২০ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আজ পবিত্র শব-ই-বরাত

আজ পবিত্র শব-ই-বরাত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শব-ই-বরাত। ইসলামের ইতিহাসে এই রজনীকে মহিমান্বিত হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। ইসলামী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রাতে আল্লাহ তাঁর বান্দার দিকে দৃষ্টি দেন। বান্দার গোনাহ মাফ করে দেন। কেউ কেউ এই রজনীকে ভাগ্য রজনী হিসেবেও অভিহিত করে থাকেন। তবে, ভাগ্য রজনী হিসেবে অভিহিত করা নিয়ে আলেম সমাজে দ্বিমত রয়েছে। অধিকাংশ আলেম সমাজ একমত যে, এই রাতে আল্লাহ তাঁর বান্দার গোনাহ মাফ করে দেন।

রবিবার দিবাগত রাতে শব-ই-বরাতের মহিমা শুরু হবে। পবিত্র রমজান শুরু হওয়ার আগে শাবান মাসের মধ্য রজনীকে লাইলাতুল বরাত হিসেবে ধরা হয়। ১৪ শাবান দিন শেষে সন্ধ্যা থেকে রাতটি বান্দার কাছে হাজির হয়। যথাযথ মর্যাদায় অধিকাংশ মুসলমান এই রাতে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের আশায় ইবাদত- বন্দেগী করে থাকে। বিভিন্ন ইসলামী ও ধর্মীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে লাইলাতুল বরাতের রাতে ইবাদতের জন্য বিশেষ কর্মসূচী নেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদ লাইলাতুল বরাত উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে পবিত্র শব-ই-বরাতে দেশের অব্যাহত অগ্রগতি, কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্যের প্রার্থনা করেছেন। একই সঙ্গে দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শব-ই-বরাত মুসলমানদের জন্য এক মহিমান্বিত ও বরকতময় পবিত্র রজনী। মাহে রমজান ও সৌভাগ্যের আগমনী বারতা নিয়ে পবিত্র লাইলাতুল বরাত প্রতিবারের ন্যায় এবারও আমাদের মাঝে সমাগত।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে শান্তির ধর্ম ইসলামের চেতনাকে ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনের সব স্তরে প্রতিষ্ঠা এবং পবিত্র শব-ই-বরাতের মাহাত্ম্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানব কল্যাণ ও দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশ এবং বিশ্বের সকল মুসলমানকে পবিত্র শব-ই-বরাত উপলক্ষে আন্তরিক মোবারকবাদ জানান। বলেন, সৌভাগ্যের এই রজনী মানবজাতির জন্য বয়ে আনে মহান আল্লাহ্র অশেষ রহমত ও বরকত। এই রাতে তিনি ক্ষমা প্রদর্শন এবং প্রার্থনা পূরণের অনুপম মহিমা প্রদর্শন করেন। ইসলামী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবজাতিকে আল্লাহ্তা’য়ালার বিশেষ অনুগ্রহ ও ক্ষমা লাভের অপার সুযোগ এনে দেয় পবিত্র এই রজনী। নফল রোজার পাশাপাশি আল্লাহর নৈকট্য ও ক্ষমা লাভের লক্ষ্যে মুসলিমরা রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগী করেন।

শব-ই-বরাত লাইলাতুল বরাত নামেও পরিচিত। আরবী শব্দ লাইলা অর্থ রাত। আবার ফার্সী শব্দ শব অর্থও রাত। আর বরাত অর্থ ভাগ্য। এজন্য এ রাতকে ভাগ্য রজনী বলা হয়। শাবান মাসের ১৪ তারিখের এ রাতকে নাজাতের রাত হিসেবে অভিহিত করা হয়। এ রাতে সৃষ্টিকর্তার কাছে পাপ থেকে মুক্তি কামনা করে প্রার্থনা করা হয়। এ রাতে অনেকেই নফল নামাজ, কোরান তেলাওয়াত, দোয়া করে থাকেন। এছাড়া বাবা-মাসহ আত্মীয়দের কবর জিয়ারত ও দোয়া করেন অনেকেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুসলমানদের জীবনে আল্লাহ্ যে তিনটি রাতকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন শব-ই-বরাত তার অন্যতম। পবিত্র রমজানের সিয়াম সাধনা বা আত্মসংযমের প্রস্তুতি হিসেবেই রাতটি মুসলমানদের কাছে এসে থাকে। শব-ই-বরাতের রাতে ইবাদত-বন্দেগী ও আল্লাহ্র দরবারে পানাহ চাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় রমজানের প্রস্তুতি। এ রাতের ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- বরকতময় এ রাতে মুমিনদের প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ বর্ষিত হয়। আল্লাহ তাঁর মাখলুকাতের দিকে বিশেষ নজরে তাকান।

এ রাতের গুরুত্ব সম্পর্কে আরও জানা যায়- ৬২৪ খ্রিস্টাব্দের এদিনে মদিনা মুনাওয়ারার উপকণ্ঠে প্রিয়নবী হজরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতরত অবস্থায় জেরুজালেমের বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে মুখ ফিরিয়ে মক্কার বায়তুল্লার দিকে মুখ করে সালাত আদায়ের ওহি লাভ করেন। সেই থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সালাত আদায়ের এ প্রথা কার্যকর। এছাড়া ওই বছরের এদিনেই মাহে রমজানের সিয়াম পালনের বিধান জারি করা হয়।

এদিকে পবিত্র লাইলাতুল বরাত উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিশেষ কর্মসূচীও নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাতব্যাপী ইবাদত-বন্দেগীর আয়োজন করেছে। এসব ইবাদত-বন্দেগীর মধ্যে রয়েছে কোরান তেলাওয়াত, হামদ-নাত, ওয়াজমাহফিল, মিলাদ, কিয়াম, জিকির, দোয়া ও বিশেষ মুনাজাত।

এদিকে দেওয়ানবাগ দরবার শরীফের পক্ষ থেকেও এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আজ বাদ মাগরিব হতে ফজর নামাজ পর্যন্ত দেওয়ানবাগ দরবার শরীফে বিশেষ আশেকে রাসুল সাঃ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে মিলাদ মাহফিল, নফল নামাজ, মোরাকাবা, মোশাহেদা, ইবাদত-বন্দেগীসহ বিশেষ আশেকে রাসুল (সাঃ) অনুষ্ঠানে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হবে।

এদিকে পবিত্র শব-ই-বরাতের পবিত্রতা রক্ষা ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন নিশ্চিত করতে আতশবাজি, পটকাবাজি, অন্যান্য ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন এবং ফোটানো নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সোমবার ভোর ৬টা পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।