণের প্রধান কারণ বলে উল্লেখ করেন তারা। নদী রক্ষায় সংগঠনের পক্ষ থেকে অব্যাহত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে বক্তারা বলেন, এই আন্দোলনে সারাদেশের যুব সমাজ সম্পৃক্ত হচ্ছে। নদী রক্ষা আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে সকল নদীর স¦াভাবিক গতি প্রবাহ নিশ্চিত করতেই হবে।

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, আমরা সারা বছর নদী রক্ষায় আন্দোলন করে আসছি। যারা নদী দখলের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করা এবং তাদের এই জঘণ্য অপরাধের বিরুদ্ধে দূর্বার অন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। নারী ধর্ষক অপরাধীদের মত নদী খেকো দখলকারীদের কেও বিশেষ ট্রাইবুনালের মাধ্যমে বিচার করতে হবে।

মিহির বিশ^াস বলেন, নদী উদ্ধারে সরকার আমাদের দাবী মেনে নিলেও বাস্তবায়নে সেরূপ সাফল্য আসেনি। সরকারের অনেক নীতি পরিবেশবান্ধব এটা আমরা লক্ষ করেছি। কিন্তু জনগণ সেই সুবিধা পাচ্ছে না। একচেটিয়াভাবে নদী দখল হয়ে যাচ্ছে। যা আগে ২৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ছিল এখন তা ৩ থেকে ৫ হাজার কিলোমিটারে ঠেকেছে। বর্তমান সরকার কতটুকু নদী উদ্ধার করে তা এই পরিসংখ্যান থেকে তুলনা করে বুঝা যাবে। নদী দূষণ ভয়াবহ এবং ভূগর্ভস্থ পানির পরিমাণ ও কমে গেছে। এমতাবস্থায় ভূপৃষ্ঠের পানি যথোপযুক্ত সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

গ্রীন ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা আলমগীর কবির এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, বিশিষ্ট লেখক বুদ্ধিজীবি সৈয়দ আবুল মকসুদ, সঞ্চালনা করেন গ্রীন ভয়েসের যুগ্ম সমন্বয়ক হুমায়ন কবির সুমন, বক্তব্য রাখেন, বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক, শাহজাহান মৃধা বেনু, স্থপতি ইকবাল হাবীব, জাকির হোসেন, বিধান চন্দ্র পাল, শুভ কিবরিয়া, অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার, আবুল বারাকাত , ইবনুল সাইদ রানা, রুস্তম আলী খোকন, আব্দুস সাত্তারসহ প্রমুখ।