১৯ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্যাম্পাস স্মৃতি ॥ স্মরণীয় সেই দিনগুলো

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি খ্যাত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় ২০১৫ সালের ২৮ মার্চ মুখরিত হয়েছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ভর্তি প্রক্রিয়া শেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের (৪৪ ব্যাচ) প্রথম ক্লাস শুরু হয়েছিল। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় বর্ষ পেরিয়ে যেন চোখের পলকে চতুর্থ বর্ষও অতিক্রম করলাম। আমরা ১৪৬০ দিনে (চার বছর) দ্বিতীয় আঁতুড়ঘর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে কত-শত স্মৃতি আর স্বপ্নের ভাঙ্গা-গড়ার সাক্ষী হয়েছি।

কেউ জীবন সঙ্গী খুঁজে পেয়েছে , কেউ বা বন্ধুর অনুপ্রেরণা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাবার সাহস পেয়েছে, কেউ বা বন্ধুদের সহযোগিতায় সাংগঠনকি দক্ষতা অর্জন করেছে। অর্জন আর প্রাপ্তির যেন শেষ নেই। তবে অপ্রাপ্তির সংখ্যাও নেহাতই কম নয়। এত চাওয়া-পাওয়ার মাঝেও ক্যাম্পাসের শান্তশিষ্ট, মার্জিত ব্যাচ হিসেবে ৪৪ ব্যাচের সুনাম রয়েছে। সেদিন আড্ডার ফাঁকে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের আবু নোমান জিসান পুরনো কথা মনে করিয়ে দিল, ক্লাস শুরুর কিছুদিন আগে ক্যাম্পাসের ৩৯ ব্যাচের ক্যান্সারে আক্রান্ত নুসরাত জেরিন জিনিয়া আপুর জন্য এই ব্যাচের সদস্যরা চিকিৎসার জন্য দেড় লাখ টাকা সংগ্রহ করে জমা দিয়েছিল। এরপর ২৮ মার্চ আমাদের ক্লাস শুরু হলো। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সকলের ব্যস্ততাও বাড়তে লাগল। বর্তমানে আমরা স্নাতক (সম্মান) চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থী। কিন্তু শত ব্যস্ততাকে পিছনে ফেলে ‘শত ভিড়ে খুঁজে নিস, জাহাঙ্গীরনগর চুয়াল্লিশ’Ñএই স্লোগানকে ধারণ করে গত ২৯ মার্চ (শুক্রবার) উৎসবমুখর পরিবেশে আমরা ৪র্থ বর্ষপূর্তি পালন করেছি। রবি ঠাকুরের ভাষায়, ‘পুরনো সেই দিনের কথা ভুলবি কিরে হায়। ও সেই চোখের দেখা, প্রাণের কথা , সে কি ভোলা যায়। আয় আর একটিবার আয় রে সখা, প্রাণের মাঝে আয়।’ সেদিন যেন প্রাণের মেলা বসেছিল, প্রথম বর্ষের আবহ ফিরে পেয়েছিলাম আমরা। সকালে সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে কেক কেটে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বন্ধু মিশুর জন্য মিলাদ মাহফিল ও মিশু চত্বরে বৃক্ষরোপণ এবং সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, কেন্দ্রীয় মাঠে ৪৪টি ফানুস ওড়ানো সব মিলিয়ে দিনব্যাপী অসাধারণ এক আয়োজন। ক্যাম্পাস জীবনের স্মৃতিতে দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করে অর্থনীতি বিভাগের বন্ধু আসাদুজ্জামান।

অনুষ্ঠানের বিষয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করে সাংবাদিকতা বিভাগের বন্ধু সিফাত আল সাইফ বলে, ৪র্থ বর্ষপূর্তি উদযাপন আমাদের ব্যাচের সম্মিলিত প্রয়াসের বহির্প্রকাশ। আমরা আমাদের ভালবাসা ও বন্ধুত্বের পরিচয় দিতে সক্ষম হয়েছি।

চারুকলার বন্ধুরাসহ অনেকেই রাত জেগে বাঁশ কেটে, মেধা ও সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়ে চুয়াল্লিশ পয়েন্টে একটি নান্দনিক কুটির সৃজন করেছে যা ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ৪৪তম ব্যাচ তাদের নব উদ্দীপনা ও সৃজনশীলতা দিয়ে ক্যাম্পাসের সকল শ্রেণীর মানুষের প্রশংসা কুঁড়াবে এমনটাই প্রত্যাশা।

সনজিৎ সরকার