২১ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাগেরহাটে ২ শিশু ধর্ষণ : মাদ্রাসা অধ্যক্ষসহ গ্রেফতার গ্রেফতার ৩

বাগেরহাটে ২ শিশু ধর্ষণ : মাদ্রাসা অধ্যক্ষসহ গ্রেফতার গ্রেফতার ৩

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট ॥ বাগেরহাটের রামপালে ও ফকিরহাটে পৃথক ঘটনায় দুই শিশু ধর্ষনের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার সকালে ও শুক্রবার রাতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ ৩ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। উভয় ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। শনিবার উভয় ভীকটীমের ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।

রামপালে ১০ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাগেরহাটের ডিবি পুলিশ শনিবার সকালে শরাফপুর কারামতিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ওলিয়ার রহমানকে গ্রেফতার করেছে। এদিকে, ফকিরহাটে ৩ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত আরমান শেখকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আরমান উপজেলার বাহিরদিয়া গ্রামের হাবি শেখের ছেলে।

ফকিরহাটে ধর্ষনের শিকার শিশুটির বাবা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে আরমান। পরে মেয়েটি অসুস্থ হলে তার মা ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে তৎক্ষনিক খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এলাকাবাসী জানান, বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং শুক্রবার রাতে অভিযুক্ত আরমানকে আটক করে।

ফকিরহাট মডেল থানার ওসি আবু জাহিদ শেখ বলেন, এ ঘটনায় মেয়েটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। শনিবার দুপুরে শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষা বাগেরহাট সদর হাসপাতালে সম্পন্ন এবং আসামিকে আটক করা হয়েছে।

অপরদিকে, রামপাল থানার ওসি লুৎফর রহমান বলেন, গত ১১ এপ্রিল রাতে মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে তুলে নিয়ে একটি ঘরে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়। রামপাল উপজেলার শরাফপুর গ্রামের লুৎফর শেখের ছেলে মুদি দোকানী ফেরদৌসের (১৮) নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায় বলে জানা যায়।

এ ঘটনায় তার মামা বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। আমরা প্রধান আসামি মুদি ব্যবসায়ী ফেরদৌস শেখ এবং মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ওলিয়ার রহমানকে আটক করেছি। ফেরদৌস শেখ রামপাল উপজেলার শরাফপুর গ্রামের লুৎফর শেখের ছেলে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বাকি আসামিদেরও আটকের চেষ্টা চলছে। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ওলিয়ার রহমান ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। শনিবার গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে বলে ওসি লুৎফর রহমান জানান।

মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, হোস্টেলের যে কক্ষে মেয়েটি ছিল, ঘটনা জানার পরে ওই কক্ষের অন্য মেয়েদের তাদের পরিবারের লোকজন বাড়ি নিয়ে গেছে। তারা এ ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় জানান, মেয়েটির বাড়ি নওগাঁ জেলায়। ফকিরহাটে নানা বাড়িতে থেকে রামপাল উপজেলার একটি মাদরাসার ছাত্রী নিবাসে থেকে পড়াশোনা করত। মাদরাসার সামনের মুদি দোকানি ফেরদৌসের সঙ্গে মেয়েটির পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে গত ১১ এপ্রিল রাতে মুদি দোকানি মেয়েটিকে একটি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে।

এরপর গত বৃহস্পতিবার (১৯ এপ্রিল) মেয়েটি ফকিরহাটে গিয়ে তার মামাকে বিষয়টি জানালে পরদিন তারা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে ফেরদৌসকে গ্রেফতার করা হয়।

তবে এ বিষয়ে মাদরাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি গাজী বোরহান উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি শোনার পর, কে ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। পরে তিনি এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবি করেন।