২৫ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নৌপথ খনন করে পর্যটন খাত বিকশিত করা হবে

  • সেমিনারে প্রতিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খনন করে পর্যটন খাতকে বিকশিত করা হবে। আগামী ১০ বছরে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী শুক্রবার রাজধানীর একটি পাঁচতারা হোটেলে রিভারস এ্যান্ড ওয়াটার ট্যুরিজম ইন বাংলাদেশ : অপরচুনিটিজি এ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেছেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যটনের সঙ্গে অর্থনীতির সম্পর্ক রয়েছে। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে এক সময় বাংলাদেশের মানুষ পর্যটন নিয়ে ভাবতো না। এখন বাংলাদেশের মানুষ সেই জায়গায় নেই। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন বেশ শক্তিশালী। পর্যটন নিয়ে এখন মানুষের চিন্তার পরিবর্তন ঘটেছে।

প্রসঙ্গত, এখন দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটকরা বছরব্যাপী দেশের প্রসিদ্ধ স্থানগুলোতে ভ্রমণ করেন। এর সঙ্গে দেশের বাইরের পর্যটকদের কাছে নদ-নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলে ধরতে পারলে আকৃষ্ট করা সম্ভব। এছাড়া পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত এবং বিশে^র সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন রয়েছে আমাদের। যা প্রচারের অভাবে বিশে^র পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারছে না। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং ভ্রমণ বিষয়ক ম্যাগাজিন ‘ভ্রমণ’ যৌথভাবে এই সেমিনারটি আয়োজন করে। এতে নদীমাতৃক বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও বেশি বেশি প্রচারের আহ্বান জানান সংশ্লিষ্টরা। একা সরকার নয় এ খাতের সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান বক্তারা।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যটনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে কতটুকু তুলে ধরতে পেরেছি- তা এখন নতুন করে চিন্তা করতে হবে। বিদেশের সম্পর্কে জানি বলে বিদেশ ভ্রমণে আমাদের আগ্রহ বেশি। আমরা অনেকেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ভবন দেখেছি, আবার অনেকেই দেখতে যেতে পারিনি। কিন্তু বিদেশীরা ঠিকই বঙ্গবন্ধুর ভবনে যান, তারা বঙ্গবন্ধুর কর্মকান্ড দেখেন। তারা জানতে পারেন, বঙ্গবন্ধু কিভাবে দেশের স্বাধীনতার নেতৃত্ব দিয়েছেন। খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে হবে। বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। নদীপথের সৌন্দর্য আমরা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারিনি। এখন চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন খরা, দুর্ভিক্ষ ও দারিদ্র্য নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। নিজেদের অর্থে আমরা পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে সরকারের চ্যালেঞ্জ ছিল বিদ্যুতের উন্নয়ন, সেটাতে আমরা সফল হয়েছি। এবারের চ্যালেঞ্জ হলো নদী। নদী তীর দখল ও দূষণরোধে কাজ করছি। ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ তৈরি করা হবে। নৌপথ তৈরির উদ্দেশ্য হলো পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটানো। নৌপথ থাকলে পর্যটক আসবে। বাংলাদেশের মানুষের সক্ষমতা আছে, তাদের রুচির ও পছন্দের পরিবর্তন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে চিনেছেন, তিনি বিশ্বকে দেখেছেন চিনেছেন। পর্যটন শিল্পের বিকাশে সরকার কাজ করছে। খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নদীগুলোকে নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ ভাবছে, নদীগুলোকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে- এটা আমাদের বড় অর্জন। পর্যটনের বিষয়টি মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। তিনি পর্যটন খাতের বিকাশে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের কারণেই নদীগুলো ধ্বংস হচ্ছে। বুড়িগঙ্গাকে বাঁচাতে চেষ্টা করছি। মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী আগামী ১০ বছরের মধ্যে বুড়িগঙ্গাকে একটি ভাল অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই। উচ্ছেদ অভিযান অবৈধ দখলদারদের জন্য একটি মেসেজ। নৌপরবিহন সচিব মোঃ আবদুস সামাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যান প্রণয় কান্তি বিশ্বাস, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর এম মাহবুব উল ইসলাম, ভ্রমণ ম্যাগাজিনের উপদেষ্টা নওয়াজিশ আলী খান, হোটেল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আলমগীর এবং বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আখতারুজ জামান খান কবির।