২৫ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজধানীতে নতুন ১২১ বাস বে ও স্টপেজ নির্মাণ করা হচ্ছে

  • পুরনো যে স্থাপনাগুলো আছে সেখানে যাত্রীরা যাচ্ছেন না, বাসও আসে না

মশিউর রহমান খান ॥ রাজধানীতে যত্রতত্র বাস থেকে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করতে ১শ’ ২১ স্থানে বাস বে ও বাস স্টপেজ নির্মাণ করছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের সুপারিশক্রমে এসব বাস বে ও স্টপেজ নির্মাণ করা হচ্ছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাস স্টপেজ ছাড়া যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করতে ও চলন্ত অবস্থায় বাসের দরজা বন্ধ রাখতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গবর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিট কর্তৃক সুনির্দিষ্ট সুপারিশ মালার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে ডিএমপির পাশাপাশি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকেও দায়িত্ব প্রদান করা হয়। ইউনিটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংস্থা দুটিকে গত বছরের ২০ আগস্ট পর্যন্ত সময়সীমাও বেঁধে দেয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় শেষে এ সিদ্ধান্ত এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ। কিছু স্থানে বাস স্টপেজ ও বাস বে নির্মাণ করা হলেও যাত্রীরা যাচ্ছেন না এবং বাস চালকরা নির্ধারিত স্থানে বাস থামাচ্ছেন না।

অপরদিকে গত বছরের সেপ্টেম্বরে মহানগরীতে চলাচলরত সকল বাস কেবল এসব স্টপেজেই যাত্রী ওঠাতে-নামাতে পারবেন এই ঘোষণা দেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জমান মিয়া। একইসঙ্গে পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রস্তাবিত বাস বে ও স্টপেজগুলো কার্যকর করা হবে বলে ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত এই ঘোষণা কার্যকর করতে পারেনি ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। তাদের মতে এসব স্থানে বাস বে নির্মাণের জন্য অনেক আগেই সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু সব স্থানে এখনও বাস বে ও স্টপেজ নির্মাণ করতে পারেনি ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে জরিপ করে এসব স্থান চিহ্নিত করে। এরপর ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে এসব স্থানে বাস বে ও বাস স্টপেজ নির্মাণের জন্য ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে বাস স্টপেজ ও বাস বে নির্মাণ করতে অনুরোধ করা হয়। অথচ গত ৮ মাসেও ১শ’ ২১ বাস স্টপেজ ও বে নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেনি দুই সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। সিটি কর্পোরেশনের ভাষ্য কাজ চলমান রয়েছে।

ডিএনসিসি ও ডিএমপির সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত বিজয় সরণি, আগারগাঁও উত্তর, আগারগাঁও দক্ষিণ, খেজুরবাগান, কাওরান বাজার, ইন্দিরা রোড, মোহাম্মদপুরের মাদার কেয়ার, মানিক মিয়া এভিনিউ, আসাদগেট, কলেজগেট, শিশুমেলা, শ্যামলী, মাজার রোড, গাবতলী আন্ডারপাসের সামনে, সড়ক ও জনপথ, কল্যাণপুর, মোহনা, টেকনিক্যাল, এশিয়া হল, গাবতলী গরুর হাটের সামনে, কাকলী উত্তর, কাকলী দক্ষিণ, নতুন বাজার উত্তর, নতুন বাজার দক্ষিণ, কুড়িল চৌরাস্তা, বসুন্ধরা গেট, নদ্দা, শাহাজাদপুর, উত্তর বাড্ডা, বাড্ডা লিংক রোড, মধ্য বাড্ডা, মেরুল বাড্ডা, রামপুরা ব্রিজ, রামপুরা বাজার ও নদ্দার কালাচাঁদপুরে বাস স্টপেজ চালু হয়েছে। এর বাইরে ডিএমপি ফার্মগেটের ফুটওভার ব্রিজের নিচে ও আনন্দ সিনেমা হল দুটি বাস বে চালু করেছে।

পুলিশের প্রস্তাবনা অনুযায়ী জিমার্ট, সনি সিনেমা হল, আল্লাহর দান হোটেল-খালেক মার্কেট, মুক্তবাংলা, মিস্কো মার্কেট, মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বরের চারপাশের চারটি, মহাখালী ক্রসিংয়ের উত্তরে, মহাখালী কাঁচা বাজার, হাউজ বিল্ডিং ক্রসিং, আব্দুল্লাপুর ক্রসিং, হোটেল রেডিসন পূর্ব, হোটেল রেডিসন পশ্চিম, জোয়ার সাহারা পূর্ব, জোয়ার সাহারা পশ্চিম, খিলক্ষেত পূর্ব, খিলক্ষেত পশ্চিম, কাওলা পূর্ব, কাওলা পশ্চিম, এয়ারপোর্ট পূর্ব, এয়ারপোর্ট পশ্চিম, জসীমউদ্দীন পশ্চিম ও সøুইচগেট এলাকায় বাস বে ও স্টপেজগুলো এখনও নির্মাণ করতে পারেনি। এছাড়া গুলশান-১, গুলশান-২ ডিসিসি মার্কেট, গুলশান-২’র ১১৩ নম্বর রোড, গুলশান-১’র ১৩৫ নম্বর রোড, বনানী ৪ নম্বর রোড, বনানী ২৩ নম্বর রোড, গুলশান-২’র ৪৬ নম্বর রোড, গুলশান-১ ডিসিসি মার্কেটের পশ্চিমে, গুলশান-১ ইন্টারসেকশনের পূর্ব ও পশ্চিমে, চেয়ারম্যান বাড়ী, গুদারাঘাট, রাজলক্ষ্মী হোটেলের পূর্ব ও পশ্চিমে, আজমপুর পূর্ব ও পশ্চিম, বাড্ডা থানা ক্রসিং, কুড়াতলী ইনকামিং ও আউটগোয়িং, ইসিবি চত্বরের পূর্ব ও পশ্চিমে, আমতলী ক্রসিং, বটতলা, সাতরাস্তা, নাবিস্কোর গ্রামীণফোন সেন্টারের সামনে, নাবিস্কোর টিভিএস শো রুমের সামনে, মিরপুর-১৪, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২, কালশী, কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, গুলশান-২ ক্রসিং, বনানী ক্রসিং, আসাদ এভিনিউ ও মিরপুর রোডের আড়ং সিগন্যালের প্রস্তাবিত বাস স্টপেজগুলো এখনও পর্যন্ত বাস বে ও স্টপেজ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারেনি ডিএমপি ও ডিএনসিসি।

ডিএনসিসি কর্তৃক অনেক বাস বে ও স্টপেজ নির্মাণ করা হলেও সেগুলোর বেশিরভাগই ব্যবহার করছে না বাস কোম্পানি ও যাত্রীরাও। কাওরান বাজার, ফার্মগেট, বাংলামোটর, গাবতলী, টেকনিক্যাল, শ্যামলী, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে বাস না থেমে আশপাশের সিগন্যালগুলোতে থামতে দেখা গেছে। ফলে এসব স্থানে বিশৃঙ্খলভাবে বাসের জন্য অপেক্ষা করেন যাত্রীরা। যাত্রীদের অভিযোগ, নির্ধারিত স্থানে বাস থামে না তাই যাত্রীরা যত্রতত্র বাসে উঠার জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তাই সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাস স্টপেজ ও বেগুলো অতিদ্রুত নির্মাণ করা এবং বাস কোম্পানিদের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা। যাতে স্টপেজে বাস থামে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মীর রেজাউল আলম জনকণ্ঠকে বলেন, রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা রাজধানীর ১শ’ ২১ বাস বে ও স্টপেজ নির্মাণের জন্য ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনকে স্থান উল্লেখ করে তালিকাসহ সুপারিশ করেছি। তালিকা অনুযায়ী অনেক স্থানে বাস বে ও স্টপেজ নির্মাণও করা হয়েছে। অনেক স্থান বেশ কার্যকর রয়েছে। কিছু স্থান কার্যকর করতে পুলিশ কাজ করছে। এছাড়া কিছু স্থানে হকার সমস্যা রয়েছে। কিছু স্থানে নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। সমস্যা সমাধানে হকারদের সঙ্গে ইতোমধ্যেই কয়েক দফা আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি অতিদ্রুতই সকল বাস বে ও স্টপেজ নির্মাণ কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। যাত্রী ও পথচারীদের সুবিধার্থেই এসব বাস স্টপেজ নির্মাণ করা হচ্ছে।

নির্ধারিত স্থানে বাসে যাত্রী ওঠানামা করা গেলে রাজধানীর সড়কে অনেকটা শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব হবে। এর বাইরেও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সবাইকে নিয়ে আমরা অতি গুরুত্বের সঙ্গেই কাজ করছি। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে তিনি সমাজের সব স্তরের লোকদের সহযোগিতা কামনা করেন।