২০ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হজযাত্রীদের বাড়িভাড়া নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশনা

হজযাত্রীদের বাড়িভাড়া নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশনা

অনলাইন রিপোর্টার ॥ ঘনিয়ে আসছে হজের দিনক্ষণ। আর সৌদি আরবে হজযাত্রীদের জন্য বাড়িভাড়া নিয়ে যেন গড়িমসি না হয় সে লক্ষ্যে বেসরকারি এজেন্সিগুলোকে বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, প্রতিবছর হজ এজেন্সিগুলো বাড়িভাড়া করার ক্ষেত্রে গড়িমসি করে। পরে তারা নির্ধারিত দূরত্ব থেকে দূরে, পাহাড়ের ওপর কিংবা নিম্নমানের বাড়িভাড়া করে। এজন্য মন্ত্রণালয় থেকে আগে-ভাগে বাড়িভাড়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

গত ২১ এপ্রিল এক চিঠিতে এ জরুরি নির্দেশনা জারি করে মন্ত্রণালয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, আসন্ন ১৫ রমজানের মধ্যে বেসরকারি এজেন্সিগুলোকে হজযাত্রীদের জন্য সৌদি আরবে বাড়ি বা হোটেল ভাড়া সম্পন্ন করতে হবে। হজযাত্রীদের জন্য সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে মক্কা ও মদিনায় নির্ধারিত এলাকায় গুচ্ছভিত্তিক বাড়ি বা হোটেল ভাড়া নিশ্চিত করতে হবে।

এতে বলা হয়, এ বছর বাংলাদেশ থেকেই হজযাত্রীদের সৌদি আরবের ‘অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন’ হবে বিধায় সৌদি সরকারের শর্তানুযায়ী একই ফ্লাইটে দুটি বাড়ি বা হোটেলের হজযাত্রী প্রেরণ করা যাবে। সেই কারণে অন্য এজেন্সির সঙ্গে সমন্বয় করে যেন একটি ফ্লাইটে দুটি বাড়ি বা হোটেলের হজযাত্রী যেতে পারে সেভাবে বাড়ি বা হোটেল ভাড়া করতে হবে।

সেখানে আরও বলা হয়, বাড়িবা হোটেল ভাড়া সম্পন্নের আগে কাউন্সিলর হজকে অবহিত করতে হবে। কাউন্সিলর হজ ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দ্বারা বাড়ি বা হোটেল ভাড়া চূড়ান্ত করার আগে সরেজমিন পরিদর্শন করা হবে। কাউন্সিলর হজের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে বাড়ি বা হোটেল ভাড়া চুক্তি সম্পাদন করতে হবে।

বাড়ি বা হোটেল ভাড়া সম্পন্ন করে ফরম ৯ পূরণ করে অনুমোদনের জন্য কাউন্সিলর হজ বরাবর তালিকা দাখিল করতে হবে এবং প্রতিটি ফ্লাইটের কমপক্ষে ৭২ ঘণ্টা পূর্বে হজযাত্রীদের বাড়িভিত্তিক তালিকা আবশ্যিকভাবে সিস্টেমে আপলোড করতে হবে বলেও চিঠিতে বলা হয়েছে।

গতবছর বাংলাদেশি ১০৩টি বেসরকারি এজেন্সি হজযাত্রীদের জন্য সৌদি আরবে নিম্নমানের, নির্ধারিত দূরত্ব থেকে বেশি দূরে এবং পাহাড়ের ওপর বাড়িভাড়া করেছিল বলে অভিযোগ আসে। এ নিয়ে সমালোচনার জন্ম হয়। তবে এবার যেন এ ধরণের অভিযোগ না আসে সেলক্ষ্যে আগে-ভাগেই বাড়িভাড়া সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো: আবদুল্লাহ বলেন, হজ ব্যবস্থাপনাকে অতীতের চেয়ে উন্নততর করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সাথে পরামর্শ গ্রহণ করে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আল্লাহর মেহমানদের ইহরাম পড়া অবস্থায় তাঁদের চোখের পানি দেখতে চান না। যাদের কারণে আল্লাহর মেহমানদের চোখে পানি আসবে তাঁদের ছাড় দেয়া হবে না। তাদের চোখ দিয়ে পানি ঝড়িয়ে ছাড়বো।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সকলের সহযোগিতায় এবারের হজকে অতীতের যেকোন বছরের চেয়ে উন্নত মানের হজ ব্যবস্থাপনায় উন্নীত করার লক্ষ্যে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাবো ইনশাআল্লাহ।

এর আগে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের চূড়ান্ত নিবন্ধন শুরু হয়। এরপর কয়েকদফা সময়সীমা বাড়ানো শেষে গত ১৮ এপ্রিল নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হয়। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধন করে ১ লাখ ২০ হাজার হজযাত্রী।