২১ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কিরীটির ক্যানভাসে শৈশব

  • রবিউল হুসাইন

একটাই জীবন। এক্ষেত্রে যারা ক্রিয়েটিভ মানুষ, তারা তাদের কর্মের মাধ্যমে এক জীবনে বহু জীবনের সন্ধান পান। কিরীটি রঞ্জন বিশ্বাস চিত্রকল্পে তার সুখকর জীবন স্মৃতির তেমনি এক সুরঙ্গ পথ আমাদের সামনে উন্মোচন করেছেন। তিনি নবীন না হলেও প্রবীণ নন। চলার পথে যা কিছু ‘সুন্দর’ তা তিনি ভুলে যাননি। সে কারণেই শিল্পাঙ্গনে তার চলমান প্রদর্শনী নিয়ে জানার জন্য কেউ কোন প্রশ্ন করলে তিনি স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলবেন- ‘স্মৃতি ছাড়া আমার কোন নোটবই নেই’।

স্মৃতির সেই বইটি তিনি মনের ভেতরে খুব যত্নে লালন করেন। ছবি আঁকার পাশাপাশি পরিবার ও ভিন্ন কর্মজীবনের ব্যস্ততা থাকলেও, কেমন করে যেন স্মৃতির পথটি তিনি মনে রাখেন। ছবির জগতে প্রবেশ করলেই বালক বেলার চরিত্রগুলো তাঁর সঙ্গে কথা বলতে শুরু করে। কখন, কীভাবে তারা কিরীটিকে খুঁজে পায়- সে এক রহস্য। শিল্পীর পরিবেশ, প্রতিবেশ সে সবকিছু টের না পেলেও আমরা দেখতে পাই শৈশবে বটের ছায়ায়, বাড়ির আঙ্গিনায়- দুরন্ত সময়ে যারা তার বুকভরে এতকাল ছিল, তারাই কিরীটির ক্যানভাসে ফিরে এসেছে! আমরা অবাক হয়ে দেখি অতি কর্মঠ, অতি ব্যস্ত একজন মানুষ কখন যেন আছন্ন হয়ে আছেন সাধু সঙ্গে বা তার চিন্তায় বাসা বেঁধেছে চিরচেনা নদী অথবা মায়াবি এক রাখাল।

মানুষ বড় হয়, বৃদ্ধ হয়- কিন্তু যদি তাঁকে কেউ জীবনের কথা বলতে বলে, তখন তিনি অবচেতন মনেই বড় কালকে ভুলে গিয়ে শিশুকালকেই ‘জীবন’ বলে বর্ণনার প্রয়াসি হয়। এর ব্যতিক্রম শিল্পী কিরীটিও নন। আতঙ্ক, জটিল ভয় হিসাব-নিকাশ কখনই জীবনের গল্প হয় না- বরং ভয়-ডরহীন দুরন্ত সময়টিকেই মানুষ তাঁর জীবন বলে মেনে নেয়। কিরীটি রঞ্জন বিশ্বাস আমাদের সেই ভয়ের সংস্কৃতি ভুলে জীবনের আনন্দের পথগুলোর সন্ধান দিয়েছেন এবারের প্রদশর্নীতে।