২১ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দুর্যোগে করণীয়

দুর্যোগ বলে-কয়ে আসে না। দুর্যোগ তো কেবল প্রাকৃতিক নয়, দুর্ঘটনাবশতও মানুষ দুর্যোগে পতিত হয়। দুর্যোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দুর্যোগকবলিত হলে যেন ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা যায় সে জন্য সব সময় সতর্কতা অবলম্বনই বুদ্ধিমানের কাজ। আমাদের মানসিকতা এমন যে, সব দায় সরকারের ওপর চাপিয়ে আমরা এক ধরনের স্বস্তি ও শ্লাঘা অনুভব করি। এক্ষেত্রে বরং আত্মসমালোচনাও জরুরী। দুর্যোগ প্রতিরোধে আমার পক্ষ থেকে আমি কী উদ্যোগ নিয়েছি- এমনটা একটিবারের জন্যও কি আমরা ভেবে দেখি? ভবন মালিকদেরও ভূমিকা থাকে। তাঁর মালিকানাধীন ভবনটি ভূমিকম্প সহনীয় কিনা, সেখানে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা আছে কিনা- এসব হলো প্রাথমিক শর্ত। দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় এটুকুও বহু ভবন মালিক পূরণ করেন না।

প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের সভায় কিছু নির্দেশনা দেন। সেগুলো আমরা জানি না এমন নয়। জেনেও যেন অন্ধকারে থাকি। শুনেও গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ না করে উপেক্ষা করে যাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অগ্নিকা-, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সব সময় সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি দুর্যোগ ও দুর্ঘটনা মোকাবেলায় জনসচেতনতা সৃষ্টিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, কোন দুর্ঘটনা ঘটলে কী কী করণীয় সেসবের প্রচার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান করবে। কোন দুর্যোগ এলে জাতীয় পর্যায়ে আমাদের করণীয় কী? যেসব নির্দেশনা আছে তার ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে। এছাড়া দুর্যোগ ও দুর্ঘটনায় ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়েও সবাইকে নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আমরা আশা করতে পারি প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানের মর্মার্থ সবাই অনুধাবনে সক্ষম হবেন।

ভূমিকম্প এমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যার পূর্বাভাস আগে থেকে জানা যায় না। এ ছাড়া একে আটকানোর কোন পথও নেই। এ অবস্থায় সচেতনতা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া ছাড়া কোন গত্যন্তর নেই। বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ অনেক দূর অগ্রসর হলেও এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ভূমিকম্পকে মোকাবেলা করার মতো প্রস্তুতিতে আমাদের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। যথেষ্ট প্রস্তুতি থাকলে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো যায়। আর এ জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। জাতীয় উদ্যোগ নিতে হবে ভূমিকম্পের সময় ও তারপর কী করণীয় সে সম্পর্কে মানুষকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে। ভূমিকম্প মোকাবেলায় প্রয়োজন সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারাভিযান। মানুষকে বোঝাতে হবে যে, ভূমিকম্প হলে উত্তেজিত না হয়ে সাবধানে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ভূমিকম্প মোকাবেলায় তৈরি মাইক্রোজোনেশন ম্যাপ অনুসরণে বাড়ি তৈরির পরামর্শ এসেছে বৃহস্পতিবারের সভায়- এটি ভাল খবর।

প্রসঙ্গত, বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করার পরিকল্পনা অবশ্যই নিতে হবে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে আগে তালগাছ বা খেজুর গাছ বজ্রপাত থেকে মানুষকে রক্ষা করত। এখন গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এবং শহরাঞ্চলে গাছের ডালপালা ছেটে ফেলায় বজ্রপাতের ক্ষতির ঝুঁকি বেড়ে গেছে। তাই মোবাইল ফোনের টাওয়ার ছাড়াও যেসব টাওয়ার বেশ উঁচু সেগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আর্থিংয়ের মাধ্যমে বজ্রপাত থেকে মানুষ রক্ষা পেতে পারে।

যে বাড়িতে আমরা থাকি এবং যে কর্মস্থলে আমরা কাজে নিযুক্ত থাকি উভয় ভবনে দুর্যোগ প্রতিরোধে কী কী ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে সেটি জানা জরুরী। যে দুর্যোগই আসুক না কেন তথ্য জানা থাকলে এবং নিজের অবস্থান ও করণীয় সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকলে নিজে এবং অন্যদের দুর্যোগ থেকে রক্ষা করার পথ সুগম হবে- এতে কোন সংশয় নেই।