১৯ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মৎস্য ভবন মোড়ে দুর্ঘটনায় রিক্সা চালক ও যাত্রী হত

মৎস্য ভবন মোড়ে দুর্ঘটনায় রিক্সা চালক ও যাত্রী হত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকার মৎস্য ভবন মোড়ে বাসের ধাক্কায় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বাস চাপায় একটি রিক্সার চালক ও যাত্রীর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। আহত হয়েছে এক স্কুল ছাত্রসহ তিন জন। স্বাধীন পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় সামনে একটি বাস, দুটি প্রাইভেটকার ও একটি মাইক্রোবাস দুমড়ে মুচড়ে গেছে। পুলিশ ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি গাড়িই জব্দ করেছে। মূলত যে বাসটির ধাক্কায় দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেই বাসের চালককে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাতটায় মৎস্য ভবনের চাররাস্তা মোড়ে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে রমনা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, তখন সকাল সাতটা বাজে। অফিসে যাওয়ার ব্যস্ততা সবার। রাস্তায় তেমন যানজট ছিল না। ঘটনার সময় সিগন্যাল বাতি জ্বলছিল। এজন্য গাড়িগুলো থেমে ছিল। সারি সারি গাড়ি সিগন্যালে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় মিরপুর থেকে স্বাধীন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুত গতিতে মাওয়ার দিকে যাচ্ছিল। বাসটি সিগন্যাল বাতি অমান্য করে বেপরোয়া গতিতে যাওয়ার সময় সামনে থাকা একটি মিনি বাসকে মারাত্মকভাবে ধাক্কা দেয়। এতে করে সামনের বাসটির পেছনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। দাঁড়িয়ে থাকা মিনি বাসটি পেছন থেকে প্রচ- গতিতে ধাক্কা খেয়ে সামনে থাকা একটি প্রাইভেটকারকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। প্রাইভেটকারটি আবার তার সামনে থাকা আরেকটি প্রাইভেটকারকে পেছন থেকে ধাক্কা মারে। সেটি আবার তার সামনে থাকা একটি মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয়।

প্রচ- ধাক্কা লাগার সময় মিনি বাসটির সামনে থাকা একটি রিক্সা চাপা পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই রিক্সাচালক ও রিক্সার যাত্রী মারা যান। দুর্ঘটনার কারণে পুরো এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সকাল নয়টার দিকে রেকার দিয়ে রাস্তা থেকে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো সরানো হয়। এরপর রাস্তায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

স্থানীয়রা আহত অবস্থায় শরীফ (২০), স্বাধীন পরিবহন বাসের হেলপার নুর আলম (৩০) ও স্কুলছাত্র আয়াত (১২) নামে তিন জনকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। নিহতদের মধ্যে সুমন (২৫) নামে একজনের পরিচয় জানা গেছে। তিনি দুর্ঘটনাকবলিত রিক্সাটির চালক ছিলেন। নিহত অপরজনের পরিচয় জানা যায়নি। অজ্ঞাত ওই পুরুষের বয়স আনুমানিক ৬০ বছর। তিনি রিক্সার যাত্রী ছিলেন।

নিহত সুমন ঢাকার শাহজাহানপুরে থাকতেন। তিনি সকালে রিক্সা নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। সুমনের স্ত্রীর নাম শান্তা। তাদের সংসারে শাহাদত (৫) ও শেফায়েত (৪) নামে দুই ছেলে আছে। নিহত সুমন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। মাসিক তিন হাজার টাকায় বাড়ি ভাড়ায় থাকতেন তারা। পুলিশ স্বাধীন পরিবহন বাসের চালক নজরুল ইসলামকে (৪৩) আটক করেছে। তার বাড়ি বরিশাল জেলার ডুমনী থানায়।