২১ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কর্পোরেশনকে স্বাবলম্বী করতে উপকর বিধিমালা দ্রুত দাবি

কর্পোরেশনকে স্বাবলম্বী করতে উপকর বিধিমালা দ্রুত দাবি
  • পৌরকর মেলা উদ্বোধনীতে মেয়র সাঈদ খোকন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশিত সিটি কর্পোরেশনের সীমানা থেকে আদায়কৃত সরকারের রাজস্বের ওপর সিটি কর্পোরেশনকে উপকর প্রদানের জন্য বিধিমালাটি দ্রুত প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। নগরের সার্বিক উন্নয়নে ও সিটি কর্পোরেশনকে স্বাবলম্বী করতে প্রধানমন্ত্রী অর্থ মন্ত্রণালয়কে এ আদেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারলে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনসহ দেশের ১১ টি সিটি কর্পোরেশনই লাভবান হবে ও স্বাবলম্বী হয়ে নগর উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে জানিয়েছেন মেয়র। বুধবার সকালে নগর ভবনের মেয়র মোহাম্মদ হানিফ অডিটরিয়ামে শুরু হওয়া ১২ দিনব্যাপী পৌরকর মেলা ২০১৯-এর উদ্বোধনকালে মেয়র এসব কথা বলেন। ডিএসসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদার, বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলরবৃন্দ রাজস্ব আয় বাড়াতে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। এ সময় বিকাশ এবং ডিবিবিএল’র উর্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। মেলা সরকারী ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিনই সকল পৌরকর প্রদানকারীর জন্য খোলা থাকবে। একই সঙ্গে মেলায় এসে কর পরিশোধ করলে সারচার্জ ফি মওকুফসহ নানা সুবিধা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে ডিএসসিসি।

মেয়র বলেন, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় সরকার যেসব কর আদায় করছে সেখান থেকে সিটি কর্পোরেশনকে উপকর প্রদান করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী নিজে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক ও আমাকে সিটি কর্পোরেশনকে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করতে এই উপকর প্রদানের বিধিমালা জারিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় যে, আমরা পরবর্তীতে দুই মেয়র একসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত বিষয়টির সমাধান হয়নি, যা অপ্রত্যাশিত বটে। দেশের সকল সিটি কর্পোরেশনের কথা বিবেচনা করে বিধিমালাটি প্রণয়ন করতে অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকায় উপকর আরোপ সংক্রান্ত যে আইন রয়েছে সেটি বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ থাকার পরও শুধু আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে তা আজও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এ সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা ও আইনটি অতিদ্রুত কার্যকর করতে হবে। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকায় উপকর আরোপ সংক্রান্ত যে আইন রয়েছে সেটি বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বা সরকারের ওপর আর কত চেয়ে থাকব। এবার নিজের অর্থেই নগরের উন্নয়ন করতে চাই।

গত চার বছরে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে ব্যাখ্যা করে মেয়র বলেন, আমি দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব নেয়ার ১০ দিনের মাথায় বকেয়া বিদ্যুত বিলের কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্নের উপক্রম হয়েছিল। আজ নগরীর ছোট-বড় প্রতিটি এমনকি ৩ থেকে ৪ ফুট গলিতেও এলইডি বাতি জ্বলে। ৩০/৪০ বছর যাবত যেখানে আলো জ্বলত না সেখানেও এখন রাতের বাতি জ্বলে। আমরা শতকরা প্রায় ৯৯ ভাগ এলাকার রাস্তায় বাতি জ্বালিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি। আগের ভাঙ্গাচোড়া সকল রাস্তা সংস্কার করে বর্তমানে প্রায় ৮৫ ভাগ রাস্তা চলাচলের উপযোগী করেছি। জলসবুজে ঢাকা প্রকল্পের মাধ্যমে মাঠ ও পার্কগুলো বদলে যেতে শুরু করেছে। যার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আজ আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি ঢাকা দক্ষিণ সিটির ইতিবাচক পরিবর্তন করতে পেরেছি। আমরা উন্নয়ন কর্মকা- করে সবাইকে নিয়ে বদলে দিতে চাই এই শহরকে।

সাঈদ খোকন বলেন, নগরীর আয়তন বেড়েছে। বাড়েনি জনবল। আমরা যে পরিমাণ আয় করি তার চারগুণ উন্নয়ন ব্যয় হয়। সুতরাং আমাদের আর্থিক দিকটিও বাড়াতে হবে। নতুন করে আরও সীমানা বাড়লেও আমাদের উভয় সিটির সেবা প্রদানকারী সংস্থার সক্ষমতা সেভাবে বাড়েনি। এভাবে চলতে পারে না। তাই আমরা প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বাড়াতে চাই।

মেয়র বলেন, সিটি কর্পোরেশন আইন ২০০৯ অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনগুলো তার এলাকায় সরকারের অর্জিত আয়ের ওপর উপকর আরোপ করতে পারবে। যা সুস্পষ্টভাবে আইনে লেখা রয়েছে। কিন্তু এটি বাস্তবায়নের জন্য একটি বিধিমালা প্রণয়ন করলেও বাস্তবায়ন করা সম্ভব। আইনটি যদি বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে সিটি কর্পোরেশনের চলমান আর্থিক দুর্দশা কেটে যাবে। শুধু বিধিমালা প্রণয়ন না করার কারণে এখনও আইনটির সঠিক বাস্তবায়ন করা যায়নি। পৌরকর মেলা সম্পর্কে মেয়র বলেন, আজ থেকে অনলাইনে হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদান কার্যক্রম শুরু হলো। এর ফলে যে কোন নাগরিক ঘরে বসেই তার সকল প্রকার ট্যাক্স প্রদান করতে পারবেন। এমনকি যে কোন অভিযোগও প্রদান করতে পারবেন। একই সঙ্গে অনলাইনে অভিযোগের সমাধান করা হবে।