২২ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিশ্ব নেতাদের নিন্দা

  • শ্রীলঙ্কাকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস

শ্রীলঙ্কায় গির্জা, পাঁচতারকা হোটেলসহ অন্তত আট জায়গায় ভয়াবহ সিরিজবোমা হামলার ঘটনায় বিশ্ব নেতারা নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশ্ব নেতাদের পাশাপাশি নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্যাথলিক খ্রীস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস ও মিসরের আল-আজহার মসজিদের প্রধান ইমাম শেখ আহমেদ আল-তৈয়ব। এ ঘটনায় শ্রীলঙ্কাকে সব ধরনের সাহায্য করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। গৃহযুদ্ধের পর গত দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এ হামলায় কমপক্ষে ২৯০ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ব্রিটেন, ডাচ ও মার্কিন নাগরিক রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহতদের মধ্যে জাপানী নাগরিকও রয়েছেন। বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া :

ব্রিটেন ॥ ‘ঐক্যবদ্ধভাবে পাশে দাঁড়ান’- ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে বর্বর এ হামলাকে ‘সত্যিকার অর্থেই ভয়ানক’ বলে বর্ণনা করেছেন। এক টুইটে তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কায় গির্জা ও হোটেলে এ সহিংস কর্মকা- সত্যিই ভয়ানক। এই ন্যক্কারজনক হামলায় যারা হতাহত হয়েছেন তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, কেউ যাতে তাদের বিশ্বাসকে ভয়ে পরিণত করতে না পারে সেটা নিশ্চিত করতে আমাদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধভাবে পাশে দাঁড়ানো উচিত।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ॥ ‘সাহায্যের জন্য প্রস্তুত’- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইটে সব ধরনের সাহায্যের জন্য তিনি প্রস্তুত জানিয়ে বলেন, গির্জা ও হোটেলে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের পক্ষ থেকে শ্রীলঙ্কার জনগণের জন্য আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। আমরা সাহায্যের জন্য প্রস্তুত রয়েছি।

নেদারল্যান্ডস ॥ ‘ভয়ঙ্কর ঘটনা’- শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ হামলার ঘটনা প্রাথমিকভাবে জানার পর নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট বলেন, ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কায় গির্জা ও হোটেলে রক্তাক্ত হামলা ভয়ঙ্কর ঘটনা। তিনি বলেন, বর্বর এই হামলায় যারা হতাহত হয়েছেন তাদের প্রতি এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

পোপ ॥ ‘নিষ্ঠুর সহিংসতা’- গির্জা, পাঁচতারা হোটেলসহ অন্তত আট জায়গায় বোমা হামলার নিন্দা জানিয়েছেন ক্যাথলিক খ্রীস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। ‘ইস্টার সানডে’র ভাষণে তিনি এ হামলাকে ‘অত্যন্ত নিষ্ঠুর সহিংসতা’ বলে নিন্দা জানান। সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে এক জনসভায় প্রায় ৭০ হাজার মানুষের উদ্দেশে ভাষণে ফ্রান্সিস বলেন, আমি এই ভয়ঙ্কর হামলার খবর শুনে খুবই মর্মাহত। বিশেষ করে আজকের এই ইস্টারের দিনে এ হামলা গির্জাসহ অন্যান্য স্থানে সমবেত মানুষের জন্য যে শোক এবং বেদনা বয়ে এনেছে তা খুবই দুঃখজনক। পোপ তার ভাষণে বলেন, আমি প্রার্থনার জন্য জড়ো হওয়ার সময় এমন নিষ্ঠুর সহিংসতার শিকার হওয়া খ্রীস্টান সম্প্রদায় ও অন্যদের প্রতি আমার হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা প্রকাশ করছি। সেন্ট পিটার্স বাসিলিকার ব্যালকনি থেকে কথা বলার সময় পোপ বিশ্বের সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে শান্তির জন্য আহ্বান জানান। তিনি রাজনীতিবিদদেরও নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা পরিহার করার আহ্বান জানান এবং ক্ষুধা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মুখে বিভিন্ন দেশ থেকে পালাতে থাকা শরণার্থীদের স্বাগত জানানোর আহ্বান জানান। এর আগে জেরুজালেমের ক্যাথলিক চার্চ এক বিবৃতিতে জানায়, নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করি এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। এছাড়া হামলাকারীরা যাতে অনুতপ্ত হয় সেজন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে আর্জি জানাই।

মিসরের মসজিদ ॥ ‘কল্পনাও করতে পারি না’- সুন্নি মুসলিমদের প্রাচীন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মিসরের আল-আজহার মসজিদের প্রধান ইমাম শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। শেখ আহমেদ আল-তৈয়ব টুইটারে লেখেন, আমি কল্পনাও করতে পারি না যে, শান্তি ধর্মীয় জমায়েতকে কেউ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে। ওইসব বিকৃত মস্তিষ্কের সন্ত্রাসী সকল ধর্মের শিক্ষার বিরুদ্ধে।

অস্ট্রেলিয়া ॥ ‘সন্ত্রাসী হামলা’- প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন এক বিবৃতিতে বলেন, ইস্টার সানডের সময় সন্ত্রাসী হামলায় যেসব খ্রীস্টান এবং অন্যান্য নিরীহ ব্যক্তি নিহত হয়েছে তাদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া।

নিউজিল্যান্ড ॥ ‘বিপর্যকর’ এক বিবৃতিতে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন বলেন, নিউজিল্যান্ড সব ধরনের সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানায়, গত ১৫মার্চ আমাদের মাটিতে হামলার ঘটনা শুধু আমাদের আত্মার শক্তিকে আরও দৃঢ় করেছে। শ্রীলঙ্কায় গির্জা ও হোটেলে এ ধরনের হামলা ভীষণ বিপর্যয়কর। তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ড সব ধরনের চরমপন্থাকে বাতিল ঘোষণা করছে এবং ধর্ম পালনের স্বাধীনতা এবং ধার্মিক ব্যক্তিদের নিরাপত্তার অধিকারের পাশে দাঁড়াচ্ছে। এ ধরনের নৃশংসতা বন্ধে সম্মিলিতভাবে আমাদের অবশ্যই এর কারণ খুঁজে বের করে তার সমাধান করতে হবে।

পাকিস্তান ॥ ‘লোমহর্ষক’- শ্রীলঙ্কার প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এক টুইটে তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডেতে লোকহর্ষক হামলায় প্রাণহানির তীব্র নিন্দা জানাই।

ভারত ॥ ‘ঠা-া মাথায় হামলা’- সরকারী এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শ্রীলঙ্কায় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। বিবৃতিতে বর্বর এ হামলাকে পূর্বপরিকল্পিত এবং হামলাকারীদের ঠা-া মাথার বলে বর্ণনা করা হয়।

জ্যাঁ-ক্লদ জাঙ্কার ॥ ‘বিশ্বের জন্য দুঃখময় দিন’- ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যাঁ-ক্লদ জাঙ্কার হামলার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং আতঙ্কিত বলে জানিয়েছেন। টুইটে তিনি লেখেন, আমি শ্রীলঙ্কায় বোমায় বহু মানুষের প্রাণহানির খবর শুনে আতঙ্কিত এবং দুঃখিত। আমরা সব ধরনের সাহায্য করতে প্রস্তুত আছি।

ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ॥ ‘ঘৃণ্য কমর্কা-’- এক টুইটে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেন, শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছি। আমরা এ ধরনের জঘন্য কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।

জার্মানি ॥ ‘শত্রুতামূলক হামলা’- জার্মান চ্যান্সেলর এ্যাঙ্গেলা মেরকেল শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টকে এক চিঠিতে শোক প্রকাশ করে লেখেন, ইস্টার উদযাপন করতে জড়ো হওয়া লোকজনের এভাবে ভয়ঙ্কর হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া খুবই বেদনাদায়ক।

রাশিয়া ॥ ‘হতাশাবাদী অপরাধ’- ক্রেমলিনের এক বিবৃতিতে ভøাদিমির পুতিন বলেন, ইস্টার উদযাপনরত মানুষের ওপর ঘৃণ্য ও ন্যক্কারজনক হামলার পরিকল্পনাকারী ও উৎসাহদাতারা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে বলে আশা করি।

ইসরাইল ॥ ‘গভীরভাবে শোকাহত’- ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইসরাইলের জনগণের পক্ষ থেকে নৃশংস হামলায় গভীরভাবে শোকাহত বলে জানান। তিনি বলেন, কঠিন এ সময়ে শ্রীলঙ্কাকে সহায়তা করতে চায় ইসরাইল। সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে বিশ্বকে অবশ্যই একতাবদ্ধ হতে হবে।

দক্ষিণ আফ্রিকা ॥ ‘সন্ত্রাসবাদ রুখে দাঁড়াও’- দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সাইরিল রামাফোসা শ্রীলঙ্কার প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাবে দক্ষিণ আফ্রিকা। এছাড়া স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ টুইট করেন, সন্ত্রাস এবং বর্বরতা কখনই আমাদের হারাতে পারবে না। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোগান বলেন, এটা পুরো মানবজাতির ওপর হামলা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফও শ্রীলঙ্কায় হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন।Ñএএফপি ও গার্ডিয়ান