২৪ এপ্রিল ২০১৯

চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবারও জলাবদ্ধতা কাটছে না

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রাম মহানগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে সরকারী উদ্যোগে ৫ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মেগাপ্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। মূলত মহানগরী অভ্যন্তরে ৩৬টি খালের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রেগুলেটর স্থাপন এবং খালের দু’পাশে ওয়ার্কওয়েসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (চউক)। চউকের পক্ষে এ কাজ সুচারুরূপে সম্পন্নকরণে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডকে।

মূলত নগরীর খাল ও নালাসমূহ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নিয়ন্ত্রিত হলেও সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে তা চউককে প্রদান করা হয়। দায়িত্ব প্রদানের পর চউক সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে ইতোমধ্যে ১৩টি প্রধান খালের সংস্কার ও রেগুলেটর স্থাপনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। মেগাপ্রকল্পের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মহানগরীকে সম্পূর্ণ জলাবদ্ধতা মুক্ত করতে ৪০ রেগুলেটরির মধ্যে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ৫টি, চউকের মাধ্যমে ১২টি এবং অবশিষ্ট ২৩টি করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ২০২০ সাল নাগাদ এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার টার্গেট নেয়া হলেও ইতোমধ্যে বিভিন্নভাবে সময় গড়িয়ে যাওয়ায় সময় বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এ মেগাপ্রকল্পের সব কাজই ধীরগতি ব্যাপকভাবে লক্ষণীয়। মূলত চসিকের সঙ্গে চউকের সমন্বয়হীনতার জের টানতে হচ্ছে এ প্রকল্পের সঙ্গে জড়িতদের।

চউকের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, শেষ পর্যন্ত এ প্রকল্প ব্যয় ৫ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা থেকে বেড়ে যাবে নিঃসন্দেহে। এছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চউক ও চসিকের মধ্যে বিভিন্নভাবে টানাহেঁচড়া চলে আসছে। ইতোমধ্যে চউকের শীর্ষ পদে অর্থাৎ চেয়ারম্যানের পদে পরিবর্তন এসেছে। চসিক সূত্রে জানানো হয়েছে, চউকের নতুন চেয়ারম্যানের সঙ্গে সমন্বয় করে জলাবদ্ধতা নিরসনে গৃহীত মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। এদিকে বর্ষা মৌসুম সমাগত। অতীতে সামান্য বর্ষণেও নগরীর বিভিন্ন অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ভারি বর্ষণে যে রূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো ব্যাপকভাবে সমালোচনার সম্মুখীন হয়। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে নগরীর ৩৬টি খাল সংস্কারে ৫ হাজার ৬শ’ কোটি টাকার মেগাপ্রকল্প গৃহীত হয়। চউকের মাধ্যমে এর বাস্তবায়ন কাজও আরম্ভ হয়। কিন্তু এ পর্যন্ত কাজ খুব বেশি এগোয়নি। নানা জটিলতার আবর্তে ঘুরপাক খেয়েছে মূল কাজ বাস্তবায়নে। উল্লেখ করা যেতে পারে, নগর অভ্যন্তরে যেসব খাল রয়েছে এসব খাল বিভিন্ন শাখা-উপশাখা হয়ে তা কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে যুক্ত হয়েছে। কর্ণফুলী নদীর দুপাশ উচ্ছেদ অভিযান হাইকোর্টের চূড়ান্ত নির্দেশনার পরও এখনও থমকে রয়েছে।

এছাড়া ড্রেজিং কাজের অবস্থাও কাক্সিক্ষত পর্যাযে আসেনি। এ অবস্থায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ভারি বর্ষণে পানি খুব সহজভাবে বিভিন্ন খাল হয়ে কর্ণফুলী নদীতে যাওয়ার সুযোগ এখনও সৃষ্টি হয়নি। যার জের হিসেবে এবারের বর্ষা মৌসুমেও নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়তে হবে নিঃসন্দেহে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে চউক-চসিকের মধ্যে নতুন করে সমন্বয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন এ বিষয়ে অতীতের মতো এবারও তার নিয়ন্ত্রিত সংস্থার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। চউকের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হচ্ছে। যদিও তা চূড়ান্ত পর্যায়ে চউকের নতুন চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষের ওপর নির্ভর করছে। সূত্র মতে, জহিরুল আলম দোভাষ যেহেতু কয়েক দফায় চসিকের কাউন্সিলর ছিলেন সেক্ষেত্রে তার ভূমিকা ইতিবাচক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।