২০ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্ষমতায় যেতে পারে তালেবান আফগান নারীরা উদ্বিগ্ন

তালেবানরা ১৯৯৬ সালে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর সে দেশের নারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে দেয়। মেয়েদের স্কুলে লেখাপড়া নিষিদ্ধ করা হয়। মহিলাদের জীবন ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয় এবং তাদের বাইরে কাজ করার অধিকার হরণ করা হয়। কথিত অনৈতিক কার্যকলাপের জন্য তাদের বেত্রাঘাত, প্রহার, অঙ্গহানি এমনকি পাথর ছুড়ে মেরেও ফেলা হয়। এটা প্রাচীন ইতিহাসের কাহিনী নয়। লাখ লাখ আফগানের কাছে এ এক জীবন্ত স্মৃতি। আফগান সমস্যার সমাধান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানদের মধ্যে বর্তমানে যে আলাপ আলোচনা চলছে তার প্রেক্ষাপটে আফগান নারীদের ভবিষ্যত কি দাঁড়াবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বোধ করার কারণ ঘটেছে। কেননা সমস্যার সমাধান হলে তালেবানরা ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারে।

২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন হামলার মধ্য দিয়ে তালেবানরা ক্ষমতাচ্যুত হয়। নারীরাও মধ্যযুগীয় নির্যাতন থেকে রক্ষা পায়। আজ আফগান পার্লামেন্ট ও সিভিল সার্ভিসের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সদস্য নারী। তারা অধ্যাপক, শিল্পী, সাংবাদিক, আইনজীবী ও বিচারক হিসাবেও কর্মরত। জাতিসংঘে নিযুক্ত আফগান রাষ্ট্রদূত একজন নারী। এই তথ্যগুলো নিঃসন্দেহে প্রেরণাদায়ক। তথাপি আফগান নারীরা এখনও নিয়মিত বৈষম্য ও সহিংসতার শিকার।

আফগানিস্তানে শান্তির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কারোর সন্দেহ-সংশয়ের অবকাশ না থাকলেও আফগান নারীরা জানতে চায় এসব শান্তি আলোচনায় নারীদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেয়া হবে কিনা, তাদের অধিকার ক্ষুণœ করা হবে কিনা। শান্তি আলোচনার মধ্য দিয়ে যদি নারীদের প্রতি অবিচার ও নির্যাতনের নতুন যুগ শুরু হয় তা হলে শান্তি ও স্থিতি কোনটাই আসবে না। আর তেমনটি হলে প্রায় ৪০ বছরের সংঘাতের পর এ হবে এক বিয়োগান্ত পরিণতি।

তালেবানরা ক্ষমতায় ফিরে এলে নারীদের স্বার্থই সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই তাদের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে যে নারী অধিকার রক্ষার্থে আফগান সরকারের যে কোন প্রতিনিধি দলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী আলোচককে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী নারী সংগঠনের আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত মহিলাদের অধিকার ও উদ্বেগের বিষয়গুলোকে আনুষ্ঠানিক এজেন্ডায় অবশ্যই থাকতে হবে। সেগুলোকে পার্শ্ববিষয় হিসেবে কিংবা নারী প্রতিনিধিদের একক দায়িত্ব হিসেবে রেখে দেয়া চলবে না। যে কোন চুক্তি সম্পাদন ও বাস্তবায়নের সময় নেতৃত্বের ভূমিকায় মহিলাদেরও রাখতে হবে এবং শুধু মহিলাদের বিষয়ে নয় বরং দেশের ভবিষ্যতের সকল দিক নিয়ে তাদের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।

আফগানিস্তানে নারীদের সমানাধিকারের বিরোধীরা এসব দাবিকে পাশ্চাত্যের প্ররোচনা বলে মনে করতে পারে। তবে উল্লেখ করার মতো ব্যাপার হলো সেই ১৯১৯ সালে আফগানিস্তানে নারীরা ভোটাধিকার লাভ করেছিল এবং এই অধিকারটি তারা পেয়েছিল আমেরিকার মহিলাদের চেয়ে এক বছর আগে। আর ১৯৬০ এর দশকে আফগান সংবিধানে নারী পুরুষের সমতার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছিল। বর্তমানে যে শান্তি আলোচনা চলছে তা এই আশার ভিত্তিতে হচ্ছে যে তালেবানরা বদলে গেছে এবং তারা সমঝোতায় আসবে। মহিলাদের অধিকার এবং আলোচনায় তাদের অংশগ্রহণ সম্পর্কে তালেবানদের অবস্থান কি তা থেকেই বোঝা যাবে তারা আসলেই কতটা বদলেছে। সূত্র : টাইম