১৪ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গিদারিতে রবিদাস মুচির জমি দখল করে উচ্ছেদের অপচেষ্টা

গিদারিতে রবিদাস মুচির জমি দখল করে উচ্ছেদের অপচেষ্টা

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা ॥ গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের দক্ষিন গিদারী গ্রামের কাউন্সিলের বাজার এলাকায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির রবিদাস (মুচি) সম্প্রদায়ের শ্রী জগলাল রবিদাসের ১৫ শতাংশ জমি একই গ্রামের আব্দুল করিম ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন থেকে জবর দখল করে ওই পরিবারটিকে উচ্ছেদের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

সর্বশেষ অসহায় ওই রবিদাস পরিবারটিকে উচ্ছেদ করে তার জমি ও বসতবাড়ি দখল করার লক্ষ্যে বসতবাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা, মারপিট, বৃক্ষ নিধন, ছিনতাই এবং শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটায় একই গ্রামের আব্দুল করিম ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ওই রবিদাস সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে মৃত পুর্ণ রবিদাসের ছেলে শ্রী জগলাল রবিদাস বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় ১১জনকে আসামি করে একটি মামলা (নং ৪১, তারিখ ১৮ এপ্রিল, ধারা-২৪৩, ৪৪৭,৩২৩, ৩২৬, ৩০৭, ৩৫৪, ৩৭৯, ৪২৭, ৫০৬ ও ১১৪) দায়ের করে। মামলা করার পর আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং মামলা তুলে নেয়ার জন্য ওই রবিদাস পরিবাটিকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে।

এব্যাপারে গাইবান্ধা জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ পরেশ চন্দ্র সরকার, সাধারণ সম্পাদক রনজিৎ বকসি সূর্য্য, সহ-সভাপতি দীপক কুমার পালসহ জেলা ও উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ তীব্র ক্ষোভ নিন্দা জ্ঞাপন করে অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে এ বিষয়টি নিয়ে গত ১১ এপ্রিল গাইবান্ধা সদর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপজেলা আওয়ামী কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার পাল রবিদাস সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতনের বিষয়টি সভায় উপস্থাপন করেন এবং জমি সংক্রান্ত আপিল মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত যেন অবৈধভাবে তাদের উচ্ছেদ করে তাদের জমি জবর দখল করতে না পারে সেব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানান। উত্থাপিত বিষয়ে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার রেজুলেশনে উল্লেখ করা হয়, যাতে গিদারীতে জগলাল রবিদাসের জমি কেউ জবর দখল করতে না পারে এবং এ নিয়ে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে সে ব্যাপারে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ও গিদারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন। এতদসত্ত্বেও গিদারীতে ওই রবিদাস পরিবারের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে এবং এতে ৬ জন আহত ও তাদের বসতবাড়ি ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়।