২৪ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কর্মকর্তার ঘুষের টাকা পরিশোধ করে দেনার দায়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে নিরীহ কর্মচারী

  • উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে

স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম ॥ জেলা তথ্য অফিসের অফিস সহকারী মোজাম্মেল জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার ঘুষের ৬ লাখ টাকা পরিশোধ করে নিজেই দেনার দায়ে ফেঁসে গেছেন। পাওনাদারের চাপে এখন পরিবার পরিজনসহ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ঘুষের টাকা ফেরত না পেলে আত্মহত্যার হুমকি দিচ্ছে সে। একেই বলে ‘উদোর পি-ি বুধোর ঘাড়ে’। জানা গেছে, এপি অপারেটর মিলন সরকারকে গাজীপুর জেলায় চাঁদাবাজির মামলায় ২০০৫ সালে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। গণযোগাযোগ অধিদফতরের মহাপরিচালক ২০১৮ সালে তার বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করে বিধিমোতাবেক বেতন প্রদানের নির্দেশ দেন। কিন্ত পনের বছরের বকেয়া বিল প্রায় ২৪ লাখ টাকা পরিশোধের কোন বাজেট প্রদান করা হয়নি। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী বাজেট বরাদ্দ ছাড়া কোন বকেয়া বিল পরিশোধ করা যায় না। কিন্ত কুড়িগ্রাম জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা কুড়িগ্রাম ৬ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে বাজেট বরাদ্দ ছাড়াই বিলটি পরিশোধের জন্য মিলন সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। ফলস্বরূপ গত ৪ ডিসেম্বর বরাদ্দ ছাড়াই বিলটি পাস করা হয়।

চুক্তি মোতাবেক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ৬ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন। মিলন সরকার বিল স্বাক্ষরের সময় সমুদয় টাকা ছাড়া স্বাক্ষরের অসম্মতি জানালে তথ্য অফিসে তোলপাড় শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে তথ্য অফিসার মোঃ শাহজাহান ওই ঘুষের ৬ লাখ টাকা ফেরত নিয়ে দেয়ার মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে অফিস শান্ত করেন। কিন্তু হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা তার ঘুষের অংশের ৬ লাখ টাকা ফেরত প্রদানে অস্বীকার করেন। বাধ্য হয়ে তথ্য অফিসার ৫ ডিসেম্বর তার নিজস্ব একাউন্ট থেকে অফিস সহকারীকে ৫ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন। অফিস সহকারী আরও এক লাখ টাকা জোগাড় করে মিলন সকারকে তার পাওনা টাকা পরিশোধ করে। অফিস সহকারী মোজাম্মেল মহাপরিচালককে বিষয়টি জানানোর জন্য তথ্য অফিসারকে বার বার অনুরোধ করলেও দুর্নীতি প্রকাশের ভয়ে তথ্য অফিসার বিষয়টি এখন পর্যন্ত মহাপরিচালককে জানাননি। তথ্য অফিসার মোঃ শাহজাহান নিজ টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন।

তিনি অফিস সহকারীকে চাকরির ভয় ভীতি দেখিয়ে হুমকি ধমকি দিয়ে নানা কৌশলে ৫ লাখ টাকা তুলে নেয়।