১৯ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শ্রীলঙ্কায় হামলা ও নুসরাত হত্যা নিয়ে সংসদে আলোচনার দাবি

সংসদ রিপোর্টার ॥ শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বোমা হামলা এবং সম্প্রতি ফেনীতে পুড়িয়ে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত হত্যাকাণ্ডসহ সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে জাতীয় সংসদে একটি সাধারণ আলোচনার দাবি জানিয়েছেন সরকার ও বিরোধী দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। তারা বলেন, সম্প্রতি ধর্মের নামে প্রতিহিংসার আগুনে সারা দুনিয়া জ্বলছে। মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতকে বর্বরোচিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। জঙ্গী-সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাংলাদেশ এখনও নিরাপদ নয়। দেশের বিভিন্নস্থানে কিছু সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্রও দেখা যাচ্ছে। এসব নিয়ে সংসদে সাধারণ আলোচনা হওয়া উচিত।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার রাতে পয়েন্ট অব অর্ডারে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এ দাবি জানান। প্রথমে ফ্লোর নিয়ে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তার বক্তব্যে সমর্থন করে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, জাসদের মইন উদ্দীন খান বাদল, জাতীয় পার্টির ডাঃ রুস্তম আলী ফরাজী, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর এবং গণফোরামের মোকাব্বির খান। তবে সভাপতির আসনে থাকা স্পীকার এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত জানাননি।

পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সংসদ হচ্ছে সমস্ত আশা আকাক্সক্ষার মূর্ত প্রতীক। সমস্ত জনগণের প্রাণের স্পন্দন এই সংসদ। গত দুই মাসে দেশে-বিদেশে অনেক ঘটনা ঘটেছে। হিংসা-প্রতিহিংসায় রক্তাক্ত হয়েছে মসজিদ, মন্দির, গীর্জা। একজন মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত প্রতিহিংসার আগুনে ছাড়খার হয়ে গেল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মমতাময়ী হাত নুসরাতকে রক্ষা করতে পারেনি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সব কিছুকে হারিয়েছেন। জায়ান চৌধুরীর ছবি দেখলে মানুষের মন কেঁদে ওঠে। সবাই কেঁদেছে। নিষ্পাপ এই শিশুটি বিদেশে নিহত হলো জঙ্গী হামলার মধ্য দিয়ে। জায়ানের ছবি দেখে মনে হয়ে ১৫ আগস্টের নিষ্পাপ রাসেলের কথা। এ বিষয়গুলো নিয়ে প্রতিহিংসার আগুনে সারা দুনিয়া জ্বলছে। ধর্মের নামে হত্যা করছে। আমি নোটিস দিয়েছি এ ব্যাপারে সংসদে সাধারণ আলোচনা হওয়া উচিত। আমাদের সবারই কথা আছে।

মোহাম্মদ নাসিমের উত্থাপিত প্রস্তাব সমর্থন করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, শিশু জায়ানের মৃত্যু গোটা দেশের মানুষকে ব্যথিত করেছে। অনেকেই চোখের পানি রাখতে পারেননি। কী নিষ্পাপ, ফুটফুটে শিশু। শোক প্রকাশ করার ভাষা আমাদের জানা নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটা শান্তির দেশে পরিণত হয়েছে। কিন্তু নুসরাত হত্যাকা- সমগ্র বাঙালী জাতির হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে। একজন ছাড়া সব অপরাধী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননও মোহাম্মদ নাসিমের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, নুসরাতের ঘটনা সাধারণভাবে দেখলে চলবে না। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নির্যাতন বন্ধে কমিটি গঠন করতে হবে।

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ফ্লোর নিয়ে বলেন, বাংলাদেশ অনেকটা নিরাপদ অনেকেই বলার চেষ্টা করেন। জঙ্গী-সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাংলাদেশ এখনও নিরাপদ নয়। ধর্মের মুখোশধারী ধর্ম ব্যবসায়ীরা ক্রমাগত নারী-সংখ্যালঘু ও বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে নানা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। তেঁতুল তত্ত্ব ও জঙ্গী-রাজাকার তত্ত্বের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়তে হবে।

জাসদের মইন উদ্দীন খান বাদল বলেন, সংসদে সত্যিকার ইস্যুগুলো আলোচনা না হয়, তবে অন্য কিছু করে লাভ হবে না। দেশের সবচেয়ে কলঙ্কের ঘটনা হচ্ছে ঋণখেলাপী। ঋণখেলাপীরা হচ্ছে জাতীয় পকেটমার। এসব ইস্যুতেও সংসদে আলোচনা হতে হবে।