১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ওয়াদা রাখতে পারবেন কী ইমরান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নির্বাচনী প্রচারের সময় ‘নয়া পাকিস্তানের’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানী সমাজ এখনও পুরনো ধারাকেই আঁকড়ে ধরে আছে। বদলায়নি। দেশটির মাদ্রাসাগুলো তার এক দৃষ্টান্ত। সেই একই ধারায় চলছে সেগুলো। পাকিস্তানে মোট মাদ্রাসার সংখ্যা ৩০ হাজারেরও বেশি। ছাত্রছাত্রী আছে ২৫ লাখের মতো। তারা মাদ্রাসার পাঠ শেষ করে শক্তিশালী ধর্মমত নিয়ে বের হয়। কিন্তু কাজকর্মের দক্ষতা বলতে তাদের তেমন কিছুই থাকে না।

অবশ্য ইমরানের টিম বলে যে এ অবস্থার পরিবর্তন হবে। তার শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন সরকারের অনুমোদন পাওয়ার জন্য মাদ্রাসাগুলোকে শীঘ্রই তাদের পাঠ্যক্রমে আরও অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শেষ পর্যন্ত একটি একক জাতীয় কারিকুলাম গড়ে উঠবে। সেনাবাহিনীও এ ধরনের শিক্ষা সংস্কারের সমর্থক বলে জানা গেছে। সেনাবাহিনীর এক সিনিয়র কমান্ডার বলেন, জিহাদী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সেনা গোয়েন্দা সংস্থার মাখামাখির দিন শেষ হয়ে গেছে। আমরা আর এসব গু-াকে যত্রতত্র চড়ে বেড়াতে ও আমাদের বৈদেশিক নীতি প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে দেব না। ইমরানও জোরালোভাবে এমন কথা বলেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থার কাছে ওসব সংগঠনের আর প্রয়োজনটাই বা কোথায়। এখন থেকে কাশ্মীরকে আর ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা হবে না। তার এ কথা থেকে আভাস মেলে যে পাকিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে বসা জঙ্গীদের পক্ষে ভারতীয় ভূখ-ে অনুপ্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। পাকিস্তানী রাজনীতিক ও সেনা অফিসাররা অবশ্য এ ধরনের অঙ্গীকার আগেও করেছেন এবং ভারতও তাদের বক্তব্যকে আন্তর্জাতিক নিন্দার হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য আন্তরিকতাবর্জিত চেষ্টা হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছে। ইমরান তার জোরালোতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেনে চলার চেষ্টার জন্য ইতোমধ্যে যথেষ্ট প্রশংসা অর্জন করেছেন। সেই প্রতিশ্রুতিটা দুর্নীতি দমন। তিনি ক্ষমতায় আসার পর থেকে জাতীয় জবাবদিহিতা ব্যুরো এনএবি দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে। অন্তত পাঁচজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রধান ও তাদের ঘনিষ্ঠ স্বজনদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই অভিযান এতই জোরালো যে কারও কারও আশঙ্কা এর ফলে বিনিয়োগ পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সেটা হবে এমন এক সময়ে যখন দেশটির যথেষ্ট মাত্রায় বিনিয়োগ দরকার। এদিকে সরকার সহসা বিজ্ঞাপনের পেছনে অর্থ ব্যয় আমূল কাটছাঁট করেছে। অথচ এই বিজ্ঞাপন অনেক মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের আয়ের একটা বড় উৎস। আয় কমে যাওয়ায় অনেক মিডিয়া প্রতিষ্ঠানে ছাঁটাই হয়েছে। প্রায় ৩ হাজার লোক চাকরি হারিয়েছে। তবে যেসব মিডিয়া প্রতিষ্ঠান ইমরানের প্রতি বিরূপ তারাই এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেনাবাহিনী আরও র‌্যাডিকেল উপায়ে সরকারের সমালোচনা স্তব্ধ করার চেষ্টা করছে। তারা সরকারের বিরক্তির কারণ ঘটানো চ্যানেলগুলোকে সম্প্রচার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে এবং কিছু ব্লগারকে অপহরণ করেছে।

তবে মিডিয়া প্রচার করতে পারুক আর নাই পারুক সরকার অর্থনীতি সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় বেদনাদায়ক পদক্ষেপ নিলে আরও বেশি ক্ষোভের সঞ্চার হবে। আইএমএফের ভবিষ্যদ্বাণী হচ্ছে আগামী পাঁচ বছরে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বছরে আড়াই শতাংশ হারে হবে এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকে কোনভাবে ছাড়িয়ে যাবে। ইমরান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে রুপীর মূল্যমান ৩০ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে। সরকারের চলতি হিসাব ও বাজেট ঘাটতি দুটোরই অবস্থা নাজুক। এসব সত্ত্বেও ইমরান সাহসী চেহারা নিয়ে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেছেন কয়েক মাস আগেও পরিস্থিতি আরও খারাপ ছিল। তখন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এতই সামান্য ছিল যে তা দিয়ে মাত্র দুই সপ্তাহের আমদানি চলতে পারত। এই উন্নতিটা অবশ্য চীন ও উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রদত্ত সাহায্যের কারণেই হয়েছে। তবে ভারত নিয়মিত পাকিস্তানকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে। ভারত বলে, পাকিস্তানের অর্থনীতি এত দ্রুতগতিতে বাড়ছে যে প্রতি দু’বছর পর পর তা দেশটির আয়তনকে ছাড়িয়ে যায়।

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট