২১ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পদ্মা সেতুর আরও একটি স্প্যান বসল

পদ্মা সেতুর আরও একটি স্প্যান বসল
  • দৃশ্যমান ১৬৫০ মিটার

মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল, জাজিরা থেকে ফিরে ॥ পদ্মা সেতুর ১১তম স্প্যান বসে গেছে। সেতুর ৩৩ ও ৩৪ নম্বর খুঁটির ওপর ‘৬সি’ নম্বর স্প্যানটি মঙ্গলবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে বসানো হয়েছে। তাই এখন সেতু দৃশ্যমান হলো ১৬৫০ মিটার। এখন সেতুটি দূর দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। জাজিরা প্রান্তে একসঙ্গে ৯টি স্প্যান দেখা কষ্টকর। যতদূর চোখ যায় সেতু দৃশ্যমান। এরপরও সেতুই। সকাল ৭টা থেকে স্প্যানটি বসানোর কাজ শুরু হয়। দেশী বিদেশী প্রকৌশলীরা খুব সহজেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি বসিয়ে দেন। স্প্যানটির এক পাশ ৩৪ নম্বর খুঁটিতে লিফটিং ফ্রেম (ঝুলিয়ে রাখার যন্ত্র) এটি ধরে রেখেছে। এখন স্প্যান ‘৬সি’ ও ‘৬ডি’-এর সঙ্গে জোড়া লাগানো হচ্ছে। স্প্যানটি বসে যাওয়ার পর এস আকৃতির সেতুটি বাঁক আরও বেশি দৃশ্যমান হয়েছে। আর এই মহেন্দ্রক্ষণটি প্রত্যক্ষ করেছে পদ্মার চরের বহু মানুষ। বিশাল ওজনের স্প্যানটি এত সহজে খুঁটিতে বসিয়ে দেয়ার এই দৃশ্য কার দেখতে ভাল না লাগে?

পদ্মা পাড়ের জমির আলী এই দৃশ্য দেখে বেজায় খুশি। তিনি বলেন, এমন ভাল লাগার ক্ষণটি এখানে এখন ঘন ঘনই দেখতে পাচ্ছি। সেতু সম্পন্ন হতে আর বেশিদিন লাগবে বলে মনে হয় না। কাজ হইতাছে সমানে। তাই মনে হইতাশে আগামী বছরই সেতু দিয়া চলতে পারুম। দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, ২০২০ সালে ডিসেম্বরে পদ্মা সেতু চালু করা সম্ভব হবে।

এর আগে সোমবার সকালে মাওয়ার কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ভাসমান ক্রেনবাহী জাহাজটি কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে স্প্যানটি ৩৩ ও ৩৪নং খুঁটির সামনে অবস্থান নেয়। তিন হাজার ৬শ’ টন ধারণ ক্ষমতার ‘তিয়ান ই’ নামের ভাসমান ক্রেনবাহী জাহাজটি যথাস্থানে নোঙ্গর করানো হয়। এরপর ক্রেন পাঁজা করে ধূসর রংয়ের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে ও ৩ হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যানটি বসিয়ে দেয়া হয়। এ মাসে এই নিয়ে দু’টি স্প্যান বসল। এই প্রথম খুব অল্প সময় অর্থাৎ ১৩ দিনের ব্যবধানে দু’টি স্প্যান উঠল। এর আগে ১০ স্প্যানটি মাওয়া প্রান্তে গত ১০ এপ্রিল বসানো হয়।

এদিকে মূল সেতুর ২৯৪টি পাইলের মধ্যে ২৫৫টি পাইল সম্পন্ন হয়ে গেছে। বাকি ৩৯টি পাইল খুব অল্প সময়ের মধ্যে স্থাপন করা হবে বলে প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন। সেতুর ৪২টি খুঁটির মধ্যে ২৩টি খুঁটি সম্পন্ন হয়ে গেছে। বাকি ১৯টি খুঁটির কাজও চলছে।

পদ্মা সেতুর দায়িত্বশীল প্রকোশলী হুমায়ুন কবির জানান, সেতুর ২, ৩, ৪, ৫, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ২০, ২১, ২৩, ৩৩, ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪২ নম্বর খুঁটি সম্পন্ন হয়েছে। স্ক্রিন গ্রাউটিং পদ্ধতিতে ৭টি করে পাইল বসেছে বা বসছে ১১টি খুঁটিতে। এগুলো হলো ৬, ৭, ৮, ১০, ১১, ২৬, ২৭, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২ নম্বর খুঁটি।

তিনি জানান, ১ নম্বর পিলারের পাইল ক্যাপ হয়ে পিয়ারের এক লিফট শেষ হয়েছে। ৬ ও ৭ নম্বর খুঁটিতে পাইল ড্রাইভ স¤পন্ন হয়েছে। ১, ৬, ৭ নম্বর খুঁটি আগামী তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন হয়ে যাবে। ৮ নম্বর খুঁটিতে ৭টি পাইলের মধ্যে দুইটি পাইল ড্রাইভ স¤পন্ন হয়েছে। ৯ নম্বর খুঁটির পাইল ক্যাপের কাজ চলছে। ১০ নম্বর খুঁটির পাইল ড্রাইভের কাজ চলছে। ১১ নম্বর খুঁটির কাজ শুরু হয়নি, তবে শীঘ্রই শুরু হবে। ১২ নম্বর খুঁটির পাইল ড্রাইভিংয়ের কাজ চলছে। ২৪ নম্বর খুঁটির পাইল ক্যাপ শেষ। ২৫ নম্বর খুঁটির পাইল ক্যাপ শেষ হয়ে পিয়ারের দ্বিতীয় লিফট হয়েছে। ২৬, ২৭ নম্বর খুঁটি এলাকা বিআইডব্লিউটিএ’র ফেরি ও লঞ্চ চলাচল চ্যানেল। যেখানে এখনো কাজ শুরু হয়নি। তাই ড্রেজিং করে দ্রুত সরিয়ে নেয়া হচ্ছে চ্যানেলটি। এরপরই কাজ শুরু হবে।

২৮ নম্বর খুঁটির ক্যাপের কাজ চলছে। ২৯, ৩০ নম্বর খুঁটির পাইল ড্রাইভিংয়ের কাজ চলছে। ৩১ নম্বর খুঁটির পাইলিং শেষে স্ক্রিন গ্রাউটিং হচ্ছে। ১ নম্বর খুঁটি থেকে ২০ নম্বর খুঁটি পর্যন্ত মাওয়া প্রান্তে আর বাকিগুলো জাজিরায় প্রান্তে।