২৪ এপ্রিল ২০১৯

মেসির আর্জেন্টিনাকে ফের ঢাকায় দেখতে চান ভক্তরা

আবারও বাংলাদেশে আসতে পারে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল। সম্প্রতি এমন খবর চাউর হয়েছে। শুধু তাই নয়, এ খবরের সত্যতাও আছে। অবশ্য এখনও বিষয়টি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল দুটির একটি আদৌ আগামী বছর বাংলাদেশে আসবে কিনা সেটা নির্ভর করছে অনেক যদি-কিন্তু’র ওপর।

তবে মেসি-ডি মারিয়ারা লাল-সবুজের দেশে আসতে পারেন। এমন খবরেই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের ফুটবলাঙ্গনে। বিশেষ করে ভক্তদের মাঝে খবরটি পৌঁছানো মাত্রই শিহরণ শুরু হয়ে গেছে। আসলে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ‘মেসিরা আসবেন’ এই খবরটাই অনেক বড়। খবরটি চাউর হওয়ার পর তাদের প্রার্থনা, যে কোন মূল্যে যেন বাংলাদেশে আসে তাদের প্রাণপ্রিয় আর্জেন্টিনা ফুটবল দল।

গত ১১ এপ্রিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের নয়াদিল্লী কার্যালয়ের আর্জেন্টাইন রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল চোবুরুরকে মেসিদের এদেশে আনার প্রস্তাব দিয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাত করলে এই প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। মূলত জাতির জনকের ১০০তম জন্মদিনে বিশেষ আয়োজন হিসেবে আর্জেন্টিনা দলকে বাংলাদেশে আনার জন্য মুখিয়ে আছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে বাংলাদেশে সাড়ম্বরে পালিত হবে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। এ নিয়ে এখন থেকেই জোরেশোরে প্রস্তুতি চলছে। এরই অংশ হিসেবে মেসির আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলকে লাল-সবুজের দেশে আনার পরিকল্পনা আছে বাংলাদেশ সরকারের।

তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এখনও নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছে না। অবশ্য দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থারও আন্তরিক ইচ্ছে আছে যেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দল বাংলাদেশে আসে। এ প্রসঙ্গে ১৩ এপ্রিল বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ জনকণ্ঠকে বলেন, ‘বাংলাদেশে মেসির আর্জেন্টিনা আসলে আপনাদের ফোন করে জানতে হবে না। আমরাই সবাইকে জানাব। তাদের আসা নিয়ে অনেক যদি-কিন্তু আছে। তবে আমাদেরও আন্তরিক ইচ্ছা আছে মেসি ও তার দেশ আর্জেন্টিনাকে বাংলাদেশে আনতে।’

তবে যদি-কিন্তু, হিসাব-নিকাশ যাই থাক না কেন বাংলাদেশের মেসি ও আর্জেন্টিনাভক্তরা মনেপ্রাণে চাচ্ছেন তাদের প্রিয় দল আরেকবার বাংলাদেশে আসুক। জনকণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে অনেকেই এমন মন্তব্য করেছেন। মেসি ও আর্জেন্টিনার অন্ধভক্ত তানিয়া হক আঁখি বলেন, ‘এর আগে যখন মেসিরা বাংলাদেশে এসেছিল তখন আমি চেষ্টা করেছিলাম স্টেডিয়ামে এসে খেলা দেখতে। কিন্তু টিকেট না পাওয়ায় পারিনি। তখন মেসিকে সরাসরি দেখতে না পারার দুঃখে কেঁদেছিলাম। এবার যদি মেসি বাংলাদেশে আসে তাহলে যেভাবেই হোক মাঠে তার খেলা দেখার চেষ্টা করব। আয়োজকদের কাছে আমার অনুরোধ, অবশ্যই যেন আর্জেন্টিনাকে বাংলাদেশে আনা হয়।’ আগামী বছরের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ১০০তম জন্মবার্ষিকী। মূলত এ দিনটিকে সামনে রেখে সরকার অনেক কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনও এর বাইরে নয়। বাংলাদেশের প্রায় সব ফেডারেশনই আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে তাদের কর্মকা- পরিচালনা করার প্রস্তুতি নিয়েছে। এর মধ্যে বড় উদ্যোগ মেসিদের নিয়ে আসা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুবেল রানা বলেন, ‘খবরটা শোনার পর থেকেই প্রহর গুনতে শুরু করেছি। এখনও এক বছর বাকি আছে। সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ, তারা যেন কাজটা করতে পারে’। এছাড়া তাসফিয়া তাবাস্সুম, রাসেল হোসেন, জামজামা জাহান সিক্তসহ আরও অনেকে আর্জেন্টিনার আসার খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

এর আগে ২০১১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এসেছিল মেসির আর্জেন্টিনা। তারপর ৬ সেপ্টেম্বর নাইজিরিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে হওয়া ওই ম্যাচে ৩-১ গোলে জিতেছিল বিখ্যাত আকাশী-সাদা জার্সিধারীরা। ওই ম্যাচে গোল না পেলেও দলের দুই গোলে এ্যাসিস্ট করেছিলেন মেসি। এখন আরেকবার পাঁচবারের ফিফা সেরা তারকার জাদুকরী নৈপুণ্য সরাসরি দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন বাংলার দর্শকরা।

আরেকবার বাংলার মাটিতে মেসির আসার খবরের পর ভক্তরা ফিরে যাচ্ছেন আট বছর আগের স্মৃতি। ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ নাইজিরিয়া শুধু মেসিকে রুখতেই ব্যস্ত ছিল। শুধু নাইজিরিয়া বলে নয়। ফুটবল বিশ্বের শক্তিশালী সব দলেরই এখন মাথাব্যথার কারণ এই একজনই। তাকে আটকানোর পরিকল্পনা করতেই প্রতিপক্ষ কোচের বেশির ভাগ সময় কেটে যায়। ম্যাচ জয়ের পরিকল্পনার পথে একটা নামই ঘুরেফিরে উঠে আসে বারবার। তিনি ক্ষুদে জাদুকর মেসি। আফ্রিকার সুপার ঈগলরা ওই ম্যাচে এক মেসিকে আটকাতেই ৬টি ফাউল করেছিল। ম্যাচ শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই ফাউলের বাধায় আটকা পড়েন পাঁচবারের ফিফা সেরা তারকা মিনিট গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যেন মেসিকে ফাউল করার পরিমাণও বাড়তে থাকে। ১৭ মিনিটে আর্জেন্টাইন তারকাকে আটকাতে আবারও ফাউলের আশ্রয় নেয় নাইজিরিয়ার খেলোয়াড়রা। এরই মধ্যে মেসি ম্যাজিক চলতে থাকে। বার বার আছড়ে পড়তে থাকেন সুপার ঈগলদের রক্ষণভাগে। কিন্তু ২০ মিনিটে মেসিকে মারাত্মক ফাউল করেন নাইজিরিয়ার খেলোয়াড়।

বেশ ব্যথা পাওয়াতে ঠোঁটে ব্যান্ডেজও করাতে হয় তাকে। কিন্তু ব্যান্ডেজটা গোঁফসদৃশ দেখাচ্ছিল বলেই হয়ত ব্যথা উপেক্ষা করে মিনিটখানেক পরই সেটি খুলে ফেলেন বার্সা ডায়মন্ড। ৩০ মিনিটে মেসিকে চতুর্থ ফাউল করেন নাইজিরিয়ার ফুটবলার। ৭২ মিনিটে আবারও আঘাত করা হয় ক্ষুদে জাদুকরকে। ৮৬ মিনিটে ষষ্ঠ ফাউলের শিকার হন ম্যাচের তিনটি গোলেই দারুণ ভূমিকা রাখা মেসি। আরেকবার যদি মেসিরা বাংলাদেশে আসেন তাহলে প্রতিপক্ষ কি করে সেটাই দেখার।