২১ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইতালি ভাল লাগছে না রোনাল্ডোর!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই উড়ে বেড়াচ্ছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো। পর্তুগীজ এই সুপারস্টার নিজ দেশের ক্লাব স্পোর্টিং সিপি থেকে প্রথমে আসেন ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। সেখানে ২০০৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত কাটিয়ে নাম লেখান স্প্যানিশ পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদে। গালাক্টিকো শিবিরে ২০১৮ সাল পর্যন্ত থেকেই মূলত ক্যারিয়ারের সেরা পারফর্মেন্স দেখিয়েছেন সিআর সেভেন।

এরপর গত বছর অনেকটা আচমকাই নাম লেখান ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়ন জুভেন্টাসে। কিন্তু মাত্র এক বছরের ব্যবধানেই নাকি ইতালি ভাল লাগছে না পাঁচবারের ফিফাসেরা তারকার। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে তার দল জুভেন্টাস বিদায় নেয়ার পর নাকি রোনাল্ডো ইতালি ছেড়ে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের উদ্ধৃতিতে এমনই জানা গেছে। ডাচ ক্লাব আয়াক্সের কাছে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ থেকে জুভেন্টাসের বিদায়টা ইউরোপিয়ান ফুটবলে বড় রকমের ধাক্কাই দিয়েছে। ধাক্কার বেশিটা গেছে জুভেন্টাসের ওপর দিয়ে। সিরি’এ শিরোপা স্কুডেট্টো নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলা ইতালিয়ান জায়ান্টদের এখন আর লীগ শিরোপা দিয়ে মন ভরে না। প্রয়োজন চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ট্রফি। এ কারণেই রোনাল্ডোকে দলে ভেড়ায় তারা। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায়ের পর ইতালিয়ানদের একটাই প্রশ্ন, কী লাভ হলো এত অর্থ ঢেলে রোনাল্ডোকে এনে!? একই প্রশ্ন সম্ভবত ঘুরপাক খাচ্ছে রোনাল্ডোর মনেও। যে চ্যালেঞ্জ জয়ের উদ্দেশ্যে স্পেন ছেড়ে ইতালিতে আসা তা কোয়ার্টার ফাইনালেই শেষ। কী লাভ হলো তুরিনে এসে? দু’পক্ষের দ্বন্দ্ব-সংশয় এক সুতোয় গেঁথে দিয়েছে ইতালিয়ান পত্রিকা লা রিপাবলিকা। তাদের বৃহস্পতিবারের সংস্করণ বেশ নাড়া দিয়েছে জুভেন্টাস ভক্তদের। তাদের প্রতিবেদনে ভবিষ্যত বাণী করা হয়েছে, চ্যাম্পিয়ন্স লীগ থেকে বিদায়ের খেসারত জুভেন্টাসকে দিতে হবে রোনাল্ডোকে ছেড়ে দেয়ার মাধ্যমে।

২০২২ পর্যন্ত রোনাল্ডোর সঙ্গে চুক্তি আছে জুভেন্টাসের। লা রিপাবলিকা বলছে, ওই সময় পর্যন্ত ইতালিতে থাকার ধৈর্য হবে না পর্তুগীজ মহাতারকার। হয়তো সর্বোচ্চ আরেকটা মৌসুম দেখবেন। সেটির ফলাফলও যদি হয় এ মৌসুমের মতো, তাহলেই শেষ। নতুন চ্যালেঞ্জের খোঁজে নেমে পড়বেন সিআর সেভেন। চাইলেই যে রোনাল্ডোকে ছেড়ে দেবে জুভেন্টাস সেটিও না। কারণ ১২০ মিলিয়ন খরচ করে আনা খেলোয়াড়, বিনিয়োগের টাকাটাও উসুল করে নেয়া দরকার। সেই উসুলটা হবে কীভাবে? লীগ জয়ের মাধ্যমে? সেটা তো জুভেন্টাস গত সাত মৌসুম ধরে টানা করে চলেছে, রোনাল্ডোকে ছাড়াই। ফিওরেন্টিনার বিপক্ষে লীগের পরবর্তী ম্যাচটা ড্র করলেই ঘরে আসবে টানা অষ্টম স্কুডেট্টো। এই লীগ শিরোপা এখন খুব একটা আনন্দ দেয় না ক্লাব সমর্থকদের। চাইলেও অবশ্য কোয়ার্টার থেকে বিদায়ের দায়টা রোনাল্ডোর ঘাড়ে দিতে পারছে না জুভরা। আয়াক্সের বিপক্ষে দুই লেগেই গোল করেছেন তিনি। দ্বিতীয় রাউন্ডে তো তার হ্যাটট্রিকেই উড়ে যায় এ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। অর্থাৎ রোনাল্ডো যেখানে স্রোতের বিপরীতে একা লড়ছেন, বাকিরা গা ভাসিয়ে দিয়েছেন সেই স্রোতেই। রোনাল্ডোকে আটকাতে জুভেন্টাসকে তাই কিছু পরামর্শ দিয়েছে আরেক ইতালিয়ান পত্রিকা লা গ্যাজেট্টা ডেল স্পোর্ট। পত্রিকাটির পরামর্শ, জুভ কর্তারা কিছু সময়ের জন্য হলেও যেন বসেন তার সঙ্গে। প্রয়োজনে কিছু খেলোয়াড়ও না হয় অদল-বদল করা যেতে পারে রোনাল্ডোর পরামর্শে। পাঁচবার ইউরোপ সেরা ফুটবলার। চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয়ের ব্যাপারে তার চেয়ে ভাল পরামর্শ আর কেইবা দিতে পারবেন। তবে বর্তমানে যে অবস্থা রোনাল্ডো ঠিকই বুঝতে পেরেছেন জুভেন্টাসে তাকে সঙ্গ দেয়ার মতো ফুটবলার তেমন নেই। শেষ ষোলোর প্রথম লেগে হারের পর ফিরতি লেগে রোনাল্ডো অবিশ্বাস্য হ্যাটট্রিক করে জুভেন্টাসকে কোয়ার্টারে তোলেন। এখানেও দুই লেগেই গোল করেছেন রোনাল্ডো। কিন্তু সতীর্থরা কিছুই করতে পারেননি। একা একা আর কতই বা করা যায়। এসব কারণে রোনাল্ডো ইতালি ছাড়তে চাইলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।