২৪ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সদিচ্ছা থাকলে অর্জন সম্ভব

দেশের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও বিদেশ ভ্রমণকালে বাংলাদেশ বিমানের টিকেট কাটতে অনেকেই দ্বিধা করতেন। ফ্লাইট শিডিউলে অনিয়ম, মানহীন যাত্রীসেবা ইত্যাদি নেপথ্য কারণ অস্বীকার করার নয়। তবে পরিস্থিতির যে ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে, বিমান আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে- এই বাস্তবতা মানতেই হবে। বৃহস্পতিবার জনকণ্ঠের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বিগত ১০০ দিনে বিমানের অগ্রযাত্রার চিত্র। বিমানের দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ৪ জনকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। অযোগ্যদের সরিয়ে যোগ্যদের দায়িত্বে নিয়ে আসা হচ্ছে। খোঁজা হচ্ছে যোগ্য এমডি। এখন প্রথম লাগেজ মিলছে ১৭ মিনিটে। ইমিগ্রেশান শেষ করা যায় তিন মিনিটে। বিমানবন্দরে নেই টানা পার্টির দৌরাত্ম্য। পেছনে ফেলে আসা লাগেজ পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে যাত্রীর ঘরে। বাতিল করার পথে বিতর্কিত পাইলট নিয়োগ প্রক্রিয়া। এসব পর্যবেক্ষণ করে বলা যায় যে, সদিচ্ছা থাকলে যে অর্জন সম্ভব- এ সত্য আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। উল্লেখ করা যেতে পারে জাতীয় আরেকটি প্রতিষ্ঠান অনেকখানি পেছনের দিকে চলে গেছে প্রধানত দুর্নীতির কারণে। সংযোগ থেকে বিতরণ, বিল আদায় থেকে ব্যাংকে টাকা স্থানান্তর তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির সবখানে শুধু দুর্নীতিই পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি নিয়ে দুদক কমিটির অনুসন্ধানে ভয়ঙ্কর এমন দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বিদ্যুত জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর কাছে বুধবার অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনটি পাঠানো হয়।

অপরদিকে বেসরকারী বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর কণ্ঠে মিলেছে আত্মবিশ্বাসের সুর। তিনি বলেছেন, ‘একশ দিনের কর্মসূচী হিসেবে অন্য যে কোন মন্ত্রণালয়ের তুলনায় বেসরকারী বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অর্জন সবচেয়ে বেশি। অমানিশার অন্ধকার কাটিয়ে বিমান এখন আলোকবর্তিতা। সামনে অপেক্ষায় রৌদ্র করোজ্জ্বল ঝলমলে সকাল।’

প্রসঙ্গত, ক্রমবর্ধমান এভিয়েশন খাতের বিপরীতে আগামী বিশ বছরের চাহিদা মাথায় রেখে নেয়া হয়েছে শাহজালাল সম্প্রসারণের তৃতীয় প্রকল্প। এ জন্য উদ্ধার বরা হয়েছে প্রভাবশালী মহলের দখলে থাকা বিপুল পরিমাণ জমি। বিভিন্ন স্থাপনাও অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। স্বপ্নের থার্ড টার্মিনালের দরপত্র মূল্যায়নের কাজ শেষের পথে। সেপ্টেম্বরের আগেই দেয়া হবে কার্যাদেশ। দেশের আরও ৫টি বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের কাজও চলছে ধুমতালে।

সামগ্রিকভাবেই যে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে তার একটি উদাহরণ দেশে এই টোটাল বা সম্পন্ন ও পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ। একদিন বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর কাতারে চলে আসবে বাংলাদেশের বিমানবন্দরসমূহ- এমন আকাক্সক্ষা অমূলক নয়। তবে বিশ্বের আস্থা অর্জন করার জন্য পাড়ি দিতে হবে অনেকটা পথ। শুধু টার্মিনাল তৈরি ও আধুনিক সুবিধার পথ রচনাই বড় কথা নয়, সকল পর্যায়ে মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করা এবং সেটির ধারাবাহিকতা রক্ষা করাই হলো আসল চ্যালেঞ্জ। যে কোন দেশের যে কোন নাগরিক এসে যদি বিমানবন্দরে তার কাক্সিক্ষত মানসম্পন্ন সেবাটুকু পায়, সে যদি সন্তুষ্ট হয় তাহলেই একটি বিমানবন্দরের সফলতা আসতে পারে, তা নইলে নয়। যাত্রীসেবাই হলো প্রধান বিবেচনা; তার ভেতরে নিরাপত্তা হলো প্রথম শর্ত।

দেশের মানুষ প্রত্যাশা করে আমাদের বিমান সুনাম বজায় রেখে সামনের দিনগুলোয় আরও এগিয়ে যাবে। দেশের যাত্রী তো বটেই, বিদেশের যাত্রীরাও তাদের আকাশযাত্রায় প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেবেন বাংলাদেশ বিমানকেই, এমন দিন আসবেই- এই প্রত্যয় আর অবাস্তব নয়।