২৬ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ম্যাচসেরা হওয়ার চেয়ে দল জেতাতেই বেশি খুশি কৃষ্ণা

ম্যাচসেরা হওয়ার চেয়ে দল জেতাতেই বেশি খুশি কৃষ্ণা

রুমেল খান ॥ সোমবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে ‘বঙ্গমাতা অনুর্ধ-১৯ নারী আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ’ ফুটবলের প্রথম আসর। উদ্বোধনী দিনের খেলায় ‘বি’ গ্রুপে স্বাগতিক বাংলাদেশ ২-০ গোলে হারায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে। জিতে শুভ সূচনা করলেও খুব বেশি ভাল খেলতে পারেনি স্বাগতিক দল। ফলে খেলা উপভোগ করতে আসা দর্শকরা বাংলাদেশ দলের খেলায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি। বাংলাদেশ দলের খেলায় অনেক ত্রুটি ছিল যা ম্যাচ শেষে স্বীকার করেন কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন, আমাদের লক্ষ্য ছিল জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা। তা পেরেছি। তবে ফরোয়ার্ডরা আরেকটু মনোযোগী হলে কৃষ্ণা কিংবা স্বপ্নার হ্যাটট্রিকও হতে পারতো। তবে মেয়েদের খেলায় কখনও ছন্দপতন হয়নি। পুরো ৯০ মিনিট একই তালে খেলেছে। গোল হবে, মিস হবে, এটা তো ফুটবলেরই অংশ। তারপরও যে দুর্বলতার কারণে গোলসংখ্যা বাড়েনি সে দুর্বলতাগুলো যাতে পরের ম্যাচগুলোতে না হয় তা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।

ম্যাচে বাংলাদেশের মেয়েরা স্বার্থপরের মতো খেলে একা একা গোল করতে চেয়েছিলÑ এমনটাও অভিযোগ উঠেছিল। এ প্রসঙ্গে ফরোয়ার্ড সিরাত জাহান স্বপ্নার ভাষ্য, আসলে আমরা স্বার্থপরের মতো খেলেছি, এটা ঠিক না। আমরা চেষ্টা করেছি দলীয়ভাবে খেলতেই। সামনের ম্যাচে যেন আর গোল মিস না করি যে সুযোগ পাই সেটা যেন কাজে লাগাতে চাইব। সবচেয়ে বড় কথা টিমকে জেতানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। ২০১৮ সালে ভুটানে অনুষ্ঠেয় সাফ অনুর্ধ-১৮ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপপর্বে (‘বি’) পাকিস্তানের জালে স্বপ্না একাই পাঠিয়েছিলেন ৬ গোল (বাংলাদেশ জিতেছিল ১৭-০ গোলে)। তার এই গোল হচ্ছে যে কোন লেভেলের ফুটবলে এক ম্যাচে বাংলাদেশের কোন নারী ফুটবলারের বেশি গোল করার রেকর্ড।

রংপুরের মেয়ে স্বপ্না। তার যাত্রা শুরু বঙ্গমাতা ফুটবল দিয়ে। সেটা ২০১১ সালের কথা। এরপর ২০১২ সালেও বঙ্গমাতা টুর্নামেন্ট খেলেন তিনি। এরপর থেকেই পাদপ্রদীপের আলোর নিচে চলে আসেন। ২০১৬ সিনিয়র সাফে রানার্সআপ হওয়াতেও তার অবদান ছিল। করেছিলেন ৫ গোল।

রংপুরের জয়ারামের কৃষক বাবা মোকছার আলীর তিন মেয়ে। সবার ছোট স্বপ্না। সংসারে দারিদ্র্য আর অনটনের কারণে বাকি দুই মেয়ের মতো স্বপ্নাকেও বিয়ে দিয়ে দিতে চেয়েছিলেন বাবা। পাত্র খোঁজাও শুরু করে দিয়েছিলেন। কিন্তু বাবাকে বুঝিয়ে ফুটবলার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্নটা বাঁচিয়ে রাখার মিশনে আপাতত এখনও সফল স্বপ্না। স্বপ্নাই এখন তার পরিবারের আশা-ভরসা। ফুটবল খেলে যা আয় হয় তার পুরোটাই তুলে দেন বাবার হাতে। নিজের ভুল বুঝতে পারা বাবা এখন আর মেয়ের বিয়ে ভুলেও ভাবেন না। বরং লজ্জিত হন মেয়ের বিয়ের কথা ভেবেছিলেন বলে।

অধিনায়ক মিশরাত জাহান মৌসুমী বলেন, আমিরাতের বিপক্ষে এর আগে আমরা ৭ গোল দিয়েছি। কিন্ত এবার দুই গোলের বেশি দিতে পারিনি। এই ম্যাচে আমাদের অনেক ভুল ছিল। এগুলো মেনে নিয়েছি। আমরা কখনও কোন দলকেই দুর্বল হিসেবে দেখি না। আত্মবিশ্বাস আমাদের দাবিয়ে দিয়েছে এটা কখনও হয়নি। আমাদের শুধু ফিনিশিংয়ে ভুল-ত্রুটি, দুর্বলতা ছিল। ফিনিশিং লাইন থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি। নিজের মাটিতে খেলা বলে আমরা মোটেও কোন চাপে ভুগিনি। আমাদের পরের ম্যাচ কিরগিজস্তানের সঙ্গে। ওরা খুব শক্তিশালী। প্রতি ম্যাচকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। এর সঙ্গে চেষ্টা করব ফাইটিং খেলা উপহার দেয়ার।

প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক করতে পারতেন কৃষ্ণা রানী সরকারও। কিন্তু প্রচুর সুযোগ নষ্ট করেছেন তিনি। যদিও ম্যাচশেষে তিনিই পান ম্যাচসেরার পুরস্কার (৫০০ ডলার)। দলের প্রথম ম্যাচ জয়ে অবদান রাখতে পারায় তিনি তিনি, আমরা জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে চেয়েছিলাম। পেরেছি। গোল করেছি, করতে পারিনি এসব বড় কথা নয়। বেশি খুশি ম্যাচ জিততে পারায়।

আজ বাংলাদেশের গ্রুপের অন্য দুই দল কিরগিজস্তান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত মুখোমুখি হবে সন্ধ্যা ৬ টায়। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় এই ম্যাচটি একদিকে যেমন এই দুই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তেমনি লাল-সবুজদের জন্যও। কারণ এই ম্যাচে দুই দল ড্র করলেও সেমি নিশ্চিত হয়ে যাবে গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যদের।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পেয়ে বাংলাদেশের সব থেকে বড় যে সুবিধাটি হয়েছে তা হলো আজ আমিরাত-কিরগিজস্তান ড্র করলেও লাভবান হবে বাংলাদেশ। কারণ মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিতে হবে আমিরাতকে। আর হারলেও বিদায় নিশ্চিত। তবে তারা যদি প্রতিপক্ষকে হারিয়ে তিন পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারে তাহলে অপেক্ষা করতে হবে গ্রুপের শেষ ম্যাচটির জন্য। তখন বাংলাদেশকে দাঁড়াতে হবে অন্য সমীকরণের সামনে। তবে এতো হিসেব নিকেশের কোন প্রয়োজনই হবে না। যদি ম্যাচের ফলটা কিরগিজদের পক্ষে যায়।