২১ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাগেরহাটে দুই শিশু ধর্ষণ, মাদ্রাসা অধ্যক্ষসহ গ্রেফতার ৩

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট ॥ রামপাল ও ফকিরহাটে দুই শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার সকালে ও শুক্রবার রাতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ ৩ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। উভয় ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। শনিবার উভয় ভিকটীমের ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। রামপালে ১০ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাগেরহাটের ডিবি পুলিশ শনিবার সকালে শরাফপুর কারামতিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ওলিয়ার রহমানকে গ্রেফতার করেছে। এদিকে, ফকিরহাটে ৩ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত আরমান শেখকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। আরমান উপজেলার বাহিরদিয়া গ্রামের হাবি শেখের ছেলে। ফকিরহাটে ধর্ষণের শিকার শিশুটির বাবা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে চকলেট দেয়ার প্রলোভন দিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে আরমান। পরে মেয়েটি অসুস্থ হলে তার মা ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে তাৎক্ষণিক খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এলাকাবাসী জানান, বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং শুক্রবার রাতে অভিযুক্ত আরমানকে আটক করে। ফকিরহাট মডেল থানার ওসি আবু জাহিদ শেখ বলেন, এ ঘটনায় মেয়েটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। শনিবার দুপুরে শিশুটিকে ডাক্তারী পরীক্ষা বাগেরহাট সদর হাসপাতালে সম্পন্ন এবং আসামিকে আটক করা হয়েছে।

অপরদিকে, রামপাল থানার ওসি লুৎফর রহমান বলেন, গত ১১ এপ্রিল রাতে মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে তুলে নিয়ে একটি ঘরে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়। রামপাল উপজেলার শরাফপুর গ্রামের লুৎফর শেখের ছেলে মুদি দোকানী ফেরদৌসের (১৮) নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামা চাপা দেয়ার চেষ্টা চালায় বলে জানা যায়।

এ ঘটনায় তার মামা বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। আমরা প্রধান আসামি মুদি ব্যবসায়ী ফেরদৌস শেখ এবং মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ওলিয়ার রহমানকে আটক করেছি। ফেরদৌস শেখ রামপাল উপজেলার শরাফপুর গ্রামের লুৎফর শেখের ছেলে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদেরও আটকের চেষ্টা চলছে। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ওলিয়ার রহমান ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। শনিবার গ্রেফতারকৃতদের আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে বলে ওসি লুৎফর রহমান জানান।

মাদ্রাসার কয়েক শিক্ষার্থী জানায়, হোস্টেলের যে কক্ষে মেয়েটি ছিল, ঘটনা জানার পরে ওই কক্ষের অন্য মেয়েদের তাদের পরিবারের লোকজন বাড়ি নিয়ে গেছে। তারা এ ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় জানান, মেয়েটির বাড়ি নওগাঁ জেলায়। ফকিরহাটে নানা বাড়িতে থেকে রামপাল উপজেলার একটি মাদ্রাসার ছাত্রী নিবাসে থেকে পড়াশোনা করত। মাদ্রাসার সামনের মুদি দোকানী ফেরদৌসের সঙ্গে মেয়েটির পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে গত ১১ এপ্রিল রাতে মুদি দোকানী মেয়েটিকে একটি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর গত বৃহস্পতিবার (১৯ এপ্রিল) মেয়েটি ফকিরহাটে গিয়ে তার মামাকে বিষয়টি জানালে পরদিন তারা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে ফেরদৌসকে গ্রেফতার করা হয়।

তবে এ বিষয়ে মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি গাজী বোরহান উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি শোনার পর, কে ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। পরে তিনি এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবি করেন।

বালিয়াকান্দিতে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণ, ধর্ষক আটক ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা ফরিদপুর থেকে জানান, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে টাকার লোভ দেখিয়ে এক ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকালে পুলিশ অভিযুক্ত ধর্ষক চিত্ত প্রামাণিক ওরফে চিত্তরঞ্জন (৪৫) কে গ্রেফতার করেছে। ওই ছাত্রী উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে অধ্যায়নরত।

জানা যায়, উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের সোনাইকুড়ি গ্রামের মৃত জগন্নাথ প্রামাণিকের ছেলে চিত্ত প্রামাণিক ওরফে চিত্তরঞ্জন তাকে বিভিন্ন সময় টাকা দেয়ার নাম করে ডেকে নিয়ে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিত। দশদিন আগে একইভাবে বাড়ির অদূরে মেহগনি বাগানের ভেতর ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। এর পরে আবারও সে ধর্ষণের সুযোগ খুঁজে ও চেষ্টা চালায়। পরে আমি বিষয়টি অভিভাবকদের জানাই।

ওই ছাত্রীর পিতা জানান, তার স্কুল পড়ুয়া কিশোরী কন্যাকে কুপ্রস্তাব দেয়াসহ ধর্ষণের বিষয়টি জানার পর শনিবার সকালে বালিয়াকান্দি থানায় মামলা দায়ের করেছি।