২৬ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পানীয় জলের কষ্ট লাঘবে সোলার পাতকুয়া

  • বরেন্দ্র অঞ্চল

বিশ্বজিৎ মনি, নওগাঁ ॥ উত্তরের বরেন্দ্র জেলা নওগাঁর সীমান্ত ঘেঁষা উপজেলা সাপাহার। যা ঠাঁ-ঠাঁ বরেন্দ্র এলাকা হিসেবে পরিচিত। বছরের চৈত্র-বৈশাখে বিশেষ করে খরা মৌসুমে খাবার বিশুদ্ধ পানির বড়ই অভাব। এখনও বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ কুপের (কুয়ো) পানি পান করে থাকে। মাটির নিচে শীলা মিশ্রণের ফলে টিউবওয়েল বসানো যায় না। বাধ্য হয়ে মানুষ পুকুর ও কুপের পানি পান করে জীবিকা নির্বাহ করে। এ যেন কষ্টের শেষ নেই। পানির কষ্ট লাঘব করতে বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্ভাবনে দেশের ঠাঁ ঠাঁ বরেন্দ্র এলাকাসমূহে ‘পাতকুয়া খননের মাধ্যমে পানীয় জল ও স্বল্প সেচে সবজি চাষ প্রকল্প’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয়। যার বাস্তবায়ন কাজ প্রায় শেষের দিকে। ইতোমধ্যেই প্রকল্পটি নওগাঁর সাপাহার বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এলাকায় পানীয় জল সমস্যা সমাধান ও স্বল্প সেচে সবিজচাষে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বরেন্দ্র এলাকার নাচোল, গোমস্তাপুর, নিয়ামতপুর, পোরশা, সাপাহার ও পত্নীতলার কিছু অংশে মাটির নিচে বালির কোন লেয়ার না থাকায় সেখানে কোন গভীর নলকূপ বা অগভীর নলকূপ কিছুই বসানো যায় না। ফলে প্রতিবছর খরা মৌসুমে ওইসব এলাকায় পানীয় জলের তীব্র সঙ্কটসহ নিত্য প্রয়োজনীয় শাক-সবজির ও সঙ্কট দেখা দেয়।

সাপাহার বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল করিম ও সহকারী প্রকৌশলী জাকারিয়া জানান, বিগত ২০১৭ সালের দিকে দেশের এসব এলাকার কথা চিন্তা করে তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বরেন্দ্র এলাকায় স্বল্প সেচে সবজি চাষসহ পানীয় জলের সমস্যা সমাধানের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওই সব এলাকায় সঙ্কট মোকাবেলায় সমস্যা সমাধানের বিভিন্ন উপায় নিয়ে চিন্তা ভাবনা করেন। অবশেষে মন্ত্রণালয়ের সফল প্রচেষ্টা ও তাদের নিজস্ব উদ্ভাবনে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করে মন্ত্রণালয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এই বরেন্দ্র এলাকায় পাতকুয়া খননের মাধ্যমে স্বল্প সেচে সবজি চাষ প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প অনুমোদন করেন। এর পর সাপাহার উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে উপজেলায় ১১৫ পাতকুয়া স্থাপনের জন্য বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের ওপর দায়িত্ব ন্যস্ত করেন। বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই ৩ শ্রেণীর ঠিকাদারের মাধ্যমে উপজেলার পিছলডাঙ্গা, সিংগাহার, ধর্মপুর, বাহাপুর, বাসুলডাঙ্গা, মদনশিং, ফুরকুটিডাঙ্গা, করলডাঙ্গাপাড়া, হরিপুর, তিলনাসহ কয়েকটি গ্রামে শতাধিক পাতকুয়া খননের কাজ প্রায় সমাপ্ত করেন। বর্তমানে নতুন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের উপদেশ সহযোগিতা ও পরামর্শে কূপগুলোর সিংহভাগ কাজ শেষ হয়ে অনেকেই এর সুপেয় পানি ব্যবহার করে তার সুবিধা ভোগ করছে। তবে কিছু অংশে খনন কাজ অব্যাহত রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

বরেন্দ্রর সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, প্রতিটি পাতকুয়া মেশিনের মাধ্যমে ১শ’ থেকে ১৪০ ফুট খনন করা হয়। এরপর ওই খননকৃত কূপে ৪৬ ইঞ্চি ব্যাসের সিমেন্ট বালি ও ইটের খোয়া দ্বারা নির্মিত রিং বসানো হয়। কূপের উপরে লোহার এঙ্গেল দিয়ে নির্মিত ৩২ ফুট ব্যাসার্ধের একটি ঢাকনা স্থাপন করা হয়ে থাকে। এর পর কুয়া থেকে পানি উত্তোলনের জন্য ঢাকনার উপরিভাগে ২৫০ ওয়াটের ১৬ সোলার প্যানেল বসানো থাকে। এছাড়া ঢাকনাটি এমনভাবে বসানো হয়, যাতে করে বৃষ্টির পানি ঢাকনা চুয়ে কূপের মধ্যে পড়তে না পারে। যার ফলে সুফলভোগী ওই কৃষক কিষানীরা পানীয় জল সংগ্রহসহ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সোলারের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করে তাদের শাক সবিজতে দিতে পারে।