২০ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ববি’র প্রশাসনিক পদ থেকে শিক্ষকসহ ৫০ জনের পদত্যাগ

  ববি’র প্রশাসনিক পদ থেকে শিক্ষকসহ ৫০ জনের পদত্যাগ

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ ববি’র উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০জন শিক্ষক ও কর্মকর্তা তাদের প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষনা করেছেন। বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির জরুরি সভা শেষে এ ঘোষনা দেয়া হয়েছে।

পদত্যাগের ঘোষনা দেয়াদের মধ্যে বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, টিএসসি’র পরিচালক, প্রক্টর, প্রভোষ্ট, লাইব্রেরীয়ান ও পরিবহন পুলের ম্যানেজার রয়েছেন। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু জাফর মিয়া জানান, ভিসি’র অপসারনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা টানা একমাস আন্দোলনের পর বুধবার থেকে আমরণ অনশন শুরু করেছেন। তাই এই মুহুর্তে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক হিসেবে আমাদের কি করনিয় থাকতে পারে সে বিষয়টি নিয়ে আমরা শিক্ষক সমিতি জরুরি সভা করেছি।

সভার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক ও কর্মকর্তারা সর্বসম্মতিক্রমে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সে অনুযায়ী ভিসি’র পদত্যাগের দাবিতে সভা শেষে ৫০ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তা তাদের প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষনা করেছেন। সামনে এর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, ভিসি’র অপসারনের জন্য আমরা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। এরমধ্যে ভিসিকে অপসারন না করায় শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষকরাও আমরণ অনশনে যোগ দিবেন বলেও জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সে অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শিক্ষার্থীদের সাথে অনশন কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি কায়ছার আহম্মেদ জয়, সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়াসহ অন্যান্য শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেছেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম জানান, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ অনশন কর্মসূচি চলবে। তিনি বলেন, কয়েকজন শিক্ষার্থীকে এরইমধ্যে স্যালাইন দিতে হয়েছে, তবে দাবি আদায়ের অনড় মনোবল নিয়ে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা বেশির ভাগ শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক অবস্থাতে রয়েছে।

শিক্ষার্থী তনুশ্রী ভট্টাচার্য বলেন, গত ২৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের এক মাস পূর্ণ করে আমরা আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন শুরু করেছি। ভিসির অপসারণ নয়তো পূর্ণ মেয়াদে ছুটিতে যাওয়ার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি কায়ছার আহম্মেদ জয় বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির প্রতি সম্মতি জানিয়ে তারাও শিক্ষার্থীদের সাথে অনশন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি আরও বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ভিসি বলেছিলেন ৫ শতাংশ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আন্দোলনে যোগদান করেনি। তাই তিনি শিক্ষার্থীদের ক্লাসে যাওয়ার আহবান জানালেন কোনো শিক্ষার্থী ক্লাসে যাওয়ার জন্য আসেননি। তাহলে সত্য কি দাঁড়ালো। ভিসি চাতুরতার সাথে আমাদের সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন কিন্তু প্রকৃত বিষয় হলো, তিনি নিজেই বিভ্রান্তি সৃষ্টি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামাতে বাধ্য করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া জানান, শিক্ষক সমিতির আহবানে সারাদিয়ে এ পর্যন্ত ৫০ জন শিক্ষক তাদের স্ব-স্ব প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়ে সম্মতি জ্ঞাপন করেছন। যারা এরইমধ্যে তাদের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।