২০ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মিষ্টি কুমড়ার ফলনে নারী কৃষকদের আয় বেড়েছে

সমুদ্র হক ॥ বগুড়ার নিভৃত পল্লীর আফরিনা খাতুন চলতি মৌসুমে শুধু মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করে আয় করেছেন এক লাখ টাকা। মিষ্টি কুমড়া বেচে এত লাভ হবে ভাবেননি। বললেন ‘জমি পড়ে আছিল। ভাবনু মিষ্টি কুমড়ার বীজ লাগাই। ওমা-তরতর করে বাড়্যে উঠলো। বাড়ির আগনেত লাগানু। উটিও ম্যালা মিষ্টি কমুড়া হলো। পাইকাররা কিনে নিয়ে গেল (জমি পড়ে ছিল। ভাবলাম মিষ্টি কুমড়া লাগাই। দ্রুত বেড়ে উঠল। বাড়ির আঙ্গিনাতেও লাগালাম। অনেক কুমড়া হলো। পাইকাররা এসে কিনে নিয়ে গেল।)।’

সবজি আবাদে বগুড়া অনেক এগিয়েছে। গ্রামের নারীও এখন সবজি আবাদে বাড়তি সময় দিচ্ছে। একটা সময় মিষ্টি কুমড়ার কদর বেশি ছিল না। দেখতে অনেকটা বড় এই সবজিকে (মিষ্টি কুমড়া) বলা হতো গরিবের খাবার। আগে মিষ্টি কুমড়ার জন্য বাঁশ ও লগি লাগিয়ে রাখতে হতো। স্থানীয়ভাবে বলা হয় জাংলা। মিষ্টি কুমড়া বেড়ে ওপরে উঠত। এখন আর জাংলার দরকার হয় না। হাইব্রিড জাতের মিষ্টিকুমড়া মাটিতেও ফলে। তথ্য প্রবাহের যুগে মিষ্টিকুমড়ার দ্রব্যগুণ জেনে চিকিৎসকগণ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। মানুষ মিষ্টি কুমড়ার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। প্রতিটি ঘরেই এখন সবজির তালিকায় মিষ্টি কুমড়া যোগ হচ্ছে।

কুমড়া জাতের সবজির নানা গোত্র। লাউ কুমড়া কদু, সবই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। বর্তমানে মাটিতে রোপণ করা মিষ্টি কুমড়া আকারে বড় ও ওজনে বেশি। বগুড়া সদরের কাদিমপুর গ্রামের নারী কৃষক আফরিনা খাতুন (৪৩) বললেন, প্রথমে এক বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমড়ার বীজ বপন করেন। পরিচর্যায় দ্রুত বেড়ে ওঠায় পরে আরও কিছু জমিতে বীজ বপন করেন। এক বিঘা জমিতে এক হাজার কেজি মিষ্টি কুমড়া ফলে। কুমড়াগুলো হালকা সবুজের মধ্যে হলদেটে ও মেটে রঙের। কয়েকটি কুমড়ার ওজন ৪ থেকে সাড়ে ৪ কেজি। গ্রামের কৃষক আজিজার রহমান বললেন, ধানের পাশাপশি শসা ঝিঙ্গা বড়বটি করলা আবাদ করার পর এ বছর মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করেছেন। বাজারে মিষ্টি কুমড়ার চাহিদা আগের চেয়ে অনেক বেশি। মিষ্টি কুমড়া শুধু তরকারিতেই নয় মিষ্টি কুমড়ার হালুয়া অনেক স্বাদের। আফরনিা খাতুন বললেন তার জমির উৎপাদিত মিষ্টিকুমড়া বেচে এক লাখ টাকা আয় করেছেন। এর মধ্যে আবাদের খরচ আছে। তবে খুব বেশি নয়।

চিকিৎসক সামির হোসেন মিশু জানালেন, মিষ্টি কুমড়ার দ্রব্যগুণ অনেক। এর মধ্যে আছে ভিটামিন এ,ই,বি কমপ্লেক্স, পটাশিয়াম, ম্যাঙাগানিজম, জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, ক্যারটিনয়েড। এগুলো এ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ নানা গুণের। হৃদরোগ প্রতিরোধ, চোখের জ্যোতি বাড়িয়ে স্বাস্থ্য রক্ষা, ত্বকের রুক্ষতা কমিয়ে বয়স ধরে রাখাসহ খাবারে যে ক্ষতিকর উপাদান থাকে তা থেকে মুক্ত রাখে।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক নিখিল চন্দ্র জানালেন রবি ও খরিপ মৌসুমে বগুড়ায় সব ধরনের সবজির আবাদ ভাল। এর মধ্যে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এবার টার্গেট করা হয়েছিল ৮৫০ হেক্টর জমি। যা থেকে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭০০ টন। তবে কৃষক এর চেয়ে অনেক বেশি জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করেছে। বিশেষ করে গ্রামের অনেক নারী আঙ্গিনায় ও পড়ে থাকা জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করেছে বেশি। সেই হিসাবে মিষ্টি কুমড়ার উৎপাদন বেশি।