২০ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডাবল সেঞ্চুরির ইতিহাস গড়লেন সৌম্য

ডাবল সেঞ্চুরির ইতিহাস গড়লেন সৌম্য
  • লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি, ইনিংসে সর্বাধিক ১৬ ছক্কার রেকর্ড

মোঃ মামুন রশীদ ॥ ব্যাট হাতে টানা ব্যর্থতা, এরপরও বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পান সৌম্য সরকার। ক্যারিয়ারে অসংখ্যবার সুযোগ পেয়েছেন তিনি এভাবে, তাই সমালোচনা হয়নি। তবে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগে (ডিপিএল) এবার ধারাবাহিকভাবে যেমন ব্যর্থ হচ্ছিলেন তাতে সবাই শঙ্কায় ছিলেন আসন্ন বিশ্বকাপে কতটা উপযুক্ত হিসেবে দলে ঠাঁই পেয়েছেন। দু’দিন আগে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ফিরে আসেন রানের মধ্যে। কিন্তু একটানা রানখরা থাকায় যেন নিজেই সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তাই মঙ্গলবার রচনা করলেন এক অনন্য ইতিহাস। প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিরুদ্ধে। বাঁহাতি এ ওপেনার মাত্র ১৫৩ বলে ১৪ চার, ১৬ ছক্কায় অপরাজিত ২০৮ রানের ইনিংস খেলেন আবাহনী লিমিটেডের হয়ে। এক ইনিংসে বাংলাদেশের মাটিতে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট তথা ৫০ ওভারের ম্যাচে সর্বাধিক ছক্কার রেকর্ডও গড়েছেন ২৬ বছর বয়সী সৌম্য। এর সঙ্গে আছে আরও কিছু রেকর্ডও।

রবিবার সৌম্য ৭৯ বলে ১৫ চার, ২ ছক্কায় ১০৬ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিরুদ্ধে। সেই ইনিংসটির বল ও রানের হিসেব দেখলে যতটা আক্রমণাত্মক মনে হয়, ততটা আগ্রাসী ব্যাটিং করেননি তিনি। অনেকটাই ছিলেন নিয়ন্ত্রিত। কারণ এর আগের ১০ ইনিংসে তার রানগুলো ছিল ৩৬, ৪৩, ২৯, ১২, ১০, ১৪, ১, ২, ১৭ ও ০। এরপর যে সেঞ্চুরিটা করলেন সেই ম্যাচে আবাহনীর জয় পাওয়াটা ছিল অত্যাবশ্যক। তার ইনিংসে ভর দিয়ে জয় তুলে নেয় আবাহনী। মঙ্গলবার একই ভেন্যুতে আবারও একটি অত্যাবশ্যকীয় জয় পাওয়ার ম্যাচ ছিল দলের। আর আবারও নিয়ন্ত্রিত সৌম্যকেই প্রথম থেকে দেখা গেছে। স্বভাবজাত প্রকৃতির চেয়ে ধীরগতিতেই শুরু করেন। হাফ সেঞ্চুরি করতে তার লাগে ৫২ বল। তবে ফিফটির পরই গর্জে ওঠে তার ব্যাট। ৭৮ বলেই পূরণ করে ফেলেন সেঞ্চুরি। এরপর ১০৪ বলে ১৫০ পূরণ করা এই বাঁহাতি ওপেনার বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ৫০ ওভারের ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরি করতে খেলেন ১৪৯ বল। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ১৫৩ বলে ১৪ চার, ১৬ ছক্কায় ২০৮ রানে। এর আগেও সৌম্য ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন। সেটি বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে। ২০১২ সালের অনুর্ধ-১৯ এশিয়া কাপে কুয়ালালামপুরে কাতারের বিপক্ষে ১৩৫ বলে ২০৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। এবার মর্যাদার লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকালেন। এর আগে বাংলাদেশের কোন ব্যাটসম্যানই ৫০ ওভারের স্বীকৃত ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকাতে পারেননি। তিনি ভেঙ্গেছেন বাংলাদেশের পক্ষে সর্বাধিক ১৯০ রান করা রকিবুল হাসানের রেকর্ড। ২০১৭ সালে তিনি প্রিমিয়ার লীগেই আবাহনীর বিরুদ্ধে মোহামেডানের হয়ে ১৩৮ বলে ওই রান করেছিলেন। এবার তাকে ছাড়িয়ে অনন্য এক নজিরের দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সৌম্য। তবে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি সারাবিশ্বের মধ্যে ২৯তম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড। এর মধ্যে বাংলাদেশের মাটিতে আগে কেউ ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকাতে পারেননি স্বীকৃত কোন ৫০ ওভারের ম্যাচে।

সৌম্য তার ইনিংস খেলার পথে সবচেয়ে বেশি ঝড় বয়ে দিয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের ওপর দিয়ে। তাকে ৭টি ছক্কা হাঁকান সৌম্য। ৪টি মেরেছেন লেগস্পিনার মিনহাজুল আবেদিন আফ্রিদিকে। নাসির হোসেন ও ইলিয়াস সানিকে মেরেছেন দুটি করে, একটি মেহরাব হোসেনকে। তাইজুলকে ছক্কা মেরেই সৌম্য শেষ করেছেন ম্যাচ। বাংলাদেশের মাটিতে ৫০ ওভারের ম্যাচে কোন ব্যাটসম্যানের এক ইনিংসে এটিই সর্বাধিক ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ড। ২০১১ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের বিপক্ষে শেন ওয়াটসন মিরপুরে মেরেছিলেন ১৫টি ছক্কা। লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ডটি মাশরাফি বিন মর্তুজার সঙ্গে যৌথভাবে সৌম্যও অংশীদার ছিলেন। গত প্রিমিয়ার লীগে অগ্রণী ব্যাংকের হয়ে ব্রাদার্সের বিপক্ষে ১১ ছক্কা মেরেছিলেন সৌম্য, ১২৭ বলে ১৫৪ রান করেছিলেন। শেখ জামালের বিপক্ষে ২০১৬ সালে কলাবাগানের হয়ে ৫১ বলে ১০৪ রান করার ম্যাচে ১১ ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ড গড়েছিলেন মাশরাফি। আর রবিবার একই দলের বিরুদ্ধে ১১ ছক্কা হাঁকিয়ে ওই রেকর্ডের ভাগিদার হন প্রাইম দোলেশ্বরের তরুণ ওপেনার সাইফ হাসান। এবার সবাইকে ছাড়িয়ে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছুলেন সৌম্য। এদিন ওপেনিং জুটিতে জহুরুল ইসলাম অমির সঙ্গে ৩১২ রানের জুটি গড়েন সৌম্য। যে কোন উইকেটে বাংলাদেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এটিই সর্বোচ্চ রানের জুটি। উদ্বোধনী জুটিতে আগের রেকর্ড ছিল গত বছর আবাহনীর হয়েই এনামুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্তর ২৩৬ রান। আর সব জুটি মিলিয়ে রেকর্ডটি ছিল এক যুগের পুরনো। ২০০৭ সালে জাতীয় লীগের ওয়ানডে সংস্করণে রাজশাহী বিভাগের বিপক্ষে চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে তৃতীয় উইকেটে ২৯০ রানের জুটি গড়েছিলেন মাহবুবুল করিম ও ধীমান ঘোষ। এবার সবগুলো ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়লেন সৌম্য-জহুরুল।