১৯ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইবিতে আন্দোলন অব্যহত আটক ২২ ক্যাম্পাসে অঘোষিত ১৪৪ ধারা জারি

ইবিতে আন্দোলন অব্যহত আটক ২২ ক্যাম্পাসে অঘোষিত ১৪৪ ধারা জারি

ইবি প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষার্থীদের অন্দোলন অব্যহত রয়েছে। আান্দোলন ঠেকাতে ক্যাম্পাসে চলছে অঘোষিত ১৪৪ ধারা। শিক্ষার্থীদের গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দর্শন বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এদিকে ভোর রাতে অনশন থেকে আন্দোলনরত ২২ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের কুষ্টিয়া পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির দাবিতে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদভূক্ত পাঁচ বিভাগের শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন চলছিল। মঙ্গলবার বেলা দুইটার দিকে ডিন অফিসের ক্লবসিবল গেটে তালা লাগিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা। অনশনে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লেও প্রশাসন এবং অনুষদের ডিন

শিক্ষার্থীদের সাথে দেখা না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে দুপুর দুইটায় অনুষদের ডিন অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয় তারা। এতে অফিসের ভেতরে আটকা পড়েন অফিস সহকারী আব্দুল মমিন ও পিওন বাদল। রাত ৯টায় অবরুদ্ধ দুই কর্মচারীদেরকে উদ্ধার করতে আসেন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মমতাজুল ইসলাম ও ছাত্র-উপদেষ্টা ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ। তারা ভবনের ভিতরে ঢুকলে তাদেরকেও অবরুদ্ধ করে আন্দোলনকারীরা। একইসাথে ক্লবসিবল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে ডিন ও ছাত্র উপদেষ্ঠাকে উদ্ধার করতে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১ টার দিকে সাবেক প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আনিছুর রহমান ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর আহসান-উল হক আম্বিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা রাত ৪ টা পর্যন্ত দফায় দফায় আন্দোলককারীদের সাথে সমঝোতা করতে ব্যর্থ হন।

এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১ টা থেকেয় পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পরে দিবাগত রাত সাড়ে ৪টার দিকে কুষ্টিয়া অতিরিক্ত অতিরিক্ত ডিএসবি মোস্তাক, ডিএসবি মোস্তাফিজুর রহমান, মিরপুর জোনের এএসপি ফারজানা ইসলাম এবং ইবি থানার ওসি রতন শেখের নেতৃত্বে ক্লবসিবল গেটের তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনির সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। ভিতরে ঢুকে ডিন, ছাত্র উপদেষ্ঠা ও দুই কর্মচারীকে উদ্ধার করেন। এসময় শিক্ষার্থীরা করিডোরে অবস্থান নিয়ে ব্যারিকেট দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করে শ্লোগান দিতে থাকে। এসময় পুলিশ ও র্যাবের যৌথ বাহিনী অভিযানে বাছাই করে আরিফুল ইসলাম, তারিক, রাজ, মাহাদী, রিয়াদ, অভি, দেলাওয়ার, হাফিজ, সাব্বিরসহ ২২ শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। এবং অন্যদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আটককৃতদেও কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, আজ বুধবার বেলা ৯ টা থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রীর দাবিতে পাঁচ বিভাগের শিক্ষার্থীরা এবং ভর্তিতে বর্ধিত ফি কমানোর দাবীতে ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষেও শিক্ষার্থীরা আজ বুধবার দুপুর ১২ টা থেকে আন্দোলনের ঘোষণা দেয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঠেকাতে ক্যাম্পাসে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অঘোষিত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে সকল প্রকার সভা সমাবেশে নিধেধাজ্ঞা জারি করে মাইকিং করা হচ্ছে। একইসাথে বিভিন্ন হল তেকে শিক্ষার্থীদের বের হতে দেওয়া হচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরা। অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাসে পুলিশ-র্যাব মোতায়েন কারা হয়েছে। কুষ্টিয়া-জিনাইদহ থেকে শিক্ষার্থীদের গাড়ি চলাচল করা হয়েছে। তবে বাধা উপেক্ষা করে ডিগ্রীর দাবিতে সকাল ১০ টার দিকে মিছিল দিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রশাসন ভবন অবরোধ করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রীর দাবীতে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান ভবনের সামনে আমরন গণ অনশনে নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদভুক্ত পাঁচ বিভাগের প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা এ অনশন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দেয় তারা।

ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রতন শেখ যুগান্তরকে বলেন, ‘২২ জন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। তাদরকে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনে জিজ্ঞাবাদ করা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে বিশ^বিদ্যারয়ের ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী বলেন, ‘এ ঘটনার পিছনে অন্য কোন কারন রয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে আমরা কুষ্টিয়া-ঝিনাইদ দুই জেলার প্রশাসন এবং গোয়েন্দাদের সাথে কথা বলা হচ্ছে।’