২৪ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জ্বালানি খাতে অংশীদারিত্ব

বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ যখন বিদেশী বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ ও উত্তম একটি স্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তিনদিনব্যাপী ব্রুনাই সফর সবিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ও গুরুত্ববহ হয়ে উঠেছে। তিনদিনের ব্যতিব্যস্ত সফরে প্রধানমন্ত্রী সে দেশের সুলতান হাজী হাসনান বলকিয়াসহ যুবরাজ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাত করেন। উল্লেখ্য, ব্রুনাই একটি ছোট দ্বীপরাষ্ট্র হলেও তেল-গ্যাস ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ বিশ্বের অন্যতম একটি ধনী দেশ। সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশীর সংখ্যাও কম নয়, প্রায় ২০ হাজার। প্রধানমন্ত্রী সে দেশে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ দূতাবাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং প্রবাসীদের সুখ-দুঃখে সর্বদাই তাদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এর বাইরেও প্রধানমন্ত্রী ব্রুনাই ও বাংলাদেশের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করে দেশে বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, এই সফরে বাংলাদেশ ও ব্রুনাইয়ের মধ্যে সাতটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যেগুলোর মধ্যে একটি বিনিময় নোট। এগুলো হলো কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সহযোগিতা, মৎস্য ও পশুসম্পদ উন্নয়ন, যুব, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সর্বোপরি কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল ক্ষেত্রে পাসপোর্টধারীদের ভিসা ছাড়া ভ্রমণ বিনিময় নোট। তবে সব কিছু ছাপিয়ে যে বিষয়টি অগ্রাধিকার পেয়েছে তা হলো বাংলাদেশের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার যোগান দিতে জ্বালানি খাতে সমন্বিত অংশীদারিত্ব বিষয়ক মতৈক্য। বাংলাদেশ ও ব্রুনাই এক যৌথ বিবৃতিতে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহসহ সরকার টু সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় জ্বালানি খাতে সমন্বিত সহযোগিতার অমিত সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সম্মত হয়েছে। পেট্রোকেমিক্যাল, সমুদ্রে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান, কারিগরি সহযোগিতা ও সক্ষমতা উন্নয়নের মতো খাতে দুই দেশ সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে একযোগে কাজ করবে। স্বীকার করতে হবে যে, বাংলাদেশের জন্য এটি একটি বড় প্রাপ্তি। এর বাইরেও মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দানের জন্য বাংলাদেশকে মানবিক সহায়তা প্রদানসহ তাদের প্রত্যাবাসন উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ব্রুনাই।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য পাঁচটি দেশের সমন্বয়ে একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ফোরাম গঠনের প্রস্তাবটিও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রস্তাবিত আঞ্চলিক ফোরামের নাম দক্ষিণ, পূর্ব-এশিয়া কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (সিয়াকো) সদস্য হতে পারে দক্ষিণ এশিয়া থেকে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাই। উল্লেখ্য, মুসলমান জনসংখ্যা অধ্যুষিত প্রতিটি দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। অনেকটা আসিয়ানের মতো এই অর্থনৈতিক ফোরাম সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সার্বিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে ফলপ্রসূ অবদান রাখতে পারে। বিশ্বায়নের প্রেক্ষাপটে এটি একটি চমৎকার প্রস্তাব হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যাতে অনুকূল মনোভাব পোষণ করেছেন ব্রুনাইয়ের সুলতান। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে সময় এখন দক্ষিণ এশিয়ার। কিছু সময় লাগলেও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ফোরাম গঠনের প্রস্তাবটি বাস্তবসম্মত ও প্রাগ্রসর চিন্তার ফসল হিসেবে বিবেচিত হবে আগামীতে।