১৮ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দিন বদলের গান গাইছে যারা

ওরা কিছু দুঃসাহসী তরুণ, অদম্য প্রাণশক্তি নিয়ে বদলে দিতে চাইছে আমাদের পরিচিত পৃথিবী। সবারই বয়স ত্রিশের নিচে, এ বয়সেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সাফল্য ছুঁয়ে তারা এখন প্রস্তুত আরও বড় লড়াইয়ের জন্য। তাদের এই লড়াই কতটা বদলে দেবে আমাদের জীবন সে উত্তর থাকুক সময়ের হাতে, আপাতত আমরা জেনে নেই এমন

কিছু তরুণের গল্প। ধারাবাহিকের দ্বিতীয় পর্ব। লিখেছেন- পপি দেবী থাপা

ফেরি উনওয়ার্দি

এ মুহূর্তে ইন্দোনেশিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ফ্লাইট এবং হোটেল বুকিং ব্যবসায় নেতৃত্ব দিচ্ছে ইন্টারনেটভিত্তিক কোম্পানি ট্রাভেলোকা। যার সহ-প্রতিষ্ঠিতা এবং সিইও তরুণ ফেরি উনওয়ার্দি আজ ই-কমার্সের বিস্তারে ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম আলোচিত চরিত্র। তার এই ট্রাভেলোকা প্রতিষ্ঠার গল্পটি বেশ মজার। প্রুদ ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রী গ্রহণের পর চাকরি ও উচ্চ শিক্ষার জন্য যেতে চেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র। সেবার টিকেট যোগাড় করতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছিল যথেষ্ট। তখনই এ সমস্যা সমাধানে কী করা যায় সে চিন্তা আসে তার মাথায়।

কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক বিধায় স্টার্টআপ ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে ধারণা ছিল আগে থেকেই। ফেরি ভাগ্য পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেন। হার্ভার্ডের শিক্ষা অসমাপ্ত রেখে ফিরে আসেন ইন্দোনেশিয়ায়।

৭ বছর আগে ২০১২তে প্রতিষ্ঠা করেন ট্রাভেলোকা। এক বিলিয়ন ডলারের বেশি পুঁজি নিয়ে যা বদলে দিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার ভ্রমণ এবং হোটেল ব্যবসার চালচিত্র। ট্রাভেলোকা নিয়ে ফেরির পথচলা কিন্তু খুব সহজ ছিল না। তাকে পার করতে হয়েছে অনেক নির্ঘুম রাত। তিনি সব সময় বিশ্বাস করতেন, ‘আপনি যদি মানুষকে সৎ ভাবে ভাল সেবা দেন, মানুষ অবশ্যই আপনার দরজায় কড়া নাড়বে।’ তিনি মানুষের চাহিদা বুঝতে চেষ্টা করেছেন এবং সেভাবেই নিজের কোম্পানিকে সাজিয়েছেন। তার ‘কিলার’ এ্যাপস্টি ডাউনলোড হয়েছে ৪০ মিলিয়নেরও বেশি। বলা হয় এ অঞ্চলে এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় এ্যাপস।

র্স্টাটআপ ও ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট লিজেন্ড বেন হর্জউইটজের গ্রন্থ দ্য হার্ড থিং এ্যাবাউট হার্ড থিংস ফেরির অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি বলেন এই বই থেকে আমি শিখেছি কারোরই উচিত নয় কেবলমাত্র ব্যবসা সম্প্রসারণ বা গ্রাহক বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দেয়া। ব্যবসার স্বার্থেই আপনাকে একটি সঠিক টিম গড়ে তুলতে হবে। কারণ দিন শেষে আমরা একটি কোম্পানি। ভাল সেবা দিতে গেলে চাই একটি সলিড টিম। আর ভাল সেবাই পারে ভাল মুনাফার নিশ্চয়তা দিতে।

আদোয়া আবোআহ্্

ন্যাড়া মাথা, দাগযুক্ত বাঁধনো দাঁতের হাসি নিয়ে আবোআহ্ দেখতে মোটেই আর দশটা সুপার মডেলের মতো নন। তবে এই প্রথম কোন কালো আফ্রিকান সম্পাদক এ্যাডওয়ার্ড এনিনফুলের সম্পাদনায় প্রকাশিত ব্রিটিশ ভোগ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে প্রথমবারের মতো প্রকাশিত তার ছবি তাকে তুলে এনেছে সুপার মডেলের তালিকায়। ঘানাইয়ান পিতার সন্তান আবোআহ্র বেড়ে ওঠা লন্ডনে। তার মতে আমার মতো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে কোন জায়গা ছিল না। আমার সামনে ছিল সীমাবদ্ধতার পাহাড়। এখন তার আত্মবিশ্বাসী উচ্চারণ- আজ আর আমি কোন সীমানার পরোয়া করি না।

পেছনে ফেলে আসা পথ আবোআহ্র জন্য সহজ ছিল না মোটেই। একজন টিনএজার হিসাবে নিজের ত্বক নিয়ে ভুগেছেন বিষণ্ণতায়। একপর্যায়ে ঝুঁকে পড়েন ড্রাগসের দিকে। কথা বলায় ছিল জড়তা, তাই বন্ধ করে দেন কথা বলা। ২০১৫তে মডেলিং ক্যারিয়ারের শুরুতে আত্মহত্যার চেষ্টা করে চার দিন ছিলেন কোমায়। গত ফেব্রুয়ারিতে লন্ডন ফ্যাশন উইকে দেয়া তার বক্তব্যে তিনি ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে যৌন হয়রানি, অন্যায় সুযোগ গ্রহণের যে প্রথা তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহারের যে ধারা তা পরিবর্তনের আওয়াজ তোলেন। আবোআহ্র বাহুতে আঁকা উল্কি নারী শক্তির কথা বলে। কব্জিতে আফ্রো-আমেরিকান কবির পঙ্ক্তি- ‘অল দ্য উইমেন। ইন মি, আর টায়ার্ড।’

ইন্সটাগ্রামে আবোআহ্র প্রথম পরিচিতি- তিনি একজন এ্যাক্টিভিস্ট তারপর মডেল। কাজ করতে চান পিতৃভূমি ঘানায়। বদলে দিতে চান সেখানকার মেয়েদের জীবন। তার আত্মবিশ্বাসী উচ্চারণ- আমি হারিয়ে যাবার জন্য আসিনি।