২৪ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঘরের মাঠে জয় দিয়ে শুরু মৌসুমীদের

  • বঙ্গমাতা আন্তর্জাতিক নারী ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচে আরব আমিরাতকে;###;২-০ গোলে হারালেও বাংলাদেশের খেলায় মন ভরেনি দর্শকের

রুমেল খান ॥ জয়টা অনুমেয়ই ছিল। শুধু প্রশ্ন ছিল কত গোলের ব্যবধানে আসবে এই জয়? প্রতিপক্ষ দলের বিপক্ষে এর আগের পাঁচ বছরে আরেকটি বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় তিনবারের মোকাবেলায় বড় ব্যবধানে প্রতিটি জয় থাকায় ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা ছিল এবারের লড়াইয়ে বড় স্কোরলাইনে জিতবে বাংলার বাঘিনীরা। কিন্তু সোমবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নিজেদের প্রথম গ্রুপ (‘বি’) ম্যাচে বাংলাদেশের মেয়েরা জিতেছে ঠিকই কিন্তু মাত্র ২-০ গোলে। সত্যি কথা বলতে কি, জিতেও স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার পাঁচেক দর্শকদের মন ভরাতে পারেনি বেঙ্গল টাইগ্রেস বাহিনী। তারপরও এই জয়ে শুভসূচনাই করেছে তারা। সেই সঙ্গে ‘বঙ্গমাতা অনুর্ধ-১৯ নারী আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ’ ফুটবল আসরের সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে গেল অনেকটাই। তবে এই হারে এখনও শেষ হয়ে যায়নি পরাজিত দল সংযুক্ত আরব আমিরাত দলের সেমিতে খেলার আশা-সম্ভাবনা। শেষ চারে যাবার স্বপ্ন জিইয়ে রাখতে গেলে তাদের পরবর্তী ম্যাচে (২৪ এপ্রিল) প্রতিপক্ষ কিরগিজস্তানকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে কাজটা এগিয়ে রাখতে হবে। আর এই ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশ মনেপ্রাণে জয় কামনা করবে কিরগিজ দলের। কেননা এই ম্যাচে কিরগিজস্তান জিতলে তো কথাই নেই, এমনকি ন্যূনতম ড্র করলেও লাভ হবে বাংলাদেশের। লাভ বলতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সেমিতে খেলা নিশ্চিত হয়ে যাবে তাদের। সেক্ষেত্রে ২৬ এপ্রিল কিরগিজস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ লড়াই করবে গ্রুপসেরা হওয়ার জন্য।

ম্যাচ শেষে মাঠ ছেড়ে ড্রেসিংরুমে যাবার সময় দর্শকদের উদ্দেশে হাত নাড়ানোর সময় বাংলাদেশ দলের ফুটবলারদের মাঝে কোন উচ্ছ্বাস-আবেগ লক্ষ্য করা যায়নি। দর্শকরাও তেমন সাড়া দেয়নি মৌসুমীদের হাত নাড়ানোকে। অথচ আমিরাত দল যখন ঠিক একই কাজ করল তখন দর্শকরা যেভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সাড়া দিল সেটা ছিল অবাক করার মতো। আমিরাত দল নিশ্চয়ই অবাক হয়ে ভেবেছে, ‘এটা আবার কেমন দেশে এলাম, জেতা দলের চেয়ে হারা দলই দেখছি বেশি অভিবাদন পায়।’

টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাফুফের সভাপতি কাজী মোঃ সালাউদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, সহ-সভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ প্রমুখ।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বাংলাদেশ দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন বলেছিলেনÑ এই আসরে তার দল উপভোগ্য ফুটবল খেলবে এবং বড় ব্যবধানে জিতবে। কিন্তু সোমবার জিতলেও তার দল সে রকম আশানুরূপ খেলা উপহার দিতে পারেনি। পারেনি বেশি গোল করতেও। এ জন্য অবশ্য আমিরাত দলের অতিমাত্রায় ডিফেন্সিভ ফুটবলও দায়ী। কিন্তু বাংলাদেশের ফুটবলাররাও তাদের স্বাভাবিক খেলা উপহার দিতে পারেননি। স্বপ্না, মৌসুমী, সানজিদারা অতিমাত্রায় ড্রিবলিং করতে গিয়ে প্রায়ই বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। পজিশন বুঝতে না পেরে অনেকবার অফসাইডের ফাঁদে পড়ায় এবং কর্নারের সময় সরাসরি পোস্টে বল না ফেলে ছোট পাসে কর্নার করে অঙ্কুরেই আক্রমণ বিনাশ হওয়াতে বেশি গোল করতে পারেনি লাল-সবুজ শিবির। অথচ পুরো ম্যাচে বল পজেশনে রীতিমতো দাপটের সঙ্গেই (৮০%) এগিয়ে ছিল মৌসুমীবাহিনী। কিন্তু বিপক্ষের গোলপোস্টের কাছাকাছি এসে খেই হারিয়েছে তারা। সেই সঙ্গে প্রতিপক্ষ দলের প্রায় দশজনেরই গোলপোস্টের সামনে জটলা করার বিষয়টি তো ছিলই। তবে মিডফিল্ডে মনিকা চাকমা, ডিফেন্সে আঁখি খাতুন, উইংয়ে শামসুন্নাহার সিনিয়রের খেলা ছিল বেশ দৃষ্টিনন্দন। গোলরক্ষক রূাপনা চাকমাকে কঠিন কোন চ্যালেঞ্জই মোকাবেলা করতে হয়নি। তাকে বল ধরার চেয়ে বরং বক্সের অনেক বাইরে এগিয়ে গিয়ে সতীর্থদের সঙ্গে ‘পাস-পাস’ খেলতে দেখা গেছে।

১২ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ দল। প্রায় মাঝমাঠ থেকে দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডার আঁখি খাতুনের লম্বা-উঁচু পাসে বল ধরে নিয়ে বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে আগুয়ান গোলরক্ষক আইয়া ওয়ালিদ মালালাকে পরাস্ত করেন ফরোয়ার্ড সিরাত জাহান স্বপ্না (১-০)। ১৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সহজ সুযোগটাও নষ্ট করেন স্বপ্নাই। গোলরক্ষককে একা পেয়েও তিনি যে শটটি নেন তা সরাসরি গোলরক্ষকের হাতে লাগে। ৩০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যারা। মনিকা চাকমার কর্নারে বক্সে বল পেয়ে হেড নেন কৃষ্ণা রানী সরকার। বল চলে যায় অমিরাতের জালে (২-০)।

প্রথমার্ধ ২-০তে এগিয়ে থেকেই বিশ্রামে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে একাধিক আক্রমণ করেও আর কোন গোল করতে পারেনি বাংলাদেশ দল। শেষ পর্যন্ত থাই রেফারি চাইসায়নিত পাসনা খেলা শেষের বাঁশি বাজালে বড় ব্যবধানে না জেতার অতৃপ্তি নিয়ে বাংলাদেশ এবং অল্প ব্যবধানে হারের ‘তৃপ্তি’ নিয়ে মাঠ ছাড়ে আমিরাত দল।