১৯ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পার্কিং সহায়তায় এ্যাপ

ঢাকার রাস্তায় গাড়ি নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় পার্কিংয়ের ব্যাপারে। রাজধানীতে গাড়ির তুলনায় পার্কিংয়ের জায়গা কম। সবাই রাস্তায় গাড়ি রাখে। সেখানে কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যানজটের কারণে পুলিশ জরিমানা করতে পারে। তারপরও রাজধানীতে যত্রতত্র ইচ্ছেমতো পার্কিং করছেন গাড়িচালক ও মালিকরা। সরকার বা সিটি কর্পোরেশন ঘোষিত প্রধান কিংবা ভিআইপি সড়ক থেকে শুরু করে পুরান ঢাকার অলিগলি কিংবা অতি ব্যস্ততম ফুটপাথ কোনটাই এসব অবৈধ পার্কিংয়ের স্থান থেকে বাদ পড়ছে না। খেয়াল খুশিমতো যখন তখন যে কেউ যে কোন স্থানে গাড়ি থামিয়ে বিশ্রাম নিতেও দেখা যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি রাস্তায় ফেলে রেখে অফিস করেন বা ব্যবসায়িক কাজ সেরে আবার গাড়িতে চড়ে বসেন গাড়ির মালিকরা। পার্কিংয়ের নিয়ম-কানুনের বালাই নেই। অবস্থা দেখে মনে হয়, পুরো রাজধানীই যেন গাড়ি পার্কিংয়ের স্থান। ট্রাফিক আইন সম্পর্কে না জানা ও মানতে আগ্রহ না থাকা, সচেতনতার অভাব, আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া ও রাজনৈতিক প্রভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবৈধ কারপার্কিং করেও যে কেউ পার পেয়ে যায়। এছাড়া সিটি কর্পোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউকসহ সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থার ফাঁকা ও পরিত্যক্ত স্থানে সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবেই এসব অবৈধ কার পার্কিং।

রাজউকের দেয়া তথ্যানুয়ায়ী ঢাকা মহানগর ইমারত (নির্মাণ, উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও অপসারণ) বিধিমালা- ২০০৮ প্রণয়নের পূর্বে যে সব বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে সেগুলোর বেজমেন্টে পার্কিং ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক ছিল না। ফলে মতিঝিল-দিলকুশা এলাকার প্রায় ৯০ ভাগ ভবনেরই পার্কিং সুবিধা নেই। এ সব ভবনে অবস্থিত সরকারী- বেসরকারী অফিসে যাতায়াতকারীদের প্রাইভেটকার রাস্তার দু’পাশে নিয়মিতই অবৈধভাবে পার্কিং করে রাখা হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার মধ্যে মতিঝিলের বাণিজ্যক সেন্টার ও টাওয়ার এবং গুলিস্তানের একাধিক মার্কেটে কর্পোরেশনের নিজস্ব কারপার্কিং সুবিধা রয়েছে; কিন্তু উদ্যোগের অভাবে তা জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। রাজধানীর কোন কোন স্থানে কারপার্কিংয়ের সুবিধা রয়েছে তা নাগরিকদের জানাতে দুই সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে কোন ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয় না। আর এ সুযোগে রাজনৈতিক প্রভাবে অসাধু চক্র রাস্তা ফাঁকা স্থান কিংবা অব্যবহৃত সরকারী-বেসরকারী জায়গাকে কারপার্কিংয়ের জন্য ব্যবহার করে নিত্য যানজটের সৃষ্টি করছে।

ঢাকায় পার্কিং সমস্যা সমাধানে ডিজিটাল পদ্ধতির সহায়তা নিয়ে গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা খুঁজে পেতে সাহায্য করছে একাধিক প্রতিষ্ঠান বেশ কিছুকাল থেকে। মোবাইলে এ্যাপের মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকার পার্কিংয়ের জায়গার সন্ধান দিচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান।

সীমিত আকারে কাজ শুরু হলেও এই জায়গাটিতে সম্ভাবনা রয়েছে বেশ। এর ফলে এলাকার গ্যারেজ এবং ফাঁকা স্থানের স্বত্বাধিকারীরা ভাড়ার বিনিময়ে পার্কিংয়ের স্পেস দেন। উন্নত বিশ্বে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে পার্কিং প্লেস গড়ে তোলা হয়। এমনকি রাস্তার আশপাশে ঘণ্টাভিত্তিক পার্কিংয়ের সুবিধা মেলে। আমাদের দেশে তেমন ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়নি নগর পরিকল্পনার শুরুর দিকে। ইতোমধ্যে গাড়ির সংখ্যাও বহুগুণ বেড়ে গেছে। ফলে উদ্যোগ নিয়েও এর সমাধান করা সম্ভব হয়নি। তবে ‘ইয়েস পার্কিং’-এর মতো এ্যাপভিত্তিক পার্কিংয়ের একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হলে একদিকে গাড়ির মালিকরা যেমন গাড়ি রাখতে পেরে উপকৃত হবেন, অন্যদিকে তেমনি ঢাকাবাসীও কিছুটা হলেও মুক্ত হবেন অসহনীয় যানজট থেকে।