২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

না’গঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে ১৫ দিনে সাত জনের মৃত্যু

  • চুলা জ্বালানোর ৫ মিনিট আগে জানালা খুলে দেয়ার পরামর্শ

মোঃ খলিলুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ থেকে ॥ নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের বিস্ফোরণের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। এতে অগ্নিদগ্ধে হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিস্ফোরণের কারণে ধ্বংস হচ্ছে একটি গোছানো সংসার। গত ১৫ দিনের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জে পৃথক দুটি স্থানে গ্যাসের বিস্ফোরণের আগুনে একই পরিবারের ৪ জনসহ ৭ জন দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। সর্বশেষ গত ২১ এপ্রিল রাত ৩টায় রূপগঞ্জের ভুলতা ইউনিয়নের সাঁওঘাট এলাকায় গ্যাসের বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় আরও ৩ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অবশ্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফায়ার সার্ভিস বলছে, বন্ধ ঘরে গ্যাসের চুলা জ্বালানোর আগে অন্তত ৫ মিনিট দরজা-জানালা খুলে দিতে হবে। ৫ মিনিট পরে গ্যাসের চুলা জ্বালানো হলে কোন বিস্ফোরণের সম্ভাবনা থাকে না।

জানা গেছে, রূপগঞ্জের সাঁওঘাট এলাকায় রাবেয়া আক্তার মিলি নামের এক আইনজীবীর তৃতীয় তলা বিশিষ্ট ভবনের নিচতলায় ফ্ল্যাটে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণে নিচতলার চারপাশের দেয়াল ভেঙ্গে প্রায় ৫০ থেকে ২০০ ফুট দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে। এ সময় পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ৬ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নিয়ে যায়। এদের মধ্যে শামীম রেজা ও হেলাল বিশ^াস ওরফে রাকিবকে হাসপাতালে নেয়ার পরপরই ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। সোমবার বিকেলে তরিকুল ইসলাম (৩০) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ধারণা করছেন, গ্যাসের হাইপ্রেসারের (উচ্চ চাপ) কারণে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এদিকে গত ৬ এপ্রিল শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার বিসমিল্লাহ টুইনটাওয়ার ছয়তলা ভবনের চারতলার ফাতেমা বেগমের ফ্ল্যাট বাসায় এলপি গ্যাসের চুলায় রান্না করার সময় এলপি গ্যাসের লিকেজ থেকে আগুন ধরে যায়। আগুনে ফাতেমা বেগম, তার বড় ছেলে সাইফ আলী বেগ, মেয়ে ফারিহা আক্তার ফারজানা ও ছোট ছেলে সাফওয়ান আলী দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে একে একে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪-৫ দিনের ব্যবধানে তারা ৪ জনই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এদিকে রূপগঞ্জের ভুলতা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ জানান, রূপগঞ্জের সাঁওঘাটের বাড়িটির নিচতলা বিস্ফোরণে যেভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে তা দেখলে আজব ঘটনা বলে মনে হয়। এমন ঘটনা আমি জীবনেও দেখেনি। একই এলাকার নেক্সট এক্সেসরিস লিমিটেডের শ্রমিক রাব্বানী বলেন, পাশের বাড়িতে বিস্ফোরণের সময় আমাদের বাসার একটি সিলিং ফ্যান কাঁপতে কাঁপতে লোহার হুকসহ নিচে পড়ে যায়। আমি ফ্যানের নিচে না থাকায় রক্ষা পেয়েছি। তিতাস গ্যাসের সোনারগাঁও জোনের ব্যবস্থাপক মফিজুল ইসলাম বলেন, রূপগঞ্জের সাঁওঘাট এলাকায় তিনতলা বাড়ির নিচতলায় বিস্ফোরণটি গ্যাসের কিনা তা এখনও জানতে পারিনি। তবে গ্যাসের সংযোগটি অবৈধ ছিল। তা আমরা বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছি। কি কারণে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে সেটা পুলিশ তদন্ত করে বের করবে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এ্যান্ড সিভিল ডিফিন্সের উপ-সহকারী পরিচালক (জোন-১) আব্দুল্লাহ আল-আরেফিন জানান, রূপগঞ্জের সাঁওঘাট এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গ্যাসের কারণেই ঘটেছে। যদি দরজা-জানালা বন্ধ থাকে এবং লিকেজ থেকে ভেতরে গ্যাস জমা হয় তখন আগুনের কোন আর্থ পায় অথবা বৈদ্যুতিক সুইচ অফ-অন করলে স্পর্কের সৃষ্টি হয়। এতেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। এ ধরনের বিস্ফোরণের ২-৩ তলা পর্যন্ত ভবন ধ্বংস করে দিতে পারে। তিনি আরও জানান, গ্যাস সিলিন্ডার কিংবা পাইপ লাইনের গ্যাসের চুলা জ্বালানোর আগে অন্তত ৫ মিনিট দরজা-জানালা খুলে দিতে হবে। এতে যদি বন্ধ বাসাবাড়িতে লিকেজ হয়ে ঘরের ভেতরে গ্যাস জমে থাকে তবে গ্যাস বাইরে চলে যাবে এবং বাইরের বাতাস ঘরের ভেতরে চলে আসবে তখন আগুন জ্বালানো হলেও কোন বিস্ফোরণ ঘটনার সম্ভাবনা থাকে না।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এ্যান্ড সিভিল ডিফিন্সের উপ-সহকারী পরিচালক (জোন-২) মামুনুর রশিদ জানায়, রূপগঞ্জের বিস্ফোরণের শিকার ভবনটি আমরা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ব্যানার টাঙ্গিয়ে দিয়েছি। গ্যাসের উচ্চ ভলিয়মের কারণেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে সেটা গ্যাস সংযোগটি বৈধ বা অবৈধ হোক সেটা কোন কারণ নয়।