২০ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৩ দফা দাবি বাস্তাবায়নে সংবাদ সম্মেলন

বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৩ দফা দাবি বাস্তাবায়নে সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর ॥ দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে চুক্তি মোতাবেক ১৫৪ জন শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন, শ্রমিক নেতা ও শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার ও শ্রমিকদের উপর হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে করেছে ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। অবিলম্বে ৩ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে রাজপথ ও রেল অবরোধের মত কর্মসূচীর আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়। সংবাদ সম্মেলনের পর এক বিক্ষোভ মিছিল দিনাজপুর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন টিইউসি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এসএম নুরুজ্জামান জামান। তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩য় ইউনিটের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর উৎপাদন কাজের জন্য কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রকল্পের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা ও কিছু সিবিএ নেতা বাহিরে থেকে অদক্ষ কর্মী নিয়োগের পাতয়তারা শুরু করলে আমাদের বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী শুরু করা হয়। শ্রমিকদের তীব্র আন্দোলনের ফলে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের মধ্যে এক সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিদ্যুৎ কেন্দ্র উন্নয়ন কাজে নিয়োগ অভিজ্ঞ শ্রমিকদের মধ্য থেকে ১৫৪ জন শ্রমিককে নিয়োগের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তীতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ১৫৪ জন শ্রমিক নিয়োগ করার অনুমোদন প্রদান করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, গত ৮ এপ্রিল ২০ ক্লিনার পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলে ১৫৪ জন শ্রমিকের মধ্যে ১৩ জনকে নিয়োগের জন্য চুড়ান্ত করে। আর অদক্ষ ৭ জনকে নিয়োগের জন্য সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এ্যাডঃ মোস্তাফিজুর রহমানের ছোট ভাই ও ফুলবাড়ী উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি খাজা মঈন উদ্দিন চিশতি ও তার সঙ্গী আরিফুল ইসলাম সুমন কর্তৃপক্ষকে চাপ দেয়। শ্রমিকরা প্রতিবাদ করলে খাজা মঈন উদ্দিন চিশতি ও আরিফুলসহ তাদের সঙ্গীরা পালিয়ে যায়। শ্রমিকরা ১৫৪ জনের মধ্য থেকে ২০ জন ক্লিনার পদে নিয়োগের দাবি জানিয়ে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সামনের সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে। এ সময় পার্বতীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আন্দোলনকারীদের উপর হামলা চালায়। হামলায় আন্দোলনরত অনেক শ্রমিক আহত হয় ও ৫ জন শ্রমিকের বাইসাইকেল আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। সন্ত্রাসীরা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের শ্রমিক আন্দোলনের সভাপতি মোঃ হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু সাঈদসহ ৩৯ জনকে আসামি করে পৃথক ৪টি মিথ্যা মামলা মামলা দায়ের করেন। তারা অবিলম্বে ১৫৪ জন শ্রমিক নিয়োগ প্রদান দ্রুত সম্পন্ন, মিথ্যা মামলা নির্শতভাবে প্রত্যাহার ও শ্রমিকদের উপর হামলার সাথে জড়িতদের বিরদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। অবিলম্বে ৩ দফা দাবি না মানা হলে মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধের মত কর্মসূচী ঘোষণা দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি এ্যাডঃ মোঃ মেহেরুল ইসলাম, সিপিবির জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান বাদল ও অমৃত রায়সহ শতাধিক শ্রমিক নেতা উপস্থিত ছিলেন।